

৩১ মে সকাল নটায় আমরা রওনা দিলাম ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার দুর্গম পাহাড়ি নদী শ্রীখোলার উদ্দেশ্যে । যে নদীটা আবার সান্দাকফুর বরফ গলা জলে পুষ্ট । নেপালি ভাষায় খোলা কথার অর্থ নদী । কাজেই হিমালয়ের এদিকটাতে সব নদীকে স্থানীয়রা খোলা বলে । যাইহোক গতকাল যে সুখিয়া বাজারে এসেছিলাম, তার উপর দিয়ে ডানদিকে মানেভজ্ঞং এর রাস্তা ধরে আমাদের দুটি গাড়ি চলতে লাগলো । পথে যেতে যেতে SSB বর্ডার অতিক্রম করে আরও কিছুটা এগিয়ে মানেভজ্ঞংএ চলে এলাম । অদ্ভূত সুন্দর একটি জায়গা । দুদিকে রাস্তা আর মাঝখানে একটি সিঁড়ি , যে সিঁড়িটির মুখে লেখা আছে ' ওয়েলকাম টু নেপাল '। কাজেই মনে অজান্তেই শিহরন জেগে উঠলো । আমি ছোট থেকে ভারত - বাংলাদেশের বর্ডার দেখে বড় হয়েছি । দেখেছি সীমান্ত রক্ষী হিসাবে বি এস এফের চোখরাঙানি । কিন্তু কি আশ্চর্য ! এখানে নেই কোনও বি এস এফ বা নেপাল সীমান্ত রক্ষী । হাতের কাছে এমন বিদেশ পেয়ে একটু ফালুক ফুলুক করে কয়েকটা সেল্ফি তুলে নিলাম । উল্লেখ্য এই নেপালিরা নাকি পশ্চিমবঙ্গের এই অংশ বা মানেভজ্ঞং থেকে বাজারও করে ।

বাকিদের একটু দূরে গাড়িতে দাঁড় করিয়ে রাখায় ও বৃষ্টি নামতেই ছুটে আবার গাড়িতে চলে এলাম । পথে যেতে য়েতে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠান দেখে আবার গাড়ি থামলো । মায়ের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণের কাজ । যেটা নাকি স্থানীয় সমাজ থেকে করা হয় । গোটা পাড়ার লোকজনকে এহেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখে ওদের অসম্ভব সংহতি বোধের পরিচয় পেলাম ।


গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো । অসম্ভব খারাপ রাস্তা । স্কর্পিওর পিছনে বসে আমার তখন নাগোরদোলার ন্যায় অবস্থা । পেটে ও কোমরে রীতিমতো ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে । এবার এজটি স্থানের মনোরম দৃশ্যে ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললাম । বাতাসিয়া ফরেস্ট , টুংলু । এখানে এক মহিলাকে দেখলাম জংলি মার্শরুম পরিষ্কার করতে । স্থানীয় ভাষায় নাম জিজ্ঞাসা করতেই, চিয়াও বলে উত্তর দিল । হিমালয়ের এদিকটাতে প্রচন্ড জোকের উপদ্রব থাকায় সকলে গামবুট পড়ে । আমাদেরও বিভিন্ন জায়গায় নিমক নিয়ে ঘুরতে বলা হয়েছিল ।


বাতাসিয়া ফরেস্টের কয়েকটি মেঘের ছবি ।


উল্লেখ্য বাতাসিয়ার একটি জায়গা টুংলু থেকে পর্বতারোহীরা সান্দাকুফে রওনা দেয় । আর ওরা নামে অন্য রাস্তা শ্রীখোলা দিয়ে । এই প্রসঙ্গটি পরের পর্বে আলোচনা করবো । যাইহোক মানেভজ্ঞং থেকে বাতাসিয়া, মোটের উপর উচ্চতা ২২০০ মিটারের মত । বাতাসিয়া ফরেস্টের পরে আমরা প্রবেশ করলাম সিঙ্গলীলা পর্বতে । রাস্তার শুরুতে বড় বড় হোর্ডিং । লেপার্ড , রেডপান্ডা, হিমালয়ান বিয়ার , অজস্র পাখি, চলন্ত গাড়ি থেকে আর বিশেষ পড়তে পারলাম না । ড্রাইভার আমাদের সকলকে জাতীয় অভয়ারণ্য হওয়ায় একটি গাছের পাতাতেও হাত না দেওয়ার পরামর্শ দিল । গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো । বাইরে তাপমাত্রা তখন নয় ডিগ্রি হবে । কিন্তু কথা শুনে মনে হল সেটা আরও নীচে নেমে গেছে । হাতপা সব শুকিয়ে গেল । এমন সময় পাহাড়ের দুদিকে রঙ বেরঙের ফুল দেখে আবার যেন একটু স্বস্তি পেলাম ।














এদিকে বার বার নেমে ছবি তোলাতে আমাদের দলের বাচ্চারা খুব বিরক্ত হচ্ছিল । আমরা তখন প্রায় পাঁচ ঘন্টার উপর জার্নি করছি। কাছের শুকনো খাবার আর কেউ খেতে চাইছে না । কাজেই আর দেরিনা করে চলা শুরু করলাম । পথে আরও একটি খরস্রোতা নদী পড়লো । ড্রাইভার নাম বললো, মোমোখোলা । বাচ্চাদের স্থানীয় দোকান থেকে চকোলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আবার নেমে কয়েকটি ছবি নিলাম ।


মোমোখোলা পার হতেই রাস্তার পাশে স্কোয়াশ চাষ।

এদিকে মধ্যপ্রদেশে তখন প্রচন্ড টান দিয়েছে , বাচ্চাদের অবস্থা আরও খারাপ । মোমোখোলার পরে বেশ কিছুটা আবার পিচের রাস্তা পেলাম। ড্রাইভার বললো, এখনোও একঘন্টার রাস্তা বাকি । আমরা অনেকে তখন ঝিমোতে লাগলাম । অবশেষে ঠিক আড়াইটাতে আমরা শ্রীখোলাতে আমাদের নির্দিষ্ট হোটেলে পৌছালাম । আগামী দুিন হোটেল শোভরাজ হল আমাদের ঠিকানা ।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

