somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক উপন্যাস : রঙমহল , পর্ব - ৭

২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধারাবাহিক উপন্যাস : রঙমহল
= পার্থসারথি

মা মমতাময়ী দেবীর নির্দেশ শেখদের বাড়ীতে যেন এক গ্লাস জলও না খায়। কীভাবে যেন মমতাময়ী দেবীর কানে চলে আসে ; অনিমেষ হাবিবদের বাড়ীতে জলখাবার খায়। অনিমেষের ডাক পড়ে।
মমতাময়ী দেবী অনিমেষকে ডেকে কাছে বসান। তারপর মাথার চুলে বিনুনি কেটে সোহাগী কন্ঠে বলেন- ‘ অনি, তোমার ব্যাপারে কীসব শুনি?’
অনিমেষ মায়ের দিকে না তাকিয়ে বলে- কী মা?
তুমি না-কি হাবিবদের বাড়ীতে জলখাবার খাও?
অনিমেষ বেশ বুদ্ধি রেখেই চলে। জানে এসব তথ্য রঘুনাথ পাচার করেছে। মাথা গরম করলে চলবে না। বেশ ভেবে চিন্তেই অনিমেষ বলে- তোমার কী মনে হয় মা ?
অনি, চালাকি করবে না। আমি যা জানতে চেয়েছি তার জবাব দাও।-এবার মমতাময়ী দেবীর কন্ঠে একটু ঝাঝ ছড়িয়ে পড়ে।
অনিমেষ নিজেকে সামলে নিয়ে, মাকে জড়িয়ে ধরে বলে- মা, তুমি বিশ্বাস কর, আমি হাবিবদের বাড়ীতে কিছুই খাই নি।
তবে কী রঘু মিথ্যে বলেছে? রঘু, এই রঘু,.. মমতাময়ী দেবী রীতিমত চেচিয়ে ডাকলেন।
রঘুনাথ দরজার পাশেই দাড়িয়ে চুপি চুপি সব শুনছিল। ডাকা মাত্রই রঘুনাথের জবাব- গিন্নীমা, আমাকে ডেকেছেন?- এই বলে দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করল রঘুনাথ।
অনিমেষ চোখ পাকিয়ে তাকাল রঘুনাথের দিকে। রঘুনাথ নিজেকে যেন বেশ গুটিয়ে নিল। রঘুনাথ এক পা এগুচ্ছে তো দু'পা যেন পিছিয়ে যাচ্ছে।
মমতাময় দেবী বেশ ঝাঝালো কন্ঠেই বললেন- তুই ওরকম করছিস কেন? তুই না বললি,.. ।
রঘুনাথ অনিমেষের ভয়ে কন্ঠস্বও পরিস্কার করে কিছুই বলতে পারছে না। শুধু আমতা আমতা করতে লাগল- না, মানে, গিন্নীমা,.. না মানে,.. ।
অনিমেষ এই ফাকে এক ধমক বসাল- রঘু কাকা, তুমি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছ। আমি হাবিবদের বাড়িতে জলখাবার খেয়েছি তা তুমি কী করে দেখলে?
না,.. মানে,.. রঘুনাথ কোনকিছুই বলতে পারছে না।
আবার যদি কোনদিন মা'র কাছে এসে মিথ্যে বল তবে এর পরিণাম খুব খারাপ হবে । যাও বলছি,.. সুযোগে তাড়াতাড়ি তাড়াতে চাচ্ছে রঘুনাথকে।
মমতাময়ী দেবী আর কথা বাড়ায় না। রঘুনাথ চুপচাপ চলে যায়। এবার অনিমেষকে আদও করতে করতে মমতাময়ী দেবী বলেন- অনি,বাবা, রঘু কিন্তু মিথ্যে বলে নি, তোর ভয়ে ্ও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। এ রকম করে না, বাবা। আমরা সমাজ নিয়ে থাকি। যদি জানাজানি হয়ে যায় তবে রক্ষা নেই। এক ঘরে করে রাখবে।
অনিমেষের বুকের ভেতরটা কেপে ্ওঠে। মা! একি বল তুমি ?- আমি মানুষ হাবিব্ও মানুষ। দেহের ভেতরে রক্তের এতটুকু পার্থক্য নেই। আমার রক্ত যেমন লাল হাবিবের রক্ত্ও লাল। একসাথে ্ওঠা-বসা করি অথচ স্নানাহারে বিধি-নিষেধ। সমাজের এ নিয়ম তো কখন্ও মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। মানুষে মানুষে বাড়ানো থাকবে শুধু বন্ধুত্বের হাত। কিন্তু সমাজ নামের এ বিধি-নিষেধে হাটা সত্যিই কষ্টকর। এ শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। ধর্মের সুনিপুণ ব্যাখ্যাকে দুর্মুখ-পন্ডিতেরা নিজেদের স্বার্থের ছাচে ঢেলে সাজিয়ে নিয়েছেন।
মমতাময়ী দেবীর তাগিদে অনিমেষের সম্বিত ফিরে আসে। অনিমেষ এবার মা’র কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চায়- আচ্ছা মা, ধর আমি হাবিবদেও বাড়িতে জলাহার করেছি তাহলে তুমি কী করবে?
মমতাময়ী দেবী চোখ বড় বড় করে ঠাকুরের ছবির দিকে তাকিয়ে প্রণাম করতে করতে বলেন- হায় , রাম রাম ! ঠাকুর দেখ আমার ছেলে কী অলুক্ষণে কথা বলে। ঠাকুর আমায় রক্ষা কর। আমার ছেলের ভীমরতি হয়েছে। এবার স্বামীর ছবির দিকে তাকিয়ে অনুনয় করে বলেন- দেখ তোমার ছেলের মুখে কী কথা বেরুচ্ছে। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।
আহা! মা, তুমি আমার কথাটুকু আগে শোন। আমি তো খাই নি বা খেতে যাচ্ছি না। শুধু ‘ যদি’ হয় তাহলে কী করবে সেটাই জানতে চাচ্ছি।
মমতাময়ী দেবী আহাজারি করতে শুরু করলেন। বড় বউ রাসময়ী দেবী রীতিমত দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করলেন, মা, মা, আপনার কী হয়েছে? অনি কিছু বলেছে না-কি?
মমতাময়ী দেবী ঠাকুরের ছবির দিকে তাকিয়ে আবার বলতে লাগলেন- ঠাকুর আমি কী পাপ করেছিলাম, আমাকে এমন কথাও শোনার জন্য বাচিয়ে রেখেছ তুমি!
রাসময়ী দেবী অনিমেষের মুখোমুখি দাড়ান। তারপর শাসনের সুরেই বলেন- অনি, তুমি মাকে কী বলেছ?
কথাগুলো অনিমেষ রাসময়ী দেবীকেও শুনিয়ে দিল। রাসময়ী দেবী একেবারে বাকরুদ্ধ। কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন- ঠাকুরপো, তোমার মাথা ঠিক আছে তো না-কি?
বউ’দি আমি সজ্ঞানে এবং পুরোপুরি সুস্থ মস্তিষ্কে বলছি। আমি তো শুধু জানতে চেয়েছি।
শোন ঠাকুরপো, সমাজে থাকতে হলে সমাজের রীতিনীতি মেনেই তবে চলতে হয়। তাছাড়া শেখদেও কাছ থেকে যতদূরে থাকবে ততই মঙ্গল।
কেন বউ’দি? সমাজ যদি আমাকে আগুনে ঝাপ দিতে বলে, আমি তাই করব না-কি?
সমাজ তোমাকে শুধু শুধু আগুনে ঝাপ দিতে বলবে কেন?
শোন তাহলে, এই সমাজই এক সময় সতীদাহ প্রথা চালু রেখেছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন্ত স্ত্রীকে জোর করে চিতায় তুলে দিত। আর জীবন্ত একটা রমণীর চিতকারে আকাশের বাতাস ভারী হয়ে ্ওঠত। কিন্তু ্ওই সমাজের সমাজপতিদের মনে একটুও আচড় পড়ত না। এটা কী ভাবতে পার ? চলবে,..


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×