আজ আব্বার ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী । ২০১১ সালের ২৪শে এপ্রিল তারিখে সকাল ৭.৩০ আমাদের ছেড়ে না আসার দেশে পারি দিয়েছে। যার যার আব্বার তার তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠ। তবে আমার শুধু আমার কাছে নয় অনেকের কাছে শ্রেষ্ঠ। সে সবাইকে চমকিয়ে দিত পারত। তাঁর যে কোন কাজ সবাইকে অবাক করে দিত। সে একসময় কবিতা লেখত, সুন্দর কবিতা আবৃতি করতে পারত, গল্প লেখত, অনেক গল্প করতে পারত, ক্রিকেট দারুণ খেলত।
আমার আব্বার নাম আবদুর রউফ সরকার। তিনি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ছিলেন। তাঁর আরেক পরিচয় তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদ শিল্পী ছিলেন। তাঁর জন্ম ভারতের দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। তাঁর বাবার নাম ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী ব্রিটিশ আমলের কংগ্রেস নেতা ডাঃ খরসেদ আলী সরকার আর মায়ের নাম ব্রিটিশ আমলের মুসলিম লীগে নেত্রী সালমা খাতুন। আমাদের বাড়িতে ব্রিটিশ আমলে নির্বাচনের দুটি ক্যাম্প বসেছিল। আমাদের পূর্বপুরুষের কাহিনী আপনারা আমার মেজবাবু আর আব্বার মেজদা কথা সাহিত্যিক শওকত আলীর তিন বিখ্যাত উপন্যাস ‘দলিল’,’বসত’ আর ‘ওয়ারিশ’ পড়ে জানতে পারেন।
আব্বা খুব ছোটবেলায় মাকে হারান। তাই মায়ের আদর পাননি। তাই পরে অনেককে মা বলে ডাকতেন। আমার খালাতো বোন উল্কা আপু, আমার খালাতো ভাই ইউসুফ ভাইয়ের বউ সালমা ভাবিকে আর নুপুর আপু। তবে তারা সবাই জীবনে কষ্ট পেয়েছে তাই আব্বা শেষের দিকে আর মা বলে ডাকত না। আমাকে ছোটবেলা থেকে আব্বা বলে ডাকত। যেমন মেজবাবুও ডাকে। যাই হোক আমি অনেক দিন আব্বা ডাক শুনি না। আব্বা মারা গেছেন আর মেজবাবুর সাথে অনেকদিন দেখা নেই।
আব্বা সবাইকে খুব ভালবাসতে। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশকে। তাই অনেক দেশ যেয়েও সে সেখানে থাকেনি। তিনি রাজনীতি বুঝলেও কোন দলের দালালি করেননি। আমার কারণে বি এন পিকে ভোট দিয়েছেন ।
তাঁর বিরাট বন্ধু বাহিনী ছিল। তাঁর ভক্তের অভাব ছিল না। ১৯৯৬ সালে আমি এস এস সি পাস করেছিলাম। তিনি সেই খুশিতে কত হাজার টাকার মিষ্টি মানুষকে খাইয়েছিলেন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে মাত্র ৩১২ টাকার মিষ্টি আমার অফিসে কলিগদের খাইয়ে তাদের দোয়া করতে বলেছি। আপনাদের কিছু খাওয়াতে পারলাম না। তবু সে ভাল মানুষটার দোয়া করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



