"তুই আমারে চিনছ? চিনছ তুই আমারে? তুই আমারে চিনছ?" - ছেলেটা রেগে গেছে।রেগে গেলে একেক মানুষ একেকরকম কাজ করে,আমি দাত দিয়ে নখ কামড়াই,নখ কামড়িয়ে চিবাই,চিবিয়ে ফেলে দিই! চিবিয়ে মজা পাই না,রাগ কমে!রাগও কমল,নখও ছোট থাকল,এক ঢিলে দুপাখি খতম!!রেগে গেলে,একি কথা তিনবার বলার অভ্যাস বোধয় ছেলেটির।আমি বসে আছি ছেলেটার পাশের সিটে।গুলিস্তান থেকে বাসে উঠেছি,বিআরটিসি বাস,সাভার যাব।ভাড়া ৫০ টাকা,ভেঙে ভেঙে গেলে আরো কমে যাওয়া যায়,বারে বারে ওঠানামা করার মুড নেই।
ছেলেটা চেচিয়ে যাচ্ছে, কন্ট্রাক্টরের এক কথা- স্টুডেন্ট আইডি দেখান,নাইলে পুরা ভাড়া দেন! ছেলেটা আইডি দেখাচ্ছে না,আগুনে চোখে তাকিয়ে আছে! আইডি দেখিয়ে দিলেই ঝামেলা চুকে যায়,কিন্তু ছেলেটা ঝামেলা বাড়াবে মনে হচ্ছে! আমরা সিস্টেম সিস্টেম করে গলা ফাটিয়ে ফেলি,সিস্টেমিক ওয়েতে কেউ চললেই আবার রাগ করি! কিউট একটা জাতি আমরা!
ছেলেটা তার বন্ধুদের ফোন করল, "ওই তোরা গাবতলি আয়,কন্ট্রাক্টররে আইজ আইডি দেখামু,তে আইডি চিনে না,চিনে না আইডি,আইডি চিনে না তে!"
"ভাই,ভাড়াটা?" আমি পকেটে হাত দিলাম,কন্ট্রাক্টরকে খানিকটা বিচলিত মনে হচ্ছে! সামনের দুই স্টপ পরেই গাবতলি!!
"গাবতলিতে দীর্ঘ যানজট "খবরটা পড়তে পড়তে ১ মাস আগের সেই ঘটনাটা মনে পড়ে গেল।শেষমেশ কন্ট্রাক্টর যে কান্ডটা করল তা মনে পড়তেই হাসি এসে যাচ্ছে! হাসা যাবে না,ব্যাপারটা ফানি না,একটু এদিকসেদিক হলেই সেদিন সিরিয়াস কিছু হতে পারত।আমরা ছাত্ররা রাজপথে তান্ডব করতে ওস্তাদ,কোন কারণ ছাড়াই!!! গরম রক্ত ঠান্ডা করা লাগবে? চল ভাংচুর করি! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে,আন্দোলন এখনো শুরু হচ্ছে না কেন!! "গরুর গোশত এখনো হজম হয়নি বোধয়!!
রাতের বেলা পত্রিকায়চোখ বোলানোর এই এক মজা।মজার মজার খবর চোখে পড়ে! "স্ত্রীর ঘুষিতে স্বামীর মৃত্যু!!"ইন্টরেস্টিং শিরোনাম,খবরটা পড়তে হবে।খেলার পাতা থেকে ঘুরে আসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

