somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পদাতিক চৌধুরি
আমি আমার নিরক্ষর কিন্তু বুদ্ধিমতী মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধী

হাবোল নামের ছেলেটি ( শেষ পর্ব - রম্য )

১৭ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নুতন শ্বশুরগৃহে প্রথমদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রহিমা হাবোলকে বেসিনের পাশে রাখা ব্রাসদানি থেকে নুতন একটি ব্রাসে পেস্ট লাগিয়ে সঙ্গে একটি নুতন গামছা নিয়ে হাবোলের দিকে ধরতে , বাধ্য ছেলের মত হাবোল সেগুলি নিয়ে পাশের বড় বাথরুমে ঢুকলো। বাথরুমে ঢুকে হাবোলতো অবাক! কী সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি ঘর, যেন নিজের মুখ দেখা যায় । সে বাথরুমের টাইলসের পাশে গিয়ে আয়নার মত নিজেকে দেখতে লাগলো । আসলে রহিমার মা ফুলজানবিবি অত্যন্ত নিটপিটে মানুষ । জামাই আসবে জেনে আগেভাগে গোটা বাড়িটা একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রেখেছেন ।কাজেই এরকম ঝাচকচকে বাথরুম দেখে একেবারে গাইয়া হাবোলের অবাক হওয়াটা স্বাভাবিক । টাইলসে আয়না দেখার পরে হাবোলের লক্ষ্য পড়লো, তাইতো! পটিটা করবে কোথায়? তাদের বাড়িতে পটি করার সুন্দর প্যান আছে । কিন্তু এখানেতো এরকম কিছু চোখে পড়ছেনা । একবার ভাবলো রহিমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করি । কিন্তু পরক্ষণেই মাথায় এল এইসব সামান্য ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাটা ঠিক হবেনা । এতে তাকে হ্যাঙলাও ভাবতে পারে । তবে বাথরুমের মধ্যে ওভাল আকৃতির নুতন একটি জিনিস দেখে সে তার প্রয়োজনটা ভাবতে লাগলো । এখানে ওখানে হাত দিয়ে সিস্টার্নে হাত দিতেই একসঙ্গে অনেক জল বার হতেই সে প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেল । বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আবার বাটনটি টিপতেই এবার অল্প জল বার হলো । পরে আরও কয়েকবার চাপদিতে সামান্যকারে জল বার হতেই একটা বিষয়ে নিশ্চিত হলযে তার হাত দিয়ে জিনিসটা খারাপ হয়নি তবে জিনিসটা বাথরুমের একটা মজার খেলনাও হতে পারে । ভাবলো হয়তো বড় লোকদের বাথরুমে বসে এমন খেলনা নিয়ে সময় কাঁটানোর চল থাকতে পারে ।

এদিকে এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে করতে ব্রাসকরা শেষ করে কমোডের স্বচ্ছজলে ভালো করে হাতমুখ ধুয়ে যখন নিম্নপ্রবাহের চাপ ক্রমশ বাড়তে লাগলো, আর সহ্য করতে না পেরে তিন ইঞ্চি আউটলেটের মুখে কার্য করতে বসে মনে মনে এমন আধুনিক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করতে পেরে গর্ববোধ করতে লাগলো । নিম্নপ্রবাহের কাজ শেষ করে পাশে রাখা মগ নিয়ে কমোড থেকে জল তুলে শৌচকর্ম করলো বটে কিন্তু পটিকে আউটলেট দিয়ে বার করতে না পেরে মাথায় হাত দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলো । মগ নিয়ে একবার কমোড থেকে জল তুলে আর একবার একটি কল খুলে মগ ভর্তি করে পটি দুর করতে রীতিমতো যখন নাভিশ্বাস তখন হঠাৎ দরজায় রহিমা টোকা দিলে, হ্যাঁ যাই বলে উত্তর দিলেও, মনে মনে বেশ বিরক্ত হলো , এ কীরে বাবা! এভাবে কেউ পটি করতে পারে ? এদিকে তার বাথরুমে ঢোকা ততক্ষণে ঘন্টা পার হয়ে গেছে । রহিমা আরও একবার টোকা দিয়ে গেলো । অবশেষে হাবোল সাবান মেখে ফ্রেস হয়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখে টেবিলে ব্রেকফাস্ট রেডি করে মামেয়ে বসে গল্প করছে ।

হাবোলদের বাড়িতে সবাই ঘুঁটের ছাঁই দিয়ে দাঁত মাজে । কাজেই ব্রাস পেস্টের এসব ঝক্কি তার ভালো লাগেনি । কিন্ত শ্বশুরবাড়িতে আসার সময়ে কাবিলচাচা ছেলেকে বারবার সাবধান করে দিয়েছিলেন এটা বলে যে, কপাল গুনে এমন বড় ঘরের মেয়ে পেয়েছি , ফলে কোনও গন্ডগোল যেন না হয় । এহেন বড় ঘরের কিছু আচার বিচারকে নাজেনে নাবুঝে যে মান্যত দিতে হবে সেটা মাথায় রেখে হাবোল রহিমার সব কথাতে বিজ্ঞের মত মাথা নেড়ে সম্মতি দিত ।

এমনিতেই নুতন জামাই আসাতে বাড়িতে সাঁজোসাঁজো রব । কোন সকালে ঘুম থেকে ওঠা, বাড়ির সব কাজকর্ম এক হাতে করাতে রহিমার মা ফুলজান বিবির এক মুহূর্তে বসে থাকার সময় নেই । আগে মেয়ে মায়ের হাতের কাজে কিছুটা সাহায্য করলেও বিয়ের পর রহিমা স্বেচ্ছায় না করলে নিজে থেকে তাকে কোনও কাজে বলেননা । দ্বিতীয়দিন সকালে সব কাজ সামলিয়ে ফুলজানবিবি দাঁত মাজবেন বলে ব্রাসদানির কাছে এসে নিজের ব্রাসটিকে দেখতে না পেয়ে, পাশে কোথাও পড়ে গেছে ভেবে এদিক ওদিকে উঁকি মেরেও না পেয়ে আবার কাজে চলে গেলেন । পূর্বেই উল্লিখিত যে হাবোলরা বরাবরি ব্রাসপেস্ট ব্যবহার না করায় জানেনা যে ব্রাস প্রত্যেকের নামে নামে থাকে । কাজেই এদিন সে যে ব্রাসটি ব্যবহার করেছিল, সেটি ছিল ফুলজানবিবির । যথারীতি ভালো করে ব্রাস করে কমোড থেকে জল তুলে হাতমুখ ধুয়ে যথাস্থানে পটি করে প্রায় এক ঘন্টা পর বাথরুম থেকে বার হয়ে দেখে রহিমা ততক্ষণে টেবিলে ব্রেকফাস্ট রেডি করে তার প্রতিক্ষায় বসে আছে ।

তৃতীয় দিন ঘুম থেকে উঠে হাবোল ভাবলো প্রথমদিন খাপখুলে নুতন ব্রাস ব্যবহার করেছে, দ্বিতীয় দিন নীল ব্রাস ব্যবহার করেছে, পাশে থাকা লাল ব্রাসটির দিকে লক্ষ্য পড়াতে সেটিতে পেস্ট লাগিয়ে গামছা নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়লো । হাবোলের বাথরুমে একটু বেশি সময় লাগাতে মা মেয়ে বেশ খুশিই হন, কারন নিজেদের তৈরী করতে যে অনেকটা সময় পাচ্ছেন । রহিমা অবশ্য পরেরদিকে দরজায় আর কোনও টোকা দিতো না । সে বুঝে গেছে তার স্বামীর বাথরুমে এরকম সময় লাগাটা স্বাভাবিক । সেদিন মাঝে কোনও এক সময় দাঁত মাজবে বলে কোনও এক সময় বেসিনে এসে ব্রাস না পেয়ে আবার কিচেনে মাকে হেল্প করতে চলে গেল । কাজ করতে করতে মাকে ব্রাস না পাওয়ার প্রসঙ্গটি আনলে, উনিও জানালেন কাল সকালে ব্রাস না পেলেও পরে ব্রাসদানিতে ব্রাস পেয়ে এটকু অবাক হয়েছিলেন । এমন সময় রহিমা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে গেল বেসিনের দিকে । স্বামীর নুতন ব্রাসটিকে ব্রাসদানিতে দেখে, যা ভেবেছি ঠিক তাই । দরজায় টোকা দিয়ে, তুমি কার ব্রাস নিয়ে দাঁত মেজেছো? ওদিক থেকে উত্তর এল,
- কেন, ওখান থেকে একটি নিয়েইতো ব্রাস করেছি । রহিমার হঠাৎ চলে আসার ধরন দেখে ফুলজানবিবিও একপা দুপা করে মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন । বুঝলেন তাহলে গতকাল জামাই তার ব্রাসটিই ব্যবহার করেছিল । কিন্তু হাজার হোক জামাই বলে কথা । ফুলজানবিবি প্রসঙ্গটি মুখে আর আনলেননা ।

কিন্তু বাথরুম থেকে হাবোল বার হতেই প্রবল হাসিতে রহিমা যেন মাটিতে লুটিয়েই পড়লো । ফুলজানবিবি মেয়েকে একটু মৃদু ধমকও দিলেন জামাইকে নিয়ে এভাবে অট্টহাসি করার জন্য । হাবোল বুঝতে পারছে নাযে সে কী এমন কাজ করেছে যেজন্য তার বৌ এভাবে হাসিতে ফেটেপড়েছে । একসময় সেও রহিমার দিকে ফিরে বোকা বোকা ভাবে হাসতে লাগলো । এদিকে টেবিলের খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বলে, ফুলজানবিবি মনে করিয়ে দেওয়ায় রহিমা হাবোলের হাত থেকে ব্রাসটা ছিনিয়ে নিয়ে ঝটাপট দাঁত মেজে খাওয়ার টেবিলে বসে পড়লো ।

রহিমা খাওয়া শেষ হলে জামাকাপড় কাচার জন্য বড় বাথরুমে ঢুকলে একটা কটুগন্ধে গলা টানতে টানতে বেরিয়ে এলো । উল্লেখ্য বাড়িতে অনেকগুলি বাথরুম থাকায় জামায়ের ব্যবহার্যে এদিকে গত দুদিন কেউ আসেনি । হাবোলের সামনে গিয়ে মেঝেতে বসে কিছুটা বমি করে জিজ্ঞেস করলো,
- তুমি দুদিন কোথায় পটি করেছো?
- বাথরুমে!
- বাথরুমের কোথায়?
- হাবোল উঠে গিয়ে আউটলেটটাকে দেখাতেই , রহিমার মাথায় তালগোল পাকিয়ে গেল । বড় বড় চোখ করে কপাল চাপড়াতে লাগলো , ---হাই আল্লা!! আমার কপালে এই স্বামী!
ফুলজানবিবি পাশে দাঁড়িয়ে জামায়ের এমন বোকামিতে কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না । হঠাৎ রহিমা আবার জানতে চাইলো ,
- তুমি ব্রাস করে হাতমুখ ধুতে কোথায়?
হাবল বিষন্ন মুখেও একটা বোকার হাসি দিয়ে কমোডের দিকে দেখাতেই রহিমা ভির্মি খেয়ে গেল। আর ফুলজানবিবি উচ্চেস্বরে গলা টানতে টানতে ক্রমাগত বমি করতে লাগলো । হাবোল তখনও বুঝতে পারছেনা যে সে কী এমন কাজ করেছে ।

বিঃদ্র- পোষ্টটি সামুতে আমার প্রথম পোষ্টের প্রথম মন্তব্যদাতা প্রিয় তারেক মাহমুদ ভাইকে উৎসর্গ করলাম ।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:০৬
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×