somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুটঘুটে অন্ধকার

২০ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের ঘরে শান্তিমতো ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার ঘরটা ছোট। গোছানো, কেমন স্নিগ্ধ একটা ভাব আছে। রাত বোধহয় তিনটার মতো বাজে। হঠাৎ ঘরটা শীতল হতে শুরু করে। সামারে কাঁথা পাবো কোথায় ! কিছুটা বিরক্তবোধ করি, কিছুটা আশ্চর্য হই। কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে থাকি সাপের মতো। ঘুম ভেঙ্গেছে খানিকক্ষণ হলো। বোধহয় তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায়।

আব্বা আম্মা বাসায় নাই। কাছের আত্মীয় অসুস্থ। তাকে দেখতে গিয়ে দেরি হয়ে যাওয়ায় সেখানেই থেকে গেছে। বাসায় যে আমি একা, মনে পড়ে যাওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিবোধ করি। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি সেটাতে চার্জ নাই। গভীর রাত পর্যন্ত অহনার সাথে দুষ্টুমিষ্ট কথা হয়েছে। মেয়েটাও যেন কেমন! মুখে কিছু বলতে বাধেনা ! আমারই কান টান গরম হয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছিলো।

বিছানা থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খাবো কিনা ভাবছি, এমন সময় রাস্তা থেকে না চেনা কিছু আওয়াজ আসছিলো। ডাইনিং পর্যন্ত যাবার পর সেটা স্পষ্ট কানে আসতে থাকে। আমার হার্টবিট বেড়ে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে রাস্তায় তাকিয়ে দেখি শত শত সাদা পাঞ্জাবি পড়া মানুষ চারজনের দল করে একেকটা কফিন নিয়ে যাচ্ছে। তারা কোনোদিকে তাকাচ্ছেনা। চাঁদের আলোয় পুরো বিষয়টাকে অপার্থিব, অবাস্তব মনে হচ্ছিলো।
কিছুক্ষণ এই দৃশ্য দেখে অসুস্থবোধ করতে থাকি। বাথরুমে গিয়ে ভালো করে চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে আসি। পুরো বাড়ি এখনো আজগুবি ধরণের শীতল হয়ে আছে। ঘরে লুকিয়ে রাখা ভ্যাট সিক্সটিনাইনের বোতল থেকে বুদ্ধি করে কয়েক চুমুক মাধুকরী তরল খাই। কিছুটা সুস্থবোধ করতে থাকি। ডাইনিং রুম হয়ে কিচেনে যাবার জন্য পা বাড়াতেই আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার যোগাড় হলো।

পনেরো ষোলটার মতো মুরগি ডাইনিং টেবিলে দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টা যে কি ভীষণ অস্বাভাবিক বলে বোঝাতে পারবোনা। তারা নড়াচড়া করছেনা। এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন বোঝার চেষ্টা করছে। আমি ছোটবেলার ধর্ম বইতে পড়েছিলাম কিছু সুরা মনে করার চেষ্টা করতে থাকি। একবার মনে হলো, দৌড়ে ছুটে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই।
আব্বা আম্মা বাসার দায়িত্ব দিয়ে গেছে, তাই বা করি কি করে ! তরকারি কাটার ছুরি নিয়ে কিচেন থেকে বের হই। না, টেবিলে সেই মুরগিগুলো আর নাই। নিজের উপর বিশ্বাস ফিরে আসতে থাকে। ডাইনিং পেরিয়ে ঘরে ঢুকে দেখি, প্রকান্ড একটা শয়তানের মুখোশ পূর্ব দিকে দেয়ালে লেপ্টে আছে। সেটা জীবন্ত এবং আমাকে ঢুকতে দেখেই আশ্চর্য শান্ত গলায় নিজের পরিচয় দিলো, "আমি তোর মৃত্যু। আমাকে ভয় পাবার কিছু নাই।"
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। মরণের আগে বীভৎস দেখতে এই জীবন্ত মুখোশ আমাকে কয়েক ঢোক পানি খেতে দিবে কিনা কে জানে ! বোধহয় আমার মনের কথা জিজ্ঞেস করে সে বললো, "শেষবারের মতো সামান্য মদ খেয়ে নিতে পারিস। তোর আত্মাকে নিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দিবো। পথে ভালোমন্দ খেতে পাবিনা।" এই পর্যায়ে আমার মনে হলো আমি সত্য সত্য স্বপ্ন দেখছি। জোরে একটা গগনবিদারি চিৎকার দেবার পর আমার আর কিছু মনে নাই।

পরের দিন দুপুর বারোটার দিকে আব্বা আম্মা প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে দরজা ভাঙে। আমার ঘরে তখন প্রবেশ করেছে বাঁধভাঙ্গা সূর্যের আলো। আত্মা ছাড়া আমার নিথর শরীরটা পড়ে আছে। মুখে রাজ্যের আতঙ্ক, হতাশা অবিশ্বাস। আমি বোধহয় আর কিছুদিন বাঁচতে চেয়েছিলাম। অবশ্য কে না চায় ! আম্মার কোলে তারপর আমার প্রাণহীন শরীরটা শুয়ে ছিলো। বহুদূর থেকে আত্মা হয়ে উড়ে চলবার কারণে জন্মদাত্রীকে বলতে পারছিলাম না, কতো বিচিত্র বিস্ময় দেখে চলেছি। আরো কতো বিচিত্র বিস্ময় সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গের নন্দনকাননের শ্বেতশুভ্র ফুল কুর্চি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২২ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৫:১৭


কুর্চি
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : কুরচি, কুড়চী, কূটজ, কোটী, ইন্দ্রযব, ইন্দ্রজৌ, বৎসক, বৃক্ষক, কলিঙ্গ, প্রাবৃষ্য, শক্রিভুরুহ, শত্রুপাদপ, সংগ্রাহী, পান্ডুরদ্রুম, মহাগন্ধ, মল্লিকাপুষ্প, গিরিমল্লিকা।
Common Name : Bitter Oleander, Easter Tree, Connessi Bark,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচলের (সচলায়তন ব্লগ ) অচল হয়ে যাওয়াটই স্বাভাবিক

লিখেছেন সোনাগাজী, ২২ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬



যেকোন ব্লগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর, একটি ভয়ংকর খারাপ খবর; ইহা দেশের লেখকদের অদক্ষতা, অপ্রয়োজনীয় ও নীচু মানের লেখার সরাসরি প্রমাণ।

সচল নাকি অচল হয়ে গেছে; এতে সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হরিপ্রভা তাকেদা! প্রায় ভুলে যাওয়া এক অভিযাত্রীর নাম।

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৩


১৯৪৩ সাল, চলছে মানব সভ্যতার ইতিহাসের ভয়াবহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। টোকিও শহর নিস্তব্ধ। যে কোন সময়ে বিমান আক্রমনের সাইরেন, বোমা হামলা। তার মাঝে মাথায় হেলমেট সহ এক বাঙালী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছেলেবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনারই মেরেছে এমপি আনারকে।

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ২২ শে মে, ২০২৪ রাত ১০:৪৮


ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল তারই ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীন!

এই হত্যার পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আরেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাকা ভাংতি করার মেশিন দরকার

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৩ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:১০

চলুন আজকে একটা সমস্যার কথা বলি৷ একটা সময় মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ছিল৷ চাইলেই টাকা ভাংতি পাওয়া যেতো৷ এখন কেউ টাকা ভাংতি দিতে চায়না৷ কারো হাতে অনেক খুচরা টাকা দেখছেন৷ তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×