আমার ঘুরে বেড়ানো দেশগুলোর ছোট ছোট সাধারণ কাহিনী নিয়ে কয়েক পর্ব লেখার চেষ্টা করবো। ভালো মন্দ এবং পাঠকদের চাহিদার ভিত্তিতে এই লেখা চলবে।
কলকাতা ২০০৭ সাল। ইন্ডিয়াতে ঘুরা এবং কাজ শেষ করে দেশে চলে আসছি। শ্যামলী বাসে ফিরবো। তাই কলকাতায় শ্যামলী বাসের কাউন্টারে বসে আছি সাথে আমার জামাইবাবু। খুব সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছে তাই জামাইবাবুকে বসিয়ে বাহিরে এলাম সিগারেট খেতে।
১২/১৩ দিনে ওদের ছোট ফিল্টারের সিগারেট খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। একটু পাশে একটা টঙ্গের মতো দোকানে গিয়ে চোখ ছানা বড়া দেখি বাংলাদেশী সিগারেটে ভর্তি। জলদি একটা গোল্ডলিফ কিনে টানা শুরু করলাম। এমন সময় দেখি এক মহিলা বয়স ৪০/৪২ হবে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তার দুই হাতে ব্যাগে সবজি বাজার ভর্তি। এসে কোনো কথা নেই আমার কাছে এসে বললো বাবা আমাকে ১০টই টাকা দেবে সকাল থেকে খাই নাই। আমি অবাক হয়ে মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলাম আর ভাবতে থাকলাম এই মহিলা কি বলে এইসব। যাই হোক হাতের ইশারায় মহিলাকে তাড়িয়ে দিলাম।

যেই দোকানে সিগারেট কিনেছিলাম যে আমার বাঙ্গালী ছিলো না ছিলো বিহারের। তাকে যেয়ে বললাম দেখছো নি কারবার। সে বললো এখেনে বাংলাদেশী ছাড়া এতো দামী সিগারেট কেউ খায় না। এবং তাদের ধারণা এদের অনেক টাকা পয়সা হয় আসলে বাংলাদেশীদের কলকাতায় গিয়ে দুই হাতে টাকা পয়সা খরচের স্বভাবের জন্যই তাদের এই ধারনা। কিছু লোক আছে এরা ওঁত পেতে থাকে বাংলাদেশীদের জন্য। আসলেই যাতে এইভাবে টাকা নিতে পারে। মহিলার হাতে বাজারের ব্যাগ ছিলো তাই হয়তো টাকা পায়নি তা না হলে কিন্তু আমার মন গলে যেতো।
এখন অবশ্য পরিস্থিতি বদলেছে তবে তাও বেনসন সিগারেট খেলে এরা ট্যারায় ট্যারায় তাকায়। কাছে এসে ভাব জমাতে চেষ্টা করে সিগারেটে একটা টান দেওয়ার জন্য। দাদা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন নাকি। আমার বাবার বাড়িও কিন্তু বাংলাদেশে ছিলো। পাত্তা দেই না পাত্তা দিলেই সমস্যা।
আর লিখবো না!! লেখা কেমন হলো জানাবেন। আপনাদের ভালো লাগার উপর এই রকম নিরামিষ নয় আরো মসলাদার ভ্রমণ কাহিনী লিখবো!!
#*#*#*#ছবিটা আসল নয় তবে এরকমি ছিলো!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


