কুমিল্লার কু বদলে মোস্তাকের জন্ম পরিচয় মুছে ফেলতে কত টাকা খরচ হবে? এতে কি ইতিহাস কলঙ্ক মুক্ত হবে? যেমন করে ঘাতক জিয়া বদলে হয়ে গেছে শাহজালাল বিমানবন্দর। ভবিষ্যতের ইতিহাসে আর কোন কলঙ্ক থাকবে না, কালিমা থাকবে না?
তবে যে- ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে ফাসির দরিতে ঝুলে পড়ল দৌলতপুরের বৃদ্ধ। কোন ইতিহাসে লেখা থাকবে? একদিন আমরাও ঝুলে পড়ব, ঝুলে পড়ব উন্নয়নের ফ্যাসিবাদী দড়িতে। ঝুলে পড়ব পদ্মা সেতু থেকে, স্যাটেলাইট থেকে। চাঁদের জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, হরণ হয়ে যাচ্ছে আমাদের প্লেটের ঝলসানো রুটি। তবু আমারা কিছুই বলবোনা, আমরা আর কোন দিন কথাই বলবো না। এভাবে চুপ থাকতে থাকতে চারপাশে ছেয়ে যাবে নিস্তব্দতা। নিরবতা চিখ চিখ করে বলবে কেউ নেই, কোথাও কেউ নেই। ক্ষমতা চেপে ধরবে টুটি, মুন্ডুপাত করবে মৌলবাদের ছুরি, পরিচিত গলির মোড়ে ভেসে যাবে রক্তনালী, গলিত লাশে ঢেকে যাবে শহর, নগর, বন্দর। মাথার উপড় থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলবে চিল, শকুন। হিংস্র নখের দাগ বসে যাবে বুকে, পিঠে। তখন ধ্বনিত হবে- কেউ নেই, কেউ নেই পাশে দাড়ানোর। এভাবে চুপ থাকতে থাকতে একদিন বধির হয়ে যাব। বেসমরিক নগরিতে শুরু হবে সামরিক কার্ফু। বন্দি হয়ে যাবে উদ্দেলিত হাত, বাহু। ওষ্ঠ থেকে খসে পড়বে চুমু, জিহ্বা থেকে শব্দ, বুক থেকে ভালোবাসা, হৃদয় থেকে প্রেম।
সেদিন আহত পাখির মত কাতরাতে কাতরাতে, আপনারি তীব্র আর্তনাদে শুনতে পাবেন। কেউ নেই, কেউ কোথাও নেই।
পুড়ে যাচ্ছে অনাহারী পেট, অনাকাঙ্ক্ষিত জরায়ু, অযাচিত বুক। ফসলের ভারে নুয়ে পড়ছে মাঠ, ঋনের বোঝায় কৃষক; কর্পোরেটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে মগজ। বাজার ঝুলে আছে আট্রহাসির বিঙ্গাপনে, তার নিচে মাথা নুয়ে শূন্য হাতে ঘরে ফিরছে মধ্যবিত্ত। তবুও আমরা কিছুই বলবো না, আমরা আর কোন দিন কথাই বলব না। লাশের মঞ্চে রঙ্গনৃত্য করছে ক্ষমতা, আমারা তবুও কিছু বলবনা। এভাবে চুপ থাকতে থাকতে একদিন পুড়ে যাবে রাষ্ট্র, দেবালয়। বিস্তৃণ শ্মশানে দাঁড়িয়ে দেখব- কেউ নেই, কেউ কোথাও নেই। আমরা তবুও কিছু বলবোনা, আমরা কোন দিন কথাই বলবোনা।
৫২ এর ভাষায় পেরেক ঠুকে ক্রুশবিদ্ধে চড়িয়ে দেব, তবুও কিছুই বলবোনা, আমরা আর কোন দিন কথাই বলবোনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




