somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় স্যারের মৃতু্য ...... সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা

২৮ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের স্কুলের একজন রাগী স্যার ছিলেন। তিনি ইংরেজীর ক্লাস নিতেন। কোনো অভিযোগ শুনলেই তদন্ত ছাড়াই তিনি অভিযুক্তকে মার শুরু করে দিতেন। তার ভাষ্য ছিল_তুমি ভালো হলে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে কেন? কেন জানি ওই স্যারকেই আমার খুব ভালো লাগতো।

আমি তখন কাস এইটে পড়ি। ক্লাসের ফার্স্টবয় এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন হবার সুবাদে একটু ডোন্ট কেয়ার ভাব মনে আসতো। একদিন ক্লাস চলাকালীন সময় ক্ষুধা পেলে স্যারের ক্লাসের আগ মুহুর্তে ক্লাস থেকে কাউকে কিছু না বলে আমি আর আমার একবন্ধু বের হলাম। উদ্দেশ্য দোকানে গিয়ে কিছু খাওয়া। কিন্তু বিধিবাম। যেই না ক্লাস থেকে বের হয়ে কিছুদুর এগিয়ে গেলাম ঠিক তখনই স্যার অফিস রুম থেকে বের হলেন আমাদের ক্লাস নেয়ার জন্য। স্যারকে দেখে আমরা ভয়ে অস্থির। কি করবো বুঝতে পারছিনা। লুকোনোর কোথাও জায়গাও নেই। আমার সামনেই ছিল বাথরুম। আমি ঢুকে পড়লাম সেখানে। দুয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমার বন্ধুটিও আমারই বাথরুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল। আমিতো অবাক! সে ঢুকলো কিভাবে? বুঝতে পারলাম আমি এতটাই ভয় পেয়েছি যে বাথরুমের ছিটকিনি লাগাতে ভুলে গিয়েছিলাম। মিনিট পাঁচেক পরে দুজনে বের হয়ে ক্লাসে গিয়ে দেখি স্যার এখনো কাসে যান নি। আমরাতো মহা আনন্দে আছি। কিছুন পর পিয়ন এসে দুজনকে ডেকে নিয়ে গেল অফিসে। স্যারের সামনে গিয়ে দাড়াতেই কোনোরকম প্রশ্ন ছাড়াই প্রচন্ড মার দিলেন। স্কুল জীবনে ওটাই ছিল প্রথম মার। তাই হজম করতে একটু কষ্ট হলো। কিন্তু অপরাধ কী বুঝতে পারছিলামনা। পরে স্যারের মুখে শুনলাম আমাদের অপরাধ আমরা দুজন একসঙ্গে বাথরুমে ঢুকেছি।

মারের চোটে ব্যাথায় কয়েকদিন স্কুলে যেতে পারিনি। বাবাকে পুরো ঘটনা খুলে বলতে বাবা স্যারকে জিজ্ঞেস করলে স্যার ঘটনা জেনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু স্যারের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ ছিলনা।

কিছুক্ষন আগে আমার সেই বন্ধুটি ফোনে জানালো দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে আজ 28 জুলাই 2006 সকাল 8টায় আমার প্রিয় স্যার পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। জীবন জীবিকার তাগিদে স্যারকে শেষবারের মতো দেখতে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছেনা। তাই দুর থেকেই স্যারের আত্মার প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।

স্যার, পৃথিবীর যাবতীয় কলুষতা আজ থেকে আপনাকে আর কাছে টানবেনা। যেখানেই থাকুন আপনি সুখে থাকুন। বিধাতা যেন আপনাকে বেহেশত নসীব করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×