জানমালের নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রের ওপর কতটুকু নির্ভর করা যায় ওই জ্ঞান মানুষের কতটুকু আছে তা গবেষণার বিষয়, কিন্তু সে জ্ঞান বাঘের রয়েছে ষোলআনাই, সে কথা হলফ কওেই বলা যায়। এজন্যই সে বাঘের বাচ্চা। বিচার বিভাগের ওপর আস্থা নেই বাঘের। ওই প্রাণীগুলো বুঝেছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধুই কেতাবি বচন। মার খেতে খেতে মানুষ সবকিছু মেনে নিচ্ছে, মানিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু সকল অত্যাচার মেনে নিলে ও মানিয়ে নিলে বাঘ তো আর বাঘ থাকা যায় না, মানুষই হতে হয়। কারণ বাঘতো বাঘই। এজন্য রাষ্ট্রের আইন অমান্য করলেন বাঘ মহাশয়।
মানুষ যখন আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করে, তখন সে বাঘ হয়ে যায়। (স্বাধীনতা আন্দোলনে এমন কর্মসূচী গ্রহণ করার নজির রয়েছে।) তখন সবাই বলে, সাবাশ ! বাঘের বাচ্চা !
রাষ্ট্রের পরিবেশ বিধ্বংসী উন্নয়ন মডেলের চাপে জীবন জীবিকা হতে উচ্ছেদ হচ্ছে মানুষ, তাদের স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে। পাশাপাশি বন উজার, জীববৈচিত্র ভারসাম্যহীন, প্রাণপ্রতিবেশ বিনষ্ট এবং দুষণতো আছেই। এক্ষেত্রেও সকল ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিচ্ছে ও মানিয়ে নিচ্ছে মানুষ। কিন্তু বাঘ কিংবা প্রকৃতি মানুষের রাষ্ট্রের ধার ধারে না। তারা সব কিছু চোখবুজে মেনে নেয় না, মানিয়ে নিতে জানে না। প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠে প্রকৃতি। তাই বাচতে হলে প্রকৃতির পাঠ নিতে হবে। মানুষ যতই নিজেকে বুদ্ধিমান কিংবা ’জ্ঞানী জীব’ ভাবুক, প্রকৃতির কাছ থেকে শেখার বাকি আছে অনেক।
খবরটি তাহলে বিবিসি বাংলা, এর জবানিতেই শোনা যাক।
বাঘ মারার আসামির মৃত্যু বাঘের থাবাতেই
শায়লা রুখসানা
সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, ২৯ নভেম্বর
বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘ পিটিয়ে মারার জন্য যার বিরুদ্ধে মামলা চলছে, এমন এক ব্যক্তি নিজেই এদিন ভোরে সাতীরা রেঞ্জে বাঘের হামলায় মারা গেছেন।
নিহত ওই ব্যক্তি পেশায় ছিলেন মৎস্যজীবী, তাঁর নাম সাত্তার কারবারি। আটত্রিশ বছর বয়সী সাত্তার কারবারি শ্যামনগরের গোলাখালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গত বছরের মার্চ মাসে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে গোলাখালি গ্রামে ঢুকে পড়েছিল একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার – কিন্তু গ্রামবাসীরা সেই বাঘটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
এরপর বন বিভাগের প থেকে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে বাঘ পিটিয়ে মারার জন্য যে মামলা করা হয়, তাতে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সাত্তার কারবারিরও নাম ছিল।
কিন্তু সেই বাঘ হত্যার আসামি সাত্তার কারবারি নিজেই এদিন বাঘের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন। আজ সকালে তিনি যখন মামুদা নদীর ধারে নৌচাখালিতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন তখনই তার ওপর বাঘের হামলা হয়।
সাত্তারের সঙ্গে তাঁর দুজন আত্মীয়ও নৌকাতে ছিলেন – তারা বাঘটিকে কোনওক্রমে তাড়াতে সম হলেও তার আগেই সাত্তার কারবারি বাঘের থাবায় গুরুতর আহত হন, তাঁর দেহ থেকে সাঙ্ঘাতিক রক্তরণ হতে থাকে।
তড়িঘড়ি করে আহত সাত্তারকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে প্রাণে বাঁচানোর চেষ্টা সফল হয়নি – আজ সকাল দশটা নাগাদ সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
বন বিভাগের সুন্দরবন(পশ্চিম) বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা জহিরুদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে জানান, বাঘের হামলায় সাত্তার কারবারির মুখমন্ডল এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তাকে প্রায় চেনাই যাচ্ছিল না।
বন বিভাগের প থেকে জানানো হয়েছে, সাত্তার কারবারি ও তাঁর সঙ্গীরা কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হাতে আক্রান্ত হলেও তাদের কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার কোনও বৈধ অনুমতিই ছিল না।
বন বিভাগের বৈধ পাশ ছাড়া সুন্দরবনের ভেতরে গিয়ে বাঘের হামলার শিকার হয়েছেন - এই কারণে নিহত সাত্তার কারবারির পরিবার সরকারি তিপূরণও পাবে না বলে জানানো হয়েছে।
ওদিকে ২০১১ সালে গোলাখালি গ্রামে বাঘ পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় সাত্তার কারবারি-সহ অন্য গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে, তার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলেই জানা গেছে।
পরিবেশবাদীরা বহু দিন ধরেই বলে আসছেন, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলের ভেতর খাবারে টান পড়ছে বলেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার প্রায়শই বনসংলগ্ন লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাদের সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।####

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




