somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিক ভাইদের বলছি আপনারা সাম্প্রদায়িক হবেন না।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুতেই শাহবাগ আন্দোলন কারী দের আমি তাদের প্রাপ্য ধন্যবাদ টুকু দিতে চাই। শাহবাগ এর কারণে যুদ্ধ অপরাধীদের যথাযত বিচার নিশ্চিত হবে। এই আন্দোলন সন্দেহাতীত ভাবে এর উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন এর দরকার আছে। এটা নতুন প্রজন্মের আন্দোলন। আমিও এই দেশের সন্তান ও আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। নতুন প্রজন্মের কিছু সব্যসাচী তরুণ যারা প্রমাণ করেছে যে শুধু Virtual জগত এই নয় তারা রাজপথ এও নামতে পারে। এই আন্দলনের কারণে ফেসবুক এ আমার অনেক বন্ধুকে হুমকি ও পেতে হচ্ছে। কিন্তু তাও তারা দমে নাই। কিন্তু এই আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আছে যাদের কারণে আমাদের এ আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কিছু ব্লগার ও ফেস বুকার আছেন যারা বিভিন্ন ব্লগ সাইট গুলোতে মহান আল্লাহ তায়ালা,ইসলাম এবং আমাদের প্রিয় নবীজীর নামে অশালীন কথা বলে আসছে। তাদের জন্য আমাদের আন্দোলন কে জনগণ ভুল চোখে দেখতে পারে। আমরা আমাদের সাপোর্ট হারাতে পারি। আমাদের আশেপাশে শত্রুর অভাব নেই। তারা আমাদের ভুলের অপেক্ষায়। আন্দোলনে যে সব নাস্তিক ভাইরা আছে তারা কি জানে না যে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৫ কোটি মুসলমানের আছে। তাদের বেশীর ভাগ জুম্মার দিনে নামাজ পরতে যায়, আমাদের বাবা মা এখনো সপ্তাহের সাত দিন নামাজ পরেন। মায়েরা আজান হলে মাথায় কাপড় দেন। একজন মা বাসার ছোট সন্তান কে মাগরিব এর সময় খেলা ছেড়ে বাসায় ফিরতে বলেন। ছাত্র ছাত্রী রা অন্তত পরীক্ষার সময় নামাজ পরে। ঢাকায় পরিস্থিতি কিছু ভিন্ন হতে পারে। এখানে একজন মানুষের জীবিকার জন্য ব্যস্ততাটা আগে চোখে পড়বে। আধ্যাত্মিক জীবনের কাজ গুলো সহজে চোখে পড়ে না। কিন্তু ঢাকায় সামগ্রিক নয়।এই বিপুল জন গোষ্ঠী যখন দেখবে যে এই আন্দোলনের মূলের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের তারা ঘৃণা করেন তখন তারা তাদের কথা গুলোকে তেমন গুরুত্ব দিবে না। দল মত ধর্ম নির্বিশেষে এই আন্দোলন চলছে এটায় এক মাত্র মূল নীতি হওয়া উচিৎ। কিন্তু নাস্তিক রা ইসলামের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলে এই ঐক্যটাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

শাহবাগের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে - বর্তমান শাসক দল এবং পরবর্তীতে যারা শাসক হবে তাদের কে জবাবদীহিতার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা, এখন জনগণ জেনে ফেলেছে তাদের প্রকৃত সংসদ কোনটা।পরবর্তীতে সরকার জনগনের বিপক্ষে কাজ করলে তারা জানে কোথায় আন্দোলন করতে হবে। তারা জেনে ফেলেছে যে শেয়ার বাজার, সাগর-রুনী, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, বিশ্বজিতের জন্য কোথায় গিয়ে কথা বলতে হবে। শাহবাগ ই গণতন্ত্র। এই আন্দোলন শেষ হোক, আগামীতে আর আসবে। এই আন্দোলনের এখনো পর্যন্ত অন্যতম সাফল্য এটা। বর্তমান সরকার এবং আগামীবার যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা এটা মাথায় রাখবে। তারা এটা বুঝতে পারছে যে জনগণ এখন আর তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী নেই।জনগণের সংজ্ঞা এখন জনগণই দিতে পারছে।

আমার এই লেখার মূল কারন টা হচ্ছে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। তাদের কে জবাব দিতে হবে তারা কেন ইসলাম ধর্মের পিছনে লেগেছে। তারা তাদের নাস্তিক বিশ্বাস টা প্রচার করতে পারে।তারা মানুষকে বলতে পারে, বোঝাতে পারে কেন তারা নাস্তিক কিন্তু তারা কোন ভাবেই ১৫ কোটি মুস্লিম এর দেশে বসে আল্লাহ, ইস্লাম, নবীজীকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে পারে না। এছাড়া তাদের সাথে অন্য কোন বিষয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করি না। তাদের কে এটা বুঝতে হবে যে ঠিক তার পাশে বসে যেই ছেলেটা , বয়স্ক ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছে তার হৃদয়ে ইসলাম এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। দয়া করে আমাকে জামায়াতের শিবিরের সাথে তুলনা করে আমাকে, আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যকে ছোট করবেন না। তাদের সাথে আমার মতের ব্যবধান কয়েকশ আলোক বর্ষ দূরে। দেশের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা যারা কোন দলের সাথেই যুক্ত নয় তারা আমার মতই কথা বলবেন। আমার কথা হল এদের দল করা বাদে কি আমি আল্লাহ ও নবীজীর নামে কেউ খারাপ কথা বললে আমি প্রতিবাদ করতে পারব না ?

শেষ কথা হল, যে ব্যক্তি তার দেশের ১৫ কোটি মানুষের বিশ্বাস কে, নিজের মায়ের, বাবার বিশ্বাস কে , আল্লাহ্‌ কে ঘৃণা করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলে, সে নিজের দেশকে ভাল বাসবে কী করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩



পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপা আর ফিরে আসবে না......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×