somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তনু প্রহসন

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তনু গত হল দেখতে দেখতে প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই প্রহসনের শেষ কোথায়? আমরা কি তনু হত্যার প্রতিবাদ করছি না প্রহসন করছি? আমরা কি তনুকে ধর্ষণের প্রতিবাদ করছি না হত্যার প্রতিবাদ করছি? যদি ধর্ষণের প্রতিবাদ করি তবে বাংলাদেশে এখনও গড়ে প্রতিদিন প্রায় জানা অজানার মধ্যে ১০ জন নারী ধর্ষিত হচ্ছে! তাহলে তাদের প্রতিবাদ করছি না কেন? আর যদি শুধুমাত্র ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার জন্য প্রতিবাদ করছি সেক্ষেত্রে কি বাংলাদেশ ধর্ষণ বৈধ হয়ে গেল? হ্যা,,,আমি বলব, " ধর্ষণ এখন বাংলাদেশে বৈধ! নারীরা চাই তাদের কেউ একজন ধর্ষণ করুক জোরপূর্বক বা সম্মতি ক্রমে!! আমার কাছে এই যুক্তির একটি দলিল বিদ্যমান আছে! আর তা হল- এই বারের নারী দিবসে ঢাকার একটা অনুষ্ঠানে মাননীয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য!! তিনি সেদিন নারী কতৃক আয়োজিত নারী দিবসের অনুষ্ঠানে গত পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে ঘটে যাওয়া প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন - " বিশ্ব প্রতিদিন শত শত ধর্ষণ হচ্ছে! সুতারাং বাংলাদেশ এই রকম দুই একটা বিছিন্ন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক! অযথা কিছু মিডিয়া এই ঘটনা কে বড় করে তুলেছে! " তাহলে নারীরা যদি ধর্ষণের পক্ষে না হয় সেদিন আন্দোলন করেন নি কেন? সেই দিন কি নারীবাদীরা সেখানে ছিল না? তখন তাদের প্রতিবাদ কোথায় ছিল? সুতারা এই কথা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে মেয়েরা ধর্ষণের জন্য প্রস্তুত কিন্ত্য হত্যার জন্য বা মৃত্যুর জন্য নয়।
।
।
অন্যদিকে এই তনু ধর্ষণের কারন কি তবে রাষ্ট ধর্ম ইসলাম কে বৈধতা দেওয়ার পূর্ব প্রতিবাদ? যদি তাই না হয় কেন তনুকে ধর্ষণ করে হত্যার পর হিজাব পরিহিতা ছবি টা তুলে ধরে দুর্গন্ধ ছড়ানো হচ্ছে? কেউ কি জানেন যে সময় তনু ধর্ষণের শিকার তখন কি সে হিজাব পরা ছিল? তাহলে কেন অনেকেই এই হিজাব ও পর্দা সংক্রান্ত বিষয় টেনে ইসলাম কে কলুষিত করছেন? ইসলাম কি এত সহজ যে পর্দা ব্যবহার করলেই ধর্ম পালন হয়ে যাবে! হিজাব পরিধান করলেই কেউ ধর্ষণ হবে না? ইসলাম তো এটাও বলেছে যে নারীরা একা একা রাস্তায় বের হওয়া যাবে না, যদি প্রয়োজন পড়ে সে ক্ষেত্রে বৈধ ব্যক্তি যেন তার সাথে থাকে!! তাহলে আমি বলব- এটা তনু হত্যার প্রতিবাদে প্রহসন ব্যতিত আর কিছুই না। যারা রাষ্ট ধর্ম ইসলাম কে হত্যা করার জন্য এমনটা করেছেন তাদেরও মুক্তি নাই। কারন ইসলাম ধর্মের হেফাজত কারী সয়ং আল্লাহ নিজেই।
।
।
" বিচার মানি, তাল গাছ আমার!" এই মনোভাব টা পরিবর্তন করেন। যারা এখন বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এত নিরাপত্তা শর্তে কি করে এমন হত্যা কাণ্ড হল! কারও কি বিডিআর বিদ্রোহের কথা মনে আছে? পিলখানার মত জায়গায় যদি এত বড় হত্যা কান্ড হতে পারে সেখানে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট!! যদি কেউ বিশ্বাস করেন যে পিল খানা হত্যা কান্ড রাজনৈতিক মদদের ফল তাহলে এটা সেই রকম একটা বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত!! যা আমরা সাধারণ লোকজনের খালি চোখে দেখা যায় না। যারা এই বিষয়টা নিয়ে দেশের একটা সামরিক বাহিনীর দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলছেন তাদের উচিত একটু ভেবে চিন্তে কথা বলা! কেননা এই সেনা বাহিনী আমাদের অহংকার! আমরা তাদের জন্য গর্ববোধ করি। অন্যদিকে তনুও আমাদের বোন, তাই প্রশাসন কে তার কাজ করতে দিন। অযথা বাড়াবাড়ি ও তির্যক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। আর প্রশাসন যদি তার কাজে ব্যার্থ হয় তার জন্য সরকার দায়ী! আর সরকার দায়ী হলে আমরাই তার জন্য দায়ী! কেননা সরকার আমরা চালাই। সরকার আমরা বানাই! মনে রাখা উচিত- আমরা সেনা বাহিনী চালাইও না বানায়ও না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান! সরকার যা আদেশ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাই পালন করে। সুতারাং কারও দিকে আঙ্গুল তোলা একধরনের বোকামি!!! তবে সরকারের উচিৎ হবে অতি দ্রুত এই ধরনের হত্যা কাণ্ডের বিচার করা এবং ধর্ষণ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া! অন্যথায় আবার আইয়্যামে জাহেলিয়াত যুগের উদয় হবে!!
নারীদের বিপক্ষে হয়তো সব গুলো কথা বললাম,,, কিন্তু আমি নারীদের বলিনি,,,,যাদের বিবেক ধর্ষণের শিকার আমি তাদের বিপক্ষে বলছি! পুরুষ হিসেবে আমি লজ্জিত এই জন্য যে! ' এখনও পর্যন্ত আমরা দেশের মাঠিকে মা-বোনে ও স্ত্রী সহ নারী জাতির জন্য নিরাপদ গড়ে তুলতে পারিনি। ছি! ছি! ছি!!
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×