এক.
আমার কলিগ সোহেল রহমান, বাড়ি রংপুরের পিরগঞ্জে, বিয়ে করেছেন বছর খানেক হল। বউ নিয়ে বাড়ির উঠোনে উঠার আগে প্রথমে কোন কাজটি করেছিলেন,সেই গল্পই বলছিলেন তিনি। আগে থেকেই একটি বকুল গাছের চারা কিনে রেখেছিলেন তার বন্ধু তুল্য ছোট ভাইকে দিয়ে। কথাটি রীতিমত গোপন রেখেছিলেন মা বাবা এমনকি নতুন বউয়ের কাছেও।
ঘরে উঠার আগে বউকে নিয়ে গেলেন আঙ্গীনার কানাচে এক চিলতে ফাকা জায়গায়। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা বকুল গাছের চারাটি বউকে দিয়ে লাগালেন সেখানে। পানি দিলেন। নিরাপত্তা বেষ্ঠনী (বেড়া) দিলেন। তারপর বউ কে নিয়ে ময়মুরুব্বীদের সঙ্গে ঘরে ঢুকলেন।
গাছটি এখন বেশ বড় হয়েছে। হয়ত একদিন ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করবে চারদিক। একটা অজানা বন্ধন আরো গভীর করে দেবে ওদের সম্পর্ক।
দুই .
অদ্য সাহা, একজন বড় জোতদার, বাড়ি সিরাজগঞ্জের জামতৈলে। একটি বড় মহীরুহ বট গাছের ছায়ায় বসে তার গল্পটি শোনালেন একই এলাকার একজন মুরুব্বী গোছের লোক। তিনি বলছিলেন, বাপু এই বট গাছটি দেখছেন না ? এটা অদ্য সাহার লাগানো গাছ, তার প্রথম পুত্র জন্ম নিলে এই গাছটি লাগিয়েছিলেন তিনি। আর ওই যে কয়েলগাতির রেলক্রসিংয়ের কাছে আরেকটি বড় বট গাছ দেখছেন, ওটা লাগিয়েছিলেন তার দ্বিতীয় পুত্র জন্ম নিলে। আর ওই যে রসুলপুরের পাশের বট গাছটা সেটা তৃতীয় পুত্র জন্ম নেয়ার সময়। এভাবে চারপুত্রের জন্মের সময় চারটি বট গাছ লাগিয়ে ছিলেন তিনি। বাপু এমন যে দিন কাল পড়েছে, আমরা শুধু গাছ কাটতেই জানি।
.......................................................................................
উপরের গল্পটি এতটুকুও গল্প নয়, সবটুকুই সত্য ঘটনা। আমি শুনে পুলক অনুভব করেছি। ভেবেছি আমাদের অনেক সংস্কার রয়েছে, অনেক কুসংস্কার। এমন আরেকটি সংস্কার কিংবা 'কুসংস্কার' রাখলে ক্ষতি কী, যে অদ্য সাহার মত কারো সন্তান জন্ম নিলে কিংবা বিয়ে করলে সোহেলের মত গাছ লাগাতে হবে। এমন বিশ্বাস চারিয়ে উঠলে ক্ষতি কী, এমন ব্যাক্তিজীবণের এমন স্মরণীয় ঘটনায় গাছ লাগালে, বিয়েটা আরো মধুর হবে, কিংবা নবজাতক দীর্ঘ আয়ু পাবে।
ক্ষতি কী বিয়ে কিংবা সন্তান জন্ম কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটণায় গাছ লাগানোর মত একটা বিষয় আমাদের সংস্কৃতি অংগ হয়ে উঠে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




