আমাদের স্কুলের একজন রাগী স্যার ছিলেন। তিনি ইংরেজীর ক্লাস নিতেন। কোনো অভিযোগ শুনলেই তদন্ত ছাড়াই তিনি অভিযুক্তকে মার শুরু করে দিতেন। তার ভাষ্য ছিল_তুমি ভালো হলে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে কেন? কেন জানি ওই স্যারকেই আমার খুব ভালো লাগতো।
আমি তখন কাস এইটে পড়ি। ক্লাসের ফার্স্টবয় এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন হবার সুবাদে একটু ডোন্ট কেয়ার ভাব মনে আসতো। একদিন ক্লাস চলাকালীন সময় ক্ষুধা পেলে স্যারের ক্লাসের আগ মুহুর্তে ক্লাস থেকে কাউকে কিছু না বলে আমি আর আমার একবন্ধু বের হলাম। উদ্দেশ্য দোকানে গিয়ে কিছু খাওয়া। কিন্তু বিধিবাম। যেই না ক্লাস থেকে বের হয়ে কিছুদুর এগিয়ে গেলাম ঠিক তখনই স্যার অফিস রুম থেকে বের হলেন আমাদের ক্লাস নেয়ার জন্য। স্যারকে দেখে আমরা ভয়ে অস্থির। কি করবো বুঝতে পারছিনা। লুকোনোর কোথাও জায়গাও নেই। আমার সামনেই ছিল বাথরুম। আমি ঢুকে পড়লাম সেখানে। দুয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমার বন্ধুটিও আমারই বাথরুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল। আমিতো অবাক! সে ঢুকলো কিভাবে? বুঝতে পারলাম আমি এতটাই ভয় পেয়েছি যে বাথরুমের ছিটকিনি লাগাতে ভুলে গিয়েছিলাম। মিনিট পাঁচেক পরে দুজনে বের হয়ে ক্লাসে গিয়ে দেখি স্যার এখনো কাসে যান নি। আমরাতো মহা আনন্দে আছি। কিছুন পর পিয়ন এসে দুজনকে ডেকে নিয়ে গেল অফিসে। স্যারের সামনে গিয়ে দাড়াতেই কোনোরকম প্রশ্ন ছাড়াই প্রচন্ড মার দিলেন। স্কুল জীবনে ওটাই ছিল প্রথম মার। তাই হজম করতে একটু কষ্ট হলো। কিন্তু অপরাধ কী বুঝতে পারছিলামনা। পরে স্যারের মুখে শুনলাম আমাদের অপরাধ আমরা দুজন একসঙ্গে বাথরুমে ঢুকেছি।
মারের চোটে ব্যাথায় কয়েকদিন স্কুলে যেতে পারিনি। বাবাকে পুরো ঘটনা খুলে বলতে বাবা স্যারকে জিজ্ঞেস করলে স্যার ঘটনা জেনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু স্যারের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ ছিলনা।
কিছুক্ষন আগে আমার সেই বন্ধুটি ফোনে জানালো দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে আজ 28 জুলাই 2006 সকাল 8টায় আমার প্রিয় স্যার পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। জীবন জীবিকার তাগিদে স্যারকে শেষবারের মতো দেখতে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছেনা। তাই দুর থেকেই স্যারের আত্মার প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।
স্যার, পৃথিবীর যাবতীয় কলুষতা আজ থেকে আপনাকে আর কাছে টানবেনা। যেখানেই থাকুন আপনি সুখে থাকুন। বিধাতা যেন আপনাকে বেহেশত নসীব করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



