ভারতের পুনেতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রীতিমত ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে। সাহাকারনগরে সুমান বিহার অ্যাপার্টমেন্টে যে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে তার তদন্তে দেখা যাচ্ছে ওই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী নিজেই এর সাথে জড়িত। অবশ্য তিনি নেশাগ্রস্ত বা মানসিক বিকারগ্রস্ত নন। দায়ে পড়েই কাজটি করেছেন। ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ডাকাত ভাড়া করে নিজের বাড়ি ডাকাতি করেছেন। ঋণ শোধ করতে স্ত্রী অলঙ্কার বেচতে রাজি না হওয়ায় এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ওই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী সুরেশের স্ত্রী রাজেশ্বরী সেদিন বাসায় একা ছিলেন। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তার বাসায় ঢোকে। এরপরই তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। ডাকাতরা প্রায় দুই লাখ রুপি মূল্যমানের স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ডাকাতরা হল- আমবেগাঁও বুদরুকের শচিন কাশিনাথ (৩১) ও ধানকাবদির কিরণ কৃষ্ণ (২৩)। পুলিশ সুরেশকেও গ্রেফতার করেছে। সে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রেসে কাজ করে।
অপরাধ শাখার পুলিশ ইন্সপেক্টর সুরেশ কেকানি জানান, ডাকাতদের ব্যবহৃত মটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে তারা ওই দুই ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজের বাড়িতে এ ডাকাতির সব পরিকল্পনা সুরেশ নিজেই করেছে বলে জানায়।
সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বাজিরাও ভোশাল জানান, আড়াই লাখ রুপি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে সুরেশ এ কাজ করে। বিয়ের সময় সে এ ঋণ করেছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঋণ শোধ করতে স্ত্রীকে তার কিছু স্বর্ণালঙ্কার বেচে দিতে অনুরোধ করেন সুরেশ। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরও স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করায় বাধ্য হয়ে তিনি এ কাজ করেন। যদি কার্যোদ্ধার হয় তাহলে দুই ডাকাতকে ১০ হাজার রুপি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
ইন্সপেক্টর ভোশাল বলেন, ৫০গ্রাম ওজনের স্বর্ণ চুরি করার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা। তবে পুলিশ মাত্র ২০গ্রাম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


