somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হলুদের সমুদ্রে চলন্ত ট্রেন: এক দিনের চলনবিল ও দিলপাশার ভ্রমণগল্প

০৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকালের কুয়াশা, ট্রেনের ঝকঝক শব্দ আর চোখের সামনে দিগন্তজোড়া হলদে সরিষা ক্ষেতের মায়াবী রূপ—এই তিনের কম্বিনেশন কেমন হতে পারে বলুন তো? ঠিক এই অনুভূতিটাই বাস্তবে রূপ দিতে আমরা ক'জন মিলে হুট করেই প্ল্যান করে ফেললাম চলনবিল ভ্রমণের। উদ্দেশ্য একটাই, যান্ত্রিক ঢাকা থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া এবং চলনবিলের বিখ্যাত সরিষা উৎসবের মুখোমুখি হওয়া।


ভোর ৬টার ট্রেন আর ভাঙ্গুড়া স্টেশনের কুয়াশা
আমাদের ট্যুর শুরু হয়েছিল ঠিক ভোর ৬টায়। কমলাপুর (বা এয়ারপোর্ট) স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন যখন ছাড়লো, তখনো চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা। ট্রেনের জানলা দিয়ে ভোরের মিষ্টি হাওয়া আর চেনা রুট পার হতে হতে আমরা যখন পাবনার ভাঙ্গুড়া স্টেশনে নামলাম, তখন সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা। স্টেশন থেকে নামতেই শীতের আমেজ আর গ্রামীণ পরিবেশ মনটা ভালো করে দিল।

ভ্যান যাত্রা, নদী পারাপার এবং বিলের মাঝে ট্র্যাকিং
ভাঙ্গুড়া স্টেশন থেকে আমরা লোকাল ভ্যানে চেপে রওনা হলাম বড়াল নদীর পাড়ের উদ্দেশ্যে। নদী পার হতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো আসল ম্যাজিক! যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। শুরু হলো আমাদের বিলের মাঝখান দিয়ে হাঁটা বা ট্র্যাকিং।


দুই পাশে সরিষা ফুলের মন মাতানো সুবাস আর মাঝে কাঁচা মাটির আইল। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছালাম দিলপাশার এলাকায়। সেখানে দুপুরের লাঞ্চ সেরে যখন আবার হাঁটা শুরু করলাম, মনে হচ্ছিল আমরা কোনো ছবির ভেতর দিয়ে হাঁটছি। চারপাশে মৌমাছির গুঞ্জন আর শান্ত বিলের রূপ সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।


আমাদের চলনবিল ভ্রমণের সিনেমাটিক ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:
view this link

বিটিভি থিম সং-এর এআই ফিউশন: আমাদের ছোটবেলার নস্টালজিয়া জড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই চিরচেনা সিগনেচার টিউনটিকে আধুনিক AI মিউজিক টেকনোলজির সাহায্যে একটি ফিউচারিস্টিক রিমিক্স রূপ দিয়েছি। ট্র্যাডিশনাল সুরের আবেগ ঠিক রেখে এই নতুন মিউজিকটি চলনবিলের ড্রোন শট আর চলন্ত ট্রেনের ভিজ্যুয়ালের সাথে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে!


চলনবিলে এত সরিষা কেন আর মধুর গল্প
হাঁটার ফাঁকে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে একটা দারুণ জিনিস জানলাম। বর্ষাকালে এই চলনবিল কিন্তু পুরো পানির নিচে ডুবে থাকে, ঠিক যেন একটা মিনি সমুদ্র! অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে যখন এই পানি নেমে যায়, তখন মাটিতে উর্বর পলি আর নরম কাদার একটা মোটা স্তর জমে। কৃষকদের তখন বাড়তি জমি চাষ করতে হয় না; তারা সরাসরি এই কাদার ওপর সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেন। বিনা চাষেই প্রাকৃতিকভাবে এখানে বাম্পার ফলন হয়

আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করেই এখানে বসে মধুর মেলা! খামারিরা মাঠের পাশে সারিবদ্ধ কাঠের বাক্স বসিয়ে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে মৌমাছি দিয়ে ১০০% খাঁটি সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করেন। এই হলুদ ফুলগুলোই মৌমাছিদের প্রধান চারণভূমি । (পরের সপ্তাহে এই মধু সংগ্রহের ওপর একটা স্পেশাল ভিডিও আসছে)

গোধূলি লগ্নে বড়াল ব্রিজ ও নীড়ে ফেরা
সময় কম থাকায় বিকালের দিকে আমরা ভ্যান নিয়ে চলে গেলাম ঐতিহাসিক চাটমোহর বা বড়াল ব্রিজের কাছে। যখন সূর্য ডুবুডুবু, আকাশজুড়ে সোনাঝরা আলো, ঠিক তখন বড়াল ব্রিজের ওপর দিয়ে একটা ট্রেন ধকধক শব্দে পার হয়ে গেল। মাথার ওপর দিয়ে পাখিদের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে তাদের নীড়ে। এই সিনেমাটিক দৃশ্যটা দেখার জন্যই যেন সারাদিনের ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল! এরপর সন্ধ্যা ৬টার ফিরতি ট্রেনে চেপে আমরা আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। টেনশন-ফ্রি হয়ে পথপ্রদর্শকের কথামতো কাটানো এই একটা দিন আমাদের স্মৃতির পাতায় চিরকাল জমা থাকবে।




আপনিও যদি এমন ডে-ট্যুর দিতে চান
• কখন যাবেন: চলনবিলের সরিষার এই রূপ দেখতে হলে আপনাকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পুরো জানুয়ারি মাসের মধ্যে যেতে হবে।
• রুট: ঢাকা থেকে ভোর ৬টার ট্রেনে উঠে নামবেন ভাঙ্গুড়া স্টেশন। সেখান থেকে ভ্যানে নদীর পাড় হয়ে নৌকা পারাপার। দিলপাশার এলাকায় লাঞ্চ করে বিলের মাঝে ঘুরে বিকেল ৫টার মধ্যে চলে যান চাটমোহর বা বড়াল ব্রিজ। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টার ফিরতি ট্রেনে ব্যাক টু ঢাকা!

সবুজের মাঝে হলুদের এই সমারোহ আর বিটিভি থিম সং-এর নস্টালজিক ফিল নিয়ে আমাদের সিনেমাটিক ট্রাভেল ডকুমেন্টারিটি দেখতে ভুলবেন না। আপনার চলনবিল ভ্রমণের কোনো স্মৃতি থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন!

#BeautifulBangladesh #ChalanBeel #LetsHike
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×