...... রেজিয়া খাতুনের বয়স ৩৬/৩৭ ।এই বয়সেই বিধবা। বছর তিনেক আগে আকস্মিকভাবে স্বামী মারা গেছেন । সংসারে তিন ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা অবস্থা । এর মধ্যে আবার বড় ছেলে বিয়ে করে কিছুদিন হয় আলাদা হয়ে গেছে। ছোট ছোট দুই ছেলে এবং নিজের ভরন পোষণের জন্য ভিক্ষা করাকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। এ ছাড়া অবশ্য আর কোন বিকল্প উপায়ও নেই। জায়গা জমি বলতে আছে এক টুকরো জমি তার উপর একটা ভাঙা ঘর।
একদিন বাড়ি ফেরার সময় দেখা হয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী সাবিকুন্নাহারের সাথে। সাবিকুন্নাহারের কাছ থেকে সে জানতে পারে দরিদ্র মহিলা ও পুরুষদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে ।সাবিকুন্নাহারের কথাগুলি তার মনে আশা জাগায়। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সে ঐ সংস্থার একটি দলে যোগ দান করে। যেখানে সে প্রতি সপ্তাহে দুই ঘন্টা করে দলের অধিবেশেনে অংশগ্রহন করে। সে জানতে পারে ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ভাতা সম্পর্কে। দলীয় অধিবেশেন শেষে রেজিয়া সাবিকুন্নাহারকে জিজ্ঞাসা করে যে কিভাবে সে একটি ভিজিডি কার্ড পেতে পারে। সাবিকুন্নাহার তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেয়। রেজিয়া একা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে সাহস পাচ্ছিলো না। তাই সাবিকুন্নাহারই তাকে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান যেকোন একটি ভাতার ব্যাবস্থা করবেন বলে তাদেরকে আশস্ত করে।
কিন্তু অনেক দিন হয়ে যাওয়ার পরেও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় রেজিয়া অনেকটা আশাহত হয়। এর মধ্যে একদিন সাবিকুন্নাহার খবর দেয় যে সরকার নতুন ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে। রেজিয়াকে আবেদন করার জন্য বলে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজিয়ার আবেদন খারিজ করে বলে যে এই অর্থবছরে বণ্টন করার মতো অতিরিক্ত কার্ড নেই। রেজিয়া এব্যপারে আবারো সাবিকুন্নাহারের সহযোগিতা কামনা করে। সাবিকুন্নাহার উপজেলা পরিষদে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, স্থানীয় সংসদ সদস্যগন ইতিমধ্যে ভিজিডি কার্ডসমুহ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যেমে বরাদ্দের জন্য না দিয়ে দলীয় কর্মীদের দিয়েছেন বন্টনের জন্য।
সাবিকুন্নাহার রেজিয়াকে পরামর্শ দেয় তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর অধীনে ইউপি সচিবের কাছে তথ্য চেয়ে একটি আবেদন পত্র জমা দেয়ার জন্য। আবেদন পত্রে রেজিয়া জানতে চায় যে ঘাগড়া ইউনিয়নের জন্য এ বছর কতগুলো কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, সে ভিজিডি কার্ড পাওয়ার যোগ্য কিনা এবং কিসের ভিত্তিতে ভিজিডি কার্ড বন্টন করা হয়েছে।
ইউপি সচিব তথ্য অধিকার আইনের শর্ত মেনে রেজিয়া কে তথ্য প্রদান করে। দেখা যায় যে, আসলে রেজিয়া একটি ভিজিডি কার্ড পাওয়ার যোগ্য ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ইউপি চেয়ারম্যান তাকে একটি ভিজিডি কার্ড দিকে বাধ্য হয়।
উপরের ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে একজন দরিদ্র ও অসহায় নারীও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন তথ্য জানা এবং তথ্য জানার অধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে।
এটি ধনী, দরিদ্র এবং দেশের সকল শ্রেনীর মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
কিভাবে তথ্য চাইবেন:
তথ্য অধিকার আইন,২০০৯ মোতাবেক নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশের নাগরিক যে কোন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাঙ্খিত তথ্য পেতে পারেন।
১। এই আইনের আওতায় যে কোন সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের/ কার্যালয়ে তথ্য পেতে আপনাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের/কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
২। আবেদনকারীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট নির্দিষ্ট নমুনায়/ফরমেটে আবেদনপত্র সরাসরি/ই-মেইলে আবেদন করতে হবে।
৩। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার পর ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে ক্ষেত্র বিশেষে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সফ্ট/ই-মেইল/প্রিন্টেড কপি/ফটোকপি/সিডি কপি তথ্য প্রদান করবেন।
৪। কোন কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রদানে অপারগ হলে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতি/ফরমেট অনুসরণপূর্বক ১০ (দশ) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।
৫। আবেদনকারী তথ্য না পেলে বা কোন প্রকার সংক্ষুব্ধ হলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের (নির্ধারীত নমুনা/ফরমে) নিকট আপিল করতে পারবেন।
৬। আপীল কর্তৃপক্ষ আবেদন পাওয়ার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করবেন।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে :
Information Commission
Right to Information Act 2009
বি দ্র : বাংলায় নতুন টাইপ করছি। আরটিআই আ্যক্ট - এর বিভিন্ন দিক নিয়ে পরে লেখার আশা রইল।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




