somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে সিদ্ধান্ত সমূহ সময় থাকতে না নিলেই নয়

১৪ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা অনেক সময় দেখেছি যে সমস্ত দেশে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইন, সামাজিক সুবিচার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হয় সেই সমস্ত দেশে মানুষের ‘সততা’ ইতিবাচকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু সামাজিক শৃংখলা নির্দেশক কাঠামো যখন পপাতিত্ব করে কিংবা ঠিকমতো কাজ করেনা, তখন বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের সততাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। বর্তমান বিশ্বে আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্য বিস্তারে বল্গাহীন যুদ্ধ উন্মাদনা সমগ্র বিশ্বে সামাজিক নিয়ন্ত্রণকে সন্দেহ, অবিশ্বাস, ও হুমকীর সম্মুখীন করে দিয়েছে। অন্যদের আক্রান্ত করার পাশাপাশি নিজেরাও যে আক্রান্ত হচ্ছে সেই ‘হুস’ যে কবে হবে তা নিকট ভবিষ্যতই বলে দেবে।
সারা বিশ্বে আজ অসৎ মনোবৃত্তির জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। অসৎ মনোবৃত্তির কারণে ল ল মানুষকে যুদ্ধের দ্বারা প্রাণহানি ও তিগ্রস্থ করেনও মানবতাবোধ জাগ্রত হচ্ছে না। গণতন্ত্র আজ অসৎ মনোবৃত্তির কাছে ধরাশায়ী। বিশ্বব্যাপী অসৎ মনোবৃত্তির জাগরণে গণতন্ত্রের মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠেছে গণতন্ত্রের দিন শেষ হয়ে আসছে। গণতন্ত্রের লেবাসে বিশ্ব আজ সভ্য মানুষের অসভ্য ও বর্বর আচরণ প্রত্য করছে। গণতন্ত্র আজ ঔপনিবেশবাদীদের রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের হাতিয়ার। “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” হচ্ছে দেশে দেশে মুসলমানদের স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী নাম দিয়ে সামরিক কায়দায় দমন করার হাতিয়ার। শঠতা, কূটনীতি ও কূটকৌশলের রাজনীতি হচ্ছে গণতন্ত্রের বর্তমান রূপ। আর বর্তমান বিশ্বের গণতন্ত্রের ধারক বাহকেরা হচ্ছে নির্দলীয় ও নিরপেতার আড়ালে বিশ্বব্যাপী অসৎ রাজনীতি ও অন্তর্ঘাত মূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষক। এর বিষবাষ্পে বর্তমান পৃথিবীর মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছে।
পৃথিবীর মানুষ আজ মুক্তির নিঃশ্বাস নিতে চায়। সততার রাজনীতি ছাড়া তা সম্ভ নয়। সততার রাজনীতি ছাড়া এ বিশ্ব আর এগুতে পারছেনা পারবেনা। সততার রাজনীতির জন্য ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকে প্রত্যাবর্তন ছাড়া বিশ্ববাসীর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
কারণ
পরকালীন জীভনে পার্থিব কৃতকর্মের জবাবদিহির অন্তহীন বিশ্বস ছাড়া সততা অস্থায়ী ও অরতি।
যে ব্যক্তি বিশ্বাস করেন ইহকালীন জীবন হচ্ছে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র এখানে পাশ করলেই কেবল পরকালে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছ সেই ব্যক্তি কিভাবে অসৎ হতে পারেন? এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে বিশ্বাসের গভীরতার উপরেই'তো সততার মাপকাঠি নির্ভর করে কথাটি সত্য। বিশ্বাসের গভীরতা কি ধরণের হওয়া উচিত তার একটি ছোট্ট উদাহরণ: মায়ের পেটের জীবনের কথাতো কিছুই স্মৃতিপটে নেই তাই ব লে কি আমরা একে অবিশ্বাস করি না করি না। আমরা আমাদের পিতা মাতাকে নিজের পিতা মাতা বলে জানি ও বিশ্বাস করি কিন্তু এই বিম্ভাসের পিছনে উঘঅ ঞঊঝঞ এর কোনো ভূমিকা আছে কি? এভাবে আমরা না দেখা প্রমাণ করা হয়নি এমন বহু বিষয়কে বিশ্বাস করি এবং যে বিশ্বাসে ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। এরই সূত্র ধরে রিসালতের কথা চিন্তা করুন। একথা সকলেই স্বীখার করেন নবীরা কেহই দার্শনিক ছিলেন না। পৃথিবীর মানুষ নবীদেরকে যদি নবী হিসেবেই মেনে নেয় যেমন মানুষ বিশ্বাস করছে তাদের পিতা মাতাকে সেখানে মানুষ নবীদের কথা কেন বিবেচনায় আনছে না?
বিবেচনায় না আনার করণ অসৎ মনোবৃত্তি আর ইতিহাসের অযৌক্তিক বিশ্লেষণ। যা তাদেরকে অবিশ্বাসীতে পরিণত করছে।
মানুষের মনোবৃত্তি ও বিশ্বাস অবিশ্বাসের মানদণ্ডে যদি আমরা দেশের রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করি তা’হলে আমরা দেখবো সৎ মনোবৃত্তি সম্পন্ন মানুষেরা যে রাজনীতি করছেন তার স্থিতি ও স্থায়ীত্ব পুরোপুরি নির্ভর কাছে পরকালীন জীবনের বিশ্বাসের উপর। আমরা সর্বদা দেখে আসছি অসৎ মনোবৃত্তির কাছে সৎ মনোবৃত্তি বার বার পরাভূত হচ্ছে।
এর কারণ কি?
পৃথিবীর মানুষ তার সৎ মনোবৃত্তি কে কাজে লাগিয়ে পার্থিব জীবন যাপনের যত ধরণের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মতবাদ রচনা করেছে সময়ের ব্যবধানে তা সবই ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। মানুষের অসৎ মনোবৃত্তির কাছে সৎ মনোবৃত্তি বার বার পরাভূত হওয়াই এর কারণ। প্রকৃতপক্ষে মানুষ তার নীতি নৈতিকথা ও মানবিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো মনস্তাত্বিক বাধ্য বাধকতা দেখছে না। আর মনস্তাত্বিক বাধ্য বাধকতা তখনই মানুষের উপর কার্যকরী হয় যখন মানুষ পরকালীন জীবনে বিশ্বাস স্থাপন করে।
অপ্রিয় সত্যকথা এই যে ইহকাল কেন্দ্রিক জীবন ও ইহকাল কেন্দ্রিক রাজনীতিই হচ্ছে এর মূল কারণ পার্থিব ভোগবিলাস ও লোভলালসা এবং ক্রমে ক্রমে পৃথিবীর মানুষ নীতি নৈতিকতার জলাঞ্চলি দিয়ে মতা, পার্থিব ভোগ বিলাস, লোভ লালসা, অর্থবিত্ত, ধনসম্পদ অর্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমন কি মতার মসনদে টিকে থাকার জন্য ও পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য ল ল মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে সামান্যতমও কুণ্ঠিত হচ্ছে না এভাবে মানুষতার ইতিবাচক সমস্ত মতাদর্শকে নিজেই পদদলিত করছে। এজন্যে আমরা অ নেকেই বলে থাকি মানব রচিত মতবাদ পৃথিবীর মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনা। সত্যি বলতে কি পৃথিবীতে এধরণের মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণেই কারণেই পৃথিবীর শান্তি উঠে যেতে শুরু করেছে।
তা’হলে মানব রচিত মতবাদ পৃথিবীর মানুষকে মুক্তি না দেয়ার কারণ হলো:
পার্থিব মতা ও লোভলালসা এত বেশী আকর্ষণীয় যে, পৃথিবীর মানুষ তার সৎ মনোবৃত্তি তথা নীতি নৈতিকতাকে পর্থিব মতা ও লোভ লালসার বিনিময়ে বিসর্জন দিচ্ছে। পরকালীন জীভনের প্রতি অবিশ্বাস তাদেরকে এপথে যেতে বাধ্য করছে অথবা তারা আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে বেছে নিচ্ছে।
অর্থাৎ “সৎ মনোবৃত্তি” সম্পন্ন মানুষেলা যে রাজনীতি করছেন তারা যদি পরকালীন জীবনে বিশ্বাসী না হন তা’হলে সময়ের ব্যবধানে তারা অসৎ মনোবৃত্তির কাছে পরাভূত হচ্ছেন এবং নীতি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে পার্থিব জীবনের বিনিময়ে বিসর্জন দিচ্ছেন। আমাদের দেশে এই রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অনেকেই বলে থাকেন পরকালের প্রতি বিশ্বাস ছঅড়াই মানুষ সৎ থাকতে পারেন।
তারা উদাহরণ দেন উন্নত বিশ্বের কথা সেখানে কি ধর্মের প্রয়োজন পড়ে? এর বিপে কথা হলো ‘সততা’ ততণ পর্যন্ত টিকে থাকে যতণ পর্যন্ত সৎ মনোবৃত্তি কাজ করে, সততা তখনই বিপর্যন্ত হয় যখন মনোবৃত্তি অসৎ হয়ে যায়। এজন্য দেখা যায়, ল ল মানুষকে যুদ্ধের দ্বারা প্রাণহানী ও তিগ্রস্থ করেও মানবতাবোধ জাগ্রত হয়না এর কারণ হচ্ছে অসৎ মনোবৃত্তি। পরিণতিতে দেখা যায় অসৎ মনোবৃত্তি সততাকে’ বিভিন্ন রূপ দেয় যাকে আমরা শঠতা, কূটনীতি ও কূটকৌশলের সাথে তুলনা করতে পারি।
এ ধরণের মানুষেরা সৎ ও নিরপে সাজার ক্ষেত্রে খুবই পটু এবং এরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্যদের প্রতারিত করে এবং সর্বদা প্রতারিত ও বিপথগামী করার চেষ্টাতেই লিপ্ত থাকে। আর একথা আমরা কে না জানি একটা মিথ্যা কথাকে ঢাকতে শত মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, ঠিক একই ভাবে একটি অসৎ মনোবৃত্তিকে ঢাকতে শত অসৎ কথা ও শত অসৎ কাজ শঠতা, কূটনীতি ও কূটকৌশলের সাথে করতে হয় যাতে তা সৎ ও নিরপে বলে প্রতীয়মান হয়।
বর্তমানে পৃথিবীর শক্তিধর বলয়ের রাষ।ট্রনায়কেরা যে শঠতা, কূটনীতি (অশুভনীতি!), কূটকৌশলের রাজনীতিতে খুবই পারদর্শী একথা ভূক্তভোগী দেশের প্রতিটি মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রোপটে ‘সততার’ যে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে তাতে একথঅ স্পষ্ট হয়েছে যে, ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়া সততা অষ্থায়ী ও অরতি। আমরা দেখলাম ‘সততা’ কোনো স্থির বিষয় নয়। এটি পরিবর্তনশীল এবং এর স্থিতি ও স্থায়ীত্ব পুরোপুরি ।

------ডাঃ আজিজুর রব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×