somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নে সন্দেহ- শেষ পর্ব

১১ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্ব২য় পর্ব[গাঢ়]

রফিকের ডায়েরি থেকে
জানিনা কীভাবে প্রেমে পড়লাম। আমি জীবনে যে খুব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছি তা নয়। প্রেম করেছি নীলার আগেও কয়েকটি। ঢাকায় একা থাকলে যতটুকু নষ্ট হওয়া যায় হয়েছি। পরে সময়ের সঙ্গে শুধরে গেছি। একবার তো পারুলকে বিয়ে করবো বলে বেরও হয়েছিলাম কিন্তু পরে আর হয়নি। তবে নীলাকে ভালোবেসেছি মোহাচ্ছন্ন হয়ে। ও সব জানে। অবশ্য আমি যেটুকু জানিয়েছি। ওর সঙ্গে প্রেমের শুরুটা কাকতালীয়। বৃষ্টির দিন। সন্ধ্যায় টিউশনিতে যাচ্ছি। হঠাৎ বৃষ্টি। আমি এক বাসার সামনে দাঁড়ালাম বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। হঠাৎ উপরে তাকাতেই লক্ষ্য করলাম বাড়ির বারান্দায় অদ্ভুত সুন্দরী এক মেয়ে। হালকা নীল সালোয়ার, গায়ে চাদর। চোখে চোখ রাখতেই তার ভূবণ ভোলানো হাসি। আমি হারিয়ে গেলাম। কিন্তু সেও যে এত দ্রুত হারাবে ভাবিনি। হঠাৎ এক টুকরো কাগজ। প্রেমপত্র ভেবে পকেটে গুঁজলাম। ওখানে পড়লে মেয়েটি লজ্জা পবে ভেবে বৃষ্টিতেই ছুটলাম। যা হয় হবে। বাসায় গিয়ে দেখি ওটা সাদা কাগজ। এমন মেজাজ খারাপ হয়েছিল যা বলার না। এরপর প্রতিদিন ওই বাড়িতে উঁকি দিয়েছি। যে বিশাল বাড়ি, ভেতরে ঢুকতে সাহস হয়নি। কিন্তু বড়লোকের মেয়ে বলেই এসব তামাশা করবে? এরতো কোনো মানে হয়না। বেশ কয়েকদিন পর আরেক বৃষ্টির দিনে তাকে পেলাম, সেই বারান্দা, সেই বৃষ্টি, সেই হাসিতে। ও নেমে এলো। এসে ক্ষমা চাইলো। আমি মনে মনে বললাম, ওই সাদা কাগজেই আমি সব বুঝে গেছি। কিছু লেখনি তাতে কি হয়েছে।

এরপর পরিচয় .......... কয়েক মাসের মধ্যেই ওকে নিজের করে পেতে বিয়ের সিদ্ধান্ত। ভেবেছিলাম বিয়ের পর নীলার বাবার কেস টেসের মধ্যে পড়বো। কিছুই হলোনা। নীলা বললো, ‌'তার আর ওই বাড়িতে ফিরে যাওয়া হবেনা'। আমি বলালাম, 'যাক বাবা ঝামেলা তো হয়নি'। আর শিল্পপতি বাবার একমাত্র মেয়ে ক'দিনই বা রাগ করে থাকতে পারবে। পরে তো রাজ্যসহ রাজরানী_সবই আমার। আমি আর নীলা, অনেক সুখের সংসার আমাদের। নীলা চাকরী করে ওর এই মেন্টালিটিও আমার খুব প্রিয়। ......... আহা কী সুখের জীবন

এরপর কয়েক মাস পর। নীলা বাসাতেই ছিল। রফিক অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়িই ফিরলো। ফিরে এসে যা দেখলো তার জন্য রফিক মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। এক ভদ্রলোক নীলাকে বিশ্রি ভাষায় গালাগাল করছে। এক পর্যায়ে গায়ে হাত তুলতে উদ্যত হলে রফিক থামায়। পরে জানা যায় লোকটি নীলার ভাই। কিন্তু এ জানাটাও যখন মিথ্যে হলো তখন একে একে সব মুখোশ খুললো সত্যের। নীলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকার কারনেই আজ তার বাবার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। নীলার আসল পরিচয় জানতে পেরে লোকটি উদ্যত হয়ে এসেছে তার ঝাল মেটাতে। লোকটি চিৎকার করে বলছে 'তুই তো একটা ......শ্যা', আরো অনেক অকথ্য গালি। লোকটির হাতে কয়েকটি পরুনো পত্রিকা। পত্রিকায় নীলার ছবি। ছবির ক্যাপশনে লেখা 'ধর্ষিত নীলিমা রায়'। একদল ডাকাত গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ........। রফিকের স্তব্ধতাও হারায়। আরো কিছু স্থানীয় পত্রিকা নীলার ছবি ছাপিয়ে তাকে নষ্টা মেয়ে প্রমান করেছে।

একটি সংবাদ
মগবাজার দিলু রোডের 6 তলায় নীলা নামে এক মেয়ের আত্মহত্যা। পরদিন পত্রিকার খবর এক পতিতাকে বিয়ে করে ফেঁসে যায় রফিকুল নামে এক যুবক ....... আরো অনেক কেচ্ছাকাহিনী। কয়েক বছর পর রফিক এখন অফিসে অনেক মনোযোগি। সে এখন যথেষ্ট ধার্মিকও। কিন্তু গভীর এক পাপ বোধে ভোগে সে সবসময়। প্রতিবছর নীলার মৃতু্যদিনে সে ওই বাড়িটার সামনে রাতে পায়চারি দেয়। জোছনা রাতে নীলা তার দিকে চেয়ে হাসে ভূবন ভোলানো হাসি। পরনে সেই হালকা নীল সালোয়ার, গায়ে সেই চাদন জড়ানো। .......... আর কেউ না জানুক রফিক তো জানে নীলার চলে যাওয়ার রহস্য!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×