somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুন্ঠি কালাইয়ের ঘুরানি ব্যারাম (গল্প)

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শামচুল হক

কয়েক বছর আগে চরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। যমুনা নদী পার হয়ে ধুধু বালুর চর। বালুচর হাঁটতে হাঁটতে পূর্ব পাশের গ্রামে গেলাম। বাড়ির সংখ্যা অনুযায়ী এটাকে গ্রাম বলাও ঠিক হবে না, বিশাল বালুচরের মাঝামাঝি মাত্র চার পাঁচটি বাড়ি। প্রত্যেক বাড়িতে একটি দু’টি করে ঘর। কোন বাড়িতেই গাছ নেই। এরা যে এখানে নতুন বসত গড়েছে তা বাড়ির পরিবেশ দেখেই বোঝা যায়।

দুপুরের রোদে বালু চর হাঁটতে গিয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ। খুব পিপাসা পেয়েছে। পানি খাওয়ার জন্য মাঝখানের এক বাড়িতে গেলাম। বাড়ির সামনে লাউয়ের জাংলার নিচে এক বৃদ্ধ বসে আছে। কাছে যেতেই মুখ তুলে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি ক্যারা গো?
বললাম, আমাকে চিনতে পারবেন না, আমি শহর থেকে এসেছি।
-- কার বাড়ি আইছেন?
-- কারো বাড়ি আসিনাই চাচা, চর বেড়াতে এসেছি।
-- খালি চর বেড়ানোর জন্যেই আইছেন?
-- জী চাচা, খালি চর বেড়ানোর জন্যই এসেছি।
-- বেড়াইতে আইছেন যহন বহেন, বলেই তিনি একটি কাঠের পিঁড়ি এগিয়ে দিলেন। আমিও হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়েছি। আমারও ইচ্ছা একটু আরামে বসে জিরিয়ে নেয়া। পিঁড়ি এগিয়ে দেয়ায় খুব খুশিই হলাম। পিঁড়িতে বসে চাচার সাথে কথা বলতে ছিলাম।

কথা বলার এক পর্যায়ে বললাম, চাচা, আপনাদের বাড়ি আগে কোথায় ছিল?
চাচা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, বাবারে, আমার জন্মস্থান বাড়ি এই চরেই আছিল। নদীর ভাঙনে সে বাড়ি ভাইঙা গেলে একেক বছর একেক চরে বসত করছি।
-- আপনার বয়স কত?
-- সত্তুরের কাছাকাছি।
-- সত্তুর বছর আগের সেই বাড়ির কথা কি আপনার মনে আছে?
-- হ মনে আছে--, মনে থাকবো না ক্যা? আমি তো বড়ই হইছি এই চরে।
-- তখন আপনাদের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?
-- অবস্থার কথা কি কমু আর ভাইস্তা, তখন আমাগো আয় অবস্থা খুবই ভালো ছিল। এই চরের চারানা সম্পত্তি আমার দাদার আছিল। দাদার খুব নাম ডাকও ছিল। সাত গ্রামে মদবরি করছে। আমার দাদার নাম কইলে অনেক দূরের মাইনষেও চিনছে।
-- সেই বাড়ি এই চরের কোন জায়গায় ছিল?
-- এইহান থিকা তিনশ’ গাজ দক্ষিণে আছিল। আমার বয়স যখন ১৬ বছর তখন সেই চর ভাইঙা যায়। এরপর আমার বাবা বাড়ি করে উত্তরের চরে। সেই চরে সাত বছর থাকার পর সেটাও ভাইঙা যায়। এর পরে পশ্চিমের চরে বাড়ি করে, সেই চরে ৬ বছর থাকার পর সেইটাও ভাইঙা যায়, এরপর এই চর উঠে। আবার আমরা এই চরে বাড়ি করি। ৩ বছর থাকার পর আবার চর ভাইঙা গেলে দক্ষিণের চরে যাই। এইভাবে ১৬ ভাঙ্গা দেয়ার পর গত বছর এই চর উঠলে আবার আইসা বাড়ি করছি। জানি না এই চরে আল্লায় আবার কয়বছর রাখপো।
-- আপনার জীবনেই কি ১৬ বার বাড়ি ভাঙছে?
-- তাইলে আর কইলাম কি? ১৬ বার বাড়ি ভাঙার পরেই তো ৯ মাস হইল এই নতুন বাড়ি করলাম।
-- আপনার দাদা যে সাত গ্রামের মাতব্বর ছিল, নদীভাঙার পরও কি তিনি মাতুব্বরী করতেন?
-- বাবা রে-- নদী ভাঙলে কি আর মদবরী থাকে? অর্থ না থাকলে মদবরীও থাকে না।
-- এখন আপনাদের কি অবস্থা?
-- অবস্থার কথা কি আর কমু রে বাবা, মাঝখানে আমাদের খুব দুরাবস্থা গেছে। মাঝে মাঝে দুইবেলা পেটের ভাত জোটে নাই। নদী ভাইঙা কত যে না খায়া থাকছি। তবে এই বছর মোটামুটি ধান পাইছি। যা পাইছি তাতে ভাতের অভাব হইবো না।

চাচার সাথে কথা বলতে বলতেই তার বাড়ির উঠানের দিকে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি উঠানে কালাইয়ের মত কি যেন শুকিয়ে দেয়া আছে। দেখতে কালাই গাছের মত মনে হলেও চেহারা ভিন্ন। এধরনের ফসল আগে কখনও চোখে দেখিনি। আমার দেখা কোনো কালাই গাছের সাথেও এগুলো মিলাতে পারছি না।



চিনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা, উঠানে শুকিয়ে দিয়েছেন এগুলো কি?
--কালাই।
--কি কালাই
-- কুন্ঠি কালাই।
কুণ্ঠি কালাইয়ের নামটি নতুন নতুন লাগল। চাচাকে বললাম, চাচা, জীবনে অনেক কালাইয়ের নাম শুনেছি কিন্তু কুন্ঠি কালাইয়ের নাম তো কোনোদিন শুনি নাই?
চাচা ডান হাতটি উপর নিচে নাড়িয়ে বললেন, শুনবেন কোইত্থিকা, এই কালাই তো সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের চরাঞ্চলেই পাওয়া যায়।
আমি কিছুটা আশ্চার্য হওয়ার মতই বললাম, তাই নাকি! এই কালাই শুধু চরেই হয়! বলেই বললাম, আচ্ছা চাচা, এই কালাই কি খায়?
আমার প্রশ্ন শুনে চাচা আমাকে কিছুটা ব্যাক্কেল ভেবেই বলল, আরে ভাইস্তা আপনারে খুব শিক্ষিত মনে করছিলাম, এহন দেহি আপনি আমার চায়াও মুর্খ।
চাচার এমন কথায় হঠাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। হাবাগোবার ভাব ধরে বললাম, কেন চাচা?
চাচা গলার আওয়াজ একটু বাড়িয়েই বলল, আরে ভাইস্তা নাম হইল কালাই, কলাই মানেই ডাইল, এবার আপনেই কন ডাইল খায় না মাথায় দেয়?
আমি তার কথা বুঝেছি এমন ভাব ধরে বললাম, এইবার বুঝেছি চাচা, এইটা একটা কালাই। আচ্ছা চাচা, এই কালাই কিভাবে খায়?
চাচা গলার আওয়াজ নামিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বলল, ডালও খাওয়া যায়, আবার সেদ্ধ কইরাও খাওয়া যায়।
-- সেদ্ধ করে খেতে কেমন লাগে?
-- মন্দ লাগে না, ভালই লাগে। আপনি খাইবেন? খাইলে কন আইনা দেই।
মনের ভিতর নতুন নামের কালাই খাওয়ার আগ্রহ দেখা দিলেও অপরিচিত হওয়ায় প্রকাশ করতে পারছিলাম না। স্বেচ্ছায় খাওয়াতে চাওয়ায় মনে মনে খুব খুশিই হলাম। কিন্তু কালাই খাওয়ার আগ্রহ থাকা সত্বেও লজ্জায় বললাম, না না চাচা, আমাকে খাওয়াতে হবে না, আমাকে খাওয়াতে গেলে আপনাদের অনেক ঝামেলা হবে।
চাচা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমাগো আবার কি ঝামেলা হইবো?
হাসি দিয়ে বললাম, রান্নার ঝামেলা আছে না? আমাকে খাওয়াতে গেলে তো আপনাদের আবার রান্না করতে হবে।
আমার কথা শুনে চাচা তাড়াতাড়ি বলল, না না, পাক করা লাগবো না। কালাই সেদ্ধ করাই আছে। বলেই বাড়ির দিকে মুখ করে কাকে যেন উদ্দেশ্য করে ডাক দিল, এই গেদি এ--ই, প্লেটে কইরা এক প্লেট কালাই সেদ্ধ আনচে। কাঁচের গ্লাসে কইরা এক গ্লাস পানিও আনিস।

আমি তার কালাই খাওয়ানোর মানসিকতা দেখে আশ্চার্যই হলাম। অপরিচিত হয়েও এত তাড়াতাড়ি আমাকে কালাই খাওয়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বসবে এটা আমি ভাবতেও পারিনি। গ্রামের সহজ সরল মানুষদের আন্তরিকাতা আগেও দেখেছি, আজকেও এই চাচার আন্তরিকতায় বুকটা ভরে গেল। তারপরও নিজের কাছে কেমন লজ্জা লজ্জা লাগছিল, তাই চাচার কালাই আনার তাগিদ দেখে তাড়াতাড়ি বললাম, না না চাচা, আমাকে খাওয়াতে হবে না। কালাই আনতে নিষেধ করেন?
আমি নিষেধ করায় চোখের দিকে তাকিয়ে বলল-- আপনারা হইলেন ভরদো মানুষ, কত ভালোমন্দ খান, আপনাদের তো আমি ভালোমন্দ খাওয়াইবার পারমু না। এই কালাই কোনদিন খান নাই খাওয়াইবার চাইলাম, তা আবার নিষেধ করেন ক্যা?
-- চাচা নিষেধ করতেছি এই জন্যে, আপনারা আপনাদের খাওয়ার জন্য সেদ্ধ করেছেন, সেখান থেকে আমাকে খাওয়ালে আপনাদের আবার টান পড়তে পারে।
আমার কথা শুনে চাচা কিছুটা ধমক দিয়েই বললেন, হেই ভাইস্তা কও কি? এক প্লেট কালাই খাইলে আমার সংসারে টান পড়বো, এইডা আপনারে কে কইছে? আরে ভাইস্তা, গরীব হইলেও একেবারে ফকির না। আড়াই বিঘা জমি কালাই বুনছি। বিঘা প্রতি পাঁচ মণ কইরা হইলেও বারো তেরো মণ কালাই হইবো। আপনে এক প্লেটে কয়ডা খাইবেন?
আমি তার মানসিকতা দেখে তাজ্জব বনে গেলাম। গ্রামের মানুষদের আতিথেয়তার তুলনা হয় না।

দুইজনের কথাপোকথন চলা অবস্থায় সাত আট বছরের একটি মেয়ে প্লেট ভরে কালাই সেদ্ধ নিয়ে এলো। কাঁচের গ্লাস ভরে পানি আনল। লাউয়ের জাংলার নিচেই মাদুর বিছেয়ে খেতে দিল। তপ্ত রোদের মাঝে গাছবিহীন বিরান বালু চরের লাউয়ের জাংলার ছায়াটা যে কত আরামের, সেটা বলে বুঝানো যাবে না। খোলামেলা পরিবেশে দখিনা হওয়ায় খুব আরাম লাগছিল। এমন পরিবেশে যেকোন খাবারই মনে হয় মুখোরোচক হবে।

কুন্ঠি কালাই দেখতে মশুর কালাইয়ের মত হলেও সাইজে একটু লম্বা এবং বাঁকা। প্লেট হাতে নিয়ে প্রথমেই অল্প একটু মুখে দিলাম, খেয়ে দেখি বেশ মজাই লাগে। হলুদ-লবন, মরিচ-পিয়াজ দিয়ে খুব ভালো করেই রান্না করেছে। বালুচর হেঁটে খুব খিদেও পেয়েছিল। গোগ্রাসে সবগুলো কালাই সেদ্ধ খেয়ে ফেললাম। পানি খাওয়ার পর শরীরটা বেশ চাঙা হলো।

খাওয়া শেষে চাচার কাছ থেকে বিদায় নিতে গেলে চাচা বলল, এত তাড়াতাড়ি যাইবেন ক্যা। থাকেন, পুরা চর ঘুইরা বেড়ান। দুপুরে ভাত খায়া তারপরে যাইবেন।

চাচার আতিথেয়তা তুলনাহীন। চেনা নেই জানা নেই অথচ খাওয়ার জন্য প্রাণ খোলা আপ্যায়ন। চাচার আর্থিক অবস্থা যে খুব ভালো তাও না, তারপরেও মনটা অনেক বড়। চাচাকে ধন্যবাদ দিয়ে শহরের দিকে রওনা হলাম।

যাওয়ার সময় চরের আবহাওয়া টের না পলেও ফিরে আসার সময় হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। গাছ গাছালি বিহীন ধু ধু বালুচরে শীতের দিনেও যে এত রোদ লাগে আগে জানতাম না, জানলে কি আর ছাতা ছাড়া আসি! ছাতা না নিয়ে এসে চরম আহম্মকিই করেছি।

অর্ধেক রাস্তা আসার পর রোদের জন্যই হোক আর অন্য কোন কারণেই হোক শরীরটা যেন কেমন কেমন লাগছে। কেন এমন লাগছে বুঝতে পারছি না। আস্তে আস্তে মাথা ঘোরা শুরু হলো। নদীর কাছাকাছি আসতেই শুধু মাথা ঘোরা নয়, পুরো চর সুদ্ধই ঘুরতে লাগল। বেদিশা হয়ে গেলাম। দ্রুত খেয়া ঘাটের দিকে দৌড়াতে লাগলাম কিন্তু দৌড়ে আগাতে পারছিলাম না। একে তো বালুচর তারোপর মাথা ঘোরা, পা ফেলি এক জায়গায় পড়ে অন্য জায়গায়। এদিকে ভালো করে চোখেও দেখি না। যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি সব কিছু শুধু ঘোরে। মাথা ঘোরার সাথে পুরো শরীরও ঢুলতে লাগল। মনে মনে ভাবলাম মাথা ঘুরে পড়ে যাবার আগে অন্তত খেয়াঘাটে পৌছা দরকার। খেয়াঘাটে গিয়ে মরলেও লাভ আছে। লোকজন দেহটা অন্তত বাড়ি পৌছে দিবে। কিন্তু বিরান বালুচরে মরলে বিপদ, এ দেহ বাড়ি না পৌছে শিয়াল শকুনের খাদ্য হবে। শরীর ঢোলাঢুলি করলেও শুধু মনের জোরেই আগাতে লাগলাম। খেয়াঘাটের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হলো না তার আগেই মাথাঘুরে পরে গেলাম।

আমার পড়ে যাওয়া দেখে খেয়াঘাটে বসে থাকা দুই তিনজন দৌড়ে এসে টেনে উঠালো। আমি তখন কাঁপতে ছিলাম। আমার কাঁপা দেখে একজন জিজ্ঞেস করল, আপনে এভাবে কাঁপতেছেন ক্যা? আপনার কি মৃগী রোগ আছে?
আমি হাত ইশারায় বললাম, আমার এধরনের কোন রোগ নাই।
-- তাইলে কিছু খাইছেন?
মাথা ঝাঁকালাম, খেয়েছি।
আমার মাথা ঝাঁকানো দেখে তারা ভেবেছে আমি মদ গাজা জাতীয় কিছু একটা খেয়েছি। একজন আমাকে গাঁজাখোর মনে করে রাগত স্বরেই বলল, বুঝছি, গাঞ্জা খায়া টাল হইছেন, এহন বালুচরে উইল্টা উইল্টা পড়া শুরু করছেন। আগে জানলে বালুচরে মইরা থাকলেও ধইরা উঠাইতাম না। যত সব আজেবাজে ঝামেলা বালুচরে আইসা পইরা মরে।

আমাকে গাঞ্জাখোর ভেবে অবজ্ঞা করে কথা বলায় মনে খুব কষ্টই পেলাম, জীবনে মদ গাঁজা খাওয়া তো দূরের কথা, এসব জিনিস কখনও হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলাম না অথচ আজ এদের কাছে বিশাল গাঞ্জাখোর হলাম। শরীরের কাহিল অবস্থার কারণে তাদের অবজ্ঞাসুলভ আচরণেও চুপ করে থাকতে হলো। আমার তখন মাথা ঘোরার কারণে মাথা ঘেমে গেছে। বসে থেকেও ঢলে ঢলে পড়ছি। আমার এ অবস্থায় একজন এসে মাথার গামছা দিয়ে বাতাস করতে লাগল। কিছুক্ষণ বাতাস করায় একটু আরাম পেলাম। মাথা ঘুরানো কিছুটা কমলো। একটু সুস্থ্য হয়ে কাতরাতে কাতরাতে বললাম, আমি গাঁজাটাজা খাই নাই ভাই।
যে লোকটি গাঁজা খাওয়ার কথা বলেছিল সে বলল, তাইলে সকাল বেলা কি খাইছেন?
-- কালাই সেদ্ধ খেয়েছি।
-- কি কালাই?
-- কুন্ঠি কালাই।
কুণ্ঠি কালাইয়ের নাম শুনেই আরেকজন বলে উঠল, বুঝতে পারছি, কালাইয়ে কাম সারছে। বলেই বলল, আপনি কুন্ঠি কালাই আরো কখনও খাইছিলেন?
-- না।
-- আজই কি প্রথম খাইছেন?
-- হ্যা।
-- কতগুলা খাইছেন?
-- পুরো এক প্লেট।
লোকটি আশ্চার্য হয়ে বলল, করছেন কি! এক চামচ খাইলেই মাথা ঘোরে--- সেখানে আপনে এক প্লেট খাইছেন! আপনারে তো কুন্ঠি কালাইয়ের ঘুরানিতে ধরছে।
কুন্ঠি কালাইয়ের নাম শুনে আরেকজন পাশের জনকে বলল, এই খলিল, এক কাজ করতো ভাই, উনারে ধইরা নদীর কিনারে নে, ভাইরে কুন্ঠি কালাইয়ের ঘুরানি ব্যারামে ধরছে, মাথায় পানি ঢালা লাগবো।
তিনজনে ধরাধরি করে আমাকে নদীর কিনারে বসিয়ে মাথায় অনেকক্ষণ পানি ঢালল। পানি ঢালার একপর্যায়ে স্বাভাবিক হলাম। তখন মনে পড়ল চাচার কথা, চাচা বিদায়ের সময় বার বার বলতেছিল, কালাই খাইছেন মাথায় ঘুরানি দিবার পারে, খানিক বইসা জিরায়া যান। কিন্তু আমি তখন তার কথাটি বুঝতে পারি নাই। যখন বুঝতে পেলাম তখন নদীর ঘাটে মাথা ঘুরে পড়েই গিয়েছি। আর পড়ে গিয়েই বুঝতে পেলাম কুন্ঠি কালাইয়ের ঘুরানির ক্ষমতা!

ছবি ঃ ইন্টারনেট
(কিছুটা সত্য)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০৫
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×