শুরুতেই শাহবাগ আন্দোলন কারী দের আমি তাদের প্রাপ্য ধন্যবাদ টুকু দিতে চাই। শাহবাগ এর কারণে যুদ্ধ অপরাধীদের যথাযত বিচার নিশ্চিত হবে। এই আন্দোলন সন্দেহাতীত ভাবে এর উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন এর দরকার আছে। এটা নতুন প্রজন্মের আন্দোলন। আমিও এই দেশের সন্তান ও আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। নতুন প্রজন্মের কিছু সব্যসাচী তরুণ যারা প্রমাণ করেছে যে শুধু Virtual জগত এই নয় তারা রাজপথ এও নামতে পারে। এই আন্দলনের কারণে ফেসবুক এ আমার অনেক বন্ধুকে হুমকি ও পেতে হচ্ছে। কিন্তু তাও তারা দমে নাই। কিন্তু এই আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আছে যাদের কারণে আমাদের এ আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কিছু ব্লগার ও ফেস বুকার আছেন যারা বিভিন্ন ব্লগ সাইট গুলোতে মহান আল্লাহ তায়ালা,ইসলাম এবং আমাদের প্রিয় নবীজীর নামে অশালীন কথা বলে আসছে। তাদের জন্য আমাদের আন্দোলন কে জনগণ ভুল চোখে দেখতে পারে। আমরা আমাদের সাপোর্ট হারাতে পারি। আমাদের আশেপাশে শত্রুর অভাব নেই। তারা আমাদের ভুলের অপেক্ষায়। আন্দোলনে যে সব নাস্তিক ভাইরা আছে তারা কি জানে না যে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৫ কোটি মুসলমানের আছে। তাদের বেশীর ভাগ জুম্মার দিনে নামাজ পরতে যায়, আমাদের বাবা মা এখনো সপ্তাহের সাত দিন নামাজ পরেন। মায়েরা আজান হলে মাথায় কাপড় দেন। একজন মা বাসার ছোট সন্তান কে মাগরিব এর সময় খেলা ছেড়ে বাসায় ফিরতে বলেন। ছাত্র ছাত্রী রা অন্তত পরীক্ষার সময় নামাজ পরে। ঢাকায় পরিস্থিতি কিছু ভিন্ন হতে পারে। এখানে একজন মানুষের জীবিকার জন্য ব্যস্ততাটা আগে চোখে পড়বে। আধ্যাত্মিক জীবনের কাজ গুলো সহজে চোখে পড়ে না। কিন্তু ঢাকায় সামগ্রিক নয়।এই বিপুল জন গোষ্ঠী যখন দেখবে যে এই আন্দোলনের মূলের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের তারা ঘৃণা করেন তখন তারা তাদের কথা গুলোকে তেমন গুরুত্ব দিবে না। দল মত ধর্ম নির্বিশেষে এই আন্দোলন চলছে এটায় এক মাত্র মূল নীতি হওয়া উচিৎ। কিন্তু নাস্তিক রা ইসলামের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলে এই ঐক্যটাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
শাহবাগের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে - বর্তমান শাসক দল এবং পরবর্তীতে যারা শাসক হবে তাদের কে জবাবদীহিতার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা, এখন জনগণ জেনে ফেলেছে তাদের প্রকৃত সংসদ কোনটা।পরবর্তীতে সরকার জনগনের বিপক্ষে কাজ করলে তারা জানে কোথায় আন্দোলন করতে হবে। তারা জেনে ফেলেছে যে শেয়ার বাজার, সাগর-রুনী, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, বিশ্বজিতের জন্য কোথায় গিয়ে কথা বলতে হবে। শাহবাগ ই গণতন্ত্র। এই আন্দোলন শেষ হোক, আগামীতে আর আসবে। এই আন্দোলনের এখনো পর্যন্ত অন্যতম সাফল্য এটা। বর্তমান সরকার এবং আগামীবার যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা এটা মাথায় রাখবে। তারা এটা বুঝতে পারছে যে জনগণ এখন আর তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী নেই।জনগণের সংজ্ঞা এখন জনগণই দিতে পারছে।
আমার এই লেখার মূল কারন টা হচ্ছে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। তাদের কে জবাব দিতে হবে তারা কেন ইসলাম ধর্মের পিছনে লেগেছে। তারা তাদের নাস্তিক বিশ্বাস টা প্রচার করতে পারে।তারা মানুষকে বলতে পারে, বোঝাতে পারে কেন তারা নাস্তিক কিন্তু তারা কোন ভাবেই ১৫ কোটি মুস্লিম এর দেশে বসে আল্লাহ, ইস্লাম, নবীজীকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে পারে না। এছাড়া তাদের সাথে অন্য কোন বিষয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করি না। তাদের কে এটা বুঝতে হবে যে ঠিক তার পাশে বসে যেই ছেলেটা , বয়স্ক ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছে তার হৃদয়ে ইসলাম এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। দয়া করে আমাকে জামায়াতের শিবিরের সাথে তুলনা করে আমাকে, আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যকে ছোট করবেন না। তাদের সাথে আমার মতের ব্যবধান কয়েকশ আলোক বর্ষ দূরে। দেশের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা যারা কোন দলের সাথেই যুক্ত নয় তারা আমার মতই কথা বলবেন। আমার কথা হল এদের দল করা বাদে কি আমি আল্লাহ ও নবীজীর নামে কেউ খারাপ কথা বললে আমি প্রতিবাদ করতে পারব না ?
শেষ কথা হল, যে ব্যক্তি তার দেশের ১৫ কোটি মানুষের বিশ্বাস কে, নিজের মায়ের, বাবার বিশ্বাস কে , আল্লাহ্ কে ঘৃণা করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলে, সে নিজের দেশকে ভাল বাসবে কী করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



