তুয়ান মোহাম্মদ দিলশান থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে তিলকরত্নে মুদিয়ানসিলেঙ্গে দিলশান হয়েছিলেন শুধুমাত্র জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়েই। টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ নভেম্বর,জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ান ডে'রটা এর ঠিক ২৩ দিন পর- ওই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুরুতে মিডল অর্ডারে ব্যাট করলেও ২০০৭ এ সনাথ জয়সুরিয়ার সাথে ওপেনিংয়ে জুটি বাঁধেন।
৮৭ ম্যাচে ১৬ টি শতক আর ২৩ টি অর্ধ-শতক তুলে ৫৪৯২ রান করে সাদা পোশাককে বিদায় বলেছেন অনেক আগেই। ৪২ বছর বয়সেও পাক অধিনায়ক মিসবাহ যেভাবে বিস্ময় উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই টি-২০ আর ওয়ান ডে চালিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন কিনা কে জানে? নইলে মুরালি, সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনেদের বিদায়ে শেষ হয়ে যাওয়া লঙ্কান ক্রিকেটের স্বর্ণালি যুগের শেষ বাতি হয়ে কেনই-বা রয়ে যাবেন তিনি !!!
২০১৯ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুনভাবে দল গোছাতে চাইছেন শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরা। আর সেখানে কোনোভাবেই জায়গা হচ্ছে না ৩৯ বছর বয়সী দিলশানের। তাই একরকম বাধ্যই হয়েই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে হল দিলশানকে।
থারাঙ্গা-দিলশান জুটির ২৮২ রান ওয়ান ডে ক্রিকেটে ওপেনিং এ সর্বোচ্চ।
সাঙ্গাকারা, জয়সুরিয়া, জয়াবর্ধনের পর চতুর্থ শ্রীলঙ্কান হিসেবে ওয়ানডেতে দশ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন দিলশান।
ওয়ানডের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় দিলশান আছেন একাদশ স্থানে।
২০১১ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন দিলশান।
ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই শতক হাঁকানো ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্থান ৫ম।
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান দিলশানের। ৭৮ ম্যাচ খেলে দিলশানের সংগ্রহ ১৮৮৪ রান।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর একজনই করেছেন দিলশানের চেয়ে বেশি রান। নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (২১৪০)।
বল হাতেও কার্যকরী ছিলেন দিলশান। ৩২৯টি ওয়ানডে খেলে শিকার করেছেন ১০৬টি উইকেট।
ফর্ম যে খারাপ ছিল তা নয়। ২০১৫ সাল তো ছিল দিলশানের ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরই সবচেয়ে সফল বছর। এ বছর করেছিলেন ১২০৭ রান। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি, ১৩৩ রান এসেছিল দিলশানের ব্যাট থেকেই। তবে এত কিছুর পরেও ক্যারিয়ারটা আর দীর্ঘ হল না। বিদায় নিতে হলো কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



