somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তবতায় জীবনঃ

০২ রা মার্চ, ২০১৪ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ দুপুরের আকাশটা বেশ গম্ভীর। বাতাসের অপারগতায় গাছের পাতা গুলো নড়ছে না। তুহিন তার পড়ার রুমের ঘুণে ধরা জানালাটায় দাঁড়িয়ে গত তিনটি বছরের কথা ভাবছে। তিনটি বছরে তার জীবনে কি হয়ে গেল?

এখনো মনে হয় চোখের সামনে ভাসছে দিনটি। তুহিন আর তার বাবা রফিক আহমেদ দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। খুব গরম পরেছে, যেন মাথার উপরের সিলিং ফ্যানটাও আর জোরে ঘুরতে পারছে না। পাশে রুমে তুহিনের মা ছোট বোনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে। কি মনে করে তুহিন আজ প্রথমবারের মত তার বাবার প্লেটে ডিম ভাজি তুলে দিল। ডিম ভাজির সাথে মসুর ডাল তুহিনের বাবার খুব পছন্দের খাবার।

হটাৎ করে রফিক আহমেদ আনমনে বলে উঠলেন- "আমি আর পারছি না"।
তুহিন বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলেন বাবা নিস্তব্ধে কাঁদছেন।
কি হয়েছে বাবা?
রফিক আহমেদ চুপ করে খাচ্ছেন।
তুহিন আবার জানতে চায়- "বাবা তোমার কি শরীর খারাপ"?
রফিক আহমেদ আবার বলে ওঠেন- "বাবা আমি আর পারছি না। আমি..."।

রফিক আহমেদ আর বেশি কিছু বলতে পারেনি সেদিন। তবে তুহিন বুঝেছে বাবার অবস্থা। গত এক বছর ধরে তাদের একটার পর একটা সমস্যা লেগেই আছে। বড় বোনের বিয়ের সময় দোকানের উপর লোণ করা হয়েছিল। এদিকে রফিক আহমেদের ব্যবসার আবস্থা এমন যে দু'বেলা খাবার জোটাতেও হিমশিম।

তুহিন পলিটেকনিকে ২য় বর্ষের ছাত্র। বাবার হাত শক্ত করে ধরতে সে বেছে নেয় উপার্জনের পথ। বাবা-মাকে না জানিয়ে একটা ইলেকট্রিক দোকানে কাজ শুরু করে। প্রথম দুইমাস দিনে ৪ ঘণ্টা কাজ করে পকেট খরচ চালায়। এক সময় কলেজে যাওয়া অফ করে দেয় তুহিন, সারা দিন সময় দেয় ইলেকট্রিক দোকানে। রফিক আহমেদ সব বুঝতে পারলেও কিছু করার থাকে না তার।

দিন রাত দোকানে কাজ করায় বিভিন্ন জঠিলতা সৃষ্টি হয় তুহিনের আর স্বর্ণার মাঝে। স্বর্ণাকে ফোন দিতে গেলেও তুহিনের মনে বাঁধে, এই ১০ টাকাই হয়তো পরিবারের জন্য অনেক কিছু। কষ্টের মাঝে নতুন কষ্টের আঁচরে সে এখন আবেগহীন। সারা দিন পরিশ্রম করে তুহিন আর এখন স্বর্ণারকে নিয়ে ভাবার সময় পায় না। ক্লান্ত শরীরে রাতের ঘুমটাই যেন তার একটু সুখ।

লোনের টাকা শোধ করতে রফিক আহমেদ এক সময় তার দোকানের অর্ধেকটা বিক্রি করে দেয়। বাবা আর তুহিনের উপার্জনে এখন তাদের এক রকম দিন কেটে যাচ্ছে...।

আজ তুহিন তার জীবনের গত তিনটি বছরের পাওয়া আর না পাওয়ার হিসাব দেখছে।
- পড়ার টেবিল ফেলে এখন সে ইলেকট্রিক দোকানে, বাবার প্লেটে সেদিন ডিম ভাজি তুলে দিয়ে আর এক সাথে খাবার সময় হয়নি, জীবনের রং খুঁজতে কখনো বিকেলের ফাঁকা রাস্তায় হাঁটা হয়নি, স্বর্ণারা সাথে সম্পর্কের শেষটা মেলেনি, আজ সে এসে দাঁড়িয়েছে ঘুণে ধরা তার জানালায়।

... সব শেষেও এখন তারা হয়তো আগের থেকে কোন দিক দিয়ে ভালো আছে।

জীবনের কোন এক সময় 'জীবন' নিজেই তাকে পরিচালনা করতে শুরু করে। তখন তুহিন আর রফিক আহমেদের মতো সবাই পুতুল হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×