somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মানবতার দ্বারে একটি বিনিদ্র রাত্রি"

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"মানবতার দ্বারে একটি বিনিদ্র রাত্রি"-"অন্য আমি"

একটি কংক্রিটের নগরী আর আমি, সাথে ছিলও একটি রাত জাগা নিয়ন বাতির ল্যাম্প পোস্ট আর কিছু কার্বন ছড়ানো তীব্র গতির যান, কিছু নির্ঘুম অচেনা মানুষ। বিধাতার এই বিশাল দুনিয়াই যাদের মাথা গোজার এতটুকু জায়গা নেই, তাদের পাশে নিজেকে একটু দাড় করিয়ে, খুজে পেতে চেয়েছিলাম মানবতার সেই স্বপ্ন দ্রষ্টাদের। যাদের মানবতার মহান বানী আর উদারতার সর্বচ্চো সীমাটা কোথায় এসে থেমেছে, তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্বচক্ষে নয়ন বন্ধি করার জন্য। হীমশীতল বাতাস কতটা উষ্ণতার পরশ দিচ্ছে এই রাত জাগা অচেনা পরিশ্রান্ত জীবন পথের যাত্রীদের, তা হয়তো দিনের আলোতে হাজারো মানুষের মাঝে উপলদ্ধি কর সম্ভবপর নই; তাই গভীর রাত্রিই শুধু মাত্র এদের জীবনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে আলোর ভুমিকা পালন করে। আসলে দিনের আলো আর এদের ভাগে জোটে না তাই আর কি ! দিনের আলোর ভাগ এদের দেওয়ার জন্য হয়তো বিধাতা নিজেও একটু বেশীই কৃপণতা দেখানোর চেষ্টা করেন,বিধাতাকে দোষ দিয়ে আর কি লাভ ! দিনে যতটুকু আলো এ বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তা তো ভদ্র মহোদয়দের দেওয়ার জন্যই যথেষ্ট হয়ে ওঠে না; আর যথেষ্ট কিভাবে হয় মহোদয়গণের আবার আলোক সঞ্চয়ের একটা ব্যপার আছে না ! আলোর ভাগ কোথা থেকে দেবেন বিধাতা এই ফুটপাতের কোমল বিছানায় রাত্রি পারি দেওয়া যাত্রীদের ! আর যদি ভদ্র মহোদয়গণ এই কংক্রিটের নগরী না গড়তেন তাহলে কি, এ যাত্রীগণ এত কোমল সান করা চকচকে বা আরামদায়ক বিছানার উপর পলিথিন বিছিয়ে, এই বাংলার ধূলিকণা আর ভদ্র সমাজের ফেলে দেওয়া নোংরার মাঝে ক্ষুধার্ত রাত্রি কাটানোর সুযোগ পেতেন কিভাবে ? আসলেই অযথায় ভদ্র সমাজের মানুষদের দিকে ভুল বাক্য প্রয়োগ করেছি ! আসলের তারা তো আর কম করছেন না ! যখন কুয়াশার সাথে তীব্র শীত এসে হাজির হয় তখনতো বাক্সের মধ্যে শীতবস্ত্র খুজতে যেয়ে দু এক খান জীর্ণ শীতবস্ত্র খুজে পেলে তা তো এই যাত্রীদের জন্যই তারা উৎসর্গ করেন পরম মমতাই, আর উৎসব পার্বণে তো এদের মাঝে খাদ্য আর কাপড় বিলি করার জন্য তারা লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার প্রতিযোগিতা করেন। তার এর চেয়ে আর বেশী কি করতে পারেন বলেন তো, এনাদেরও তো একটা জীবন আছে না কি ! আর দেশে পরিচালকগণদের দৃষ্টি কেনই বা শুধু শুধু আকর্ষণ করতে চাইছেন বলেন, তাদের কত শত হাজারো মাথা ব্যথা আছে ভাবেন তো, এ কাজ সে কাজ, এ চিন্তা ও চিন্তা; সারাদিন পরিশ্রম করে এসে কি দু দণ্ড বিশ্রাম না নিয়ে আপনাদের পাশে এসে সারা রাত জেগে ঘুমপাড়ানি গল্প শোনাবে না কি মশাই ? দেশটাকে আগে বাড়াতে হবে না ? আর যদি আপনাদের নিয়েই ভাবে তাহলে আর এই নিয়ন আলোর নিচে চটের বস্তা শরীরে চেপে ঘুমানো চলবে না, তখন আলোহীন রাত্রি কাটাতে হবে ! মশাই, রাতে আলো পাচ্ছেন তো তাই এতো দুর্নাম, যেদিন বাড্ডার ফুটপাতে ঘুমিয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনি কমলাপুরে, সেদিনই আপনাদের বোধোদয় ঘটবে আর তখন স্যলুট ঠুকে এই দেশ পরিচালকদেরকেই বাহবা দিবেন ! বস্ত্র, খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাই খোজার কথা ভুলে যান আসুন একটু পরিশ্রম করে আরও কতটুকু আলো পৃথিবীতে ঢোকানো যায় তার ব্যবস্থা করি, নইলে বছর শেষে এই জীর্ণ বস্ত্র আর গোস্তের কথাও ভুলে যেতে হবে জীবনের অর্থ ভুলে যাবার মত।

বিঃ দ্রঃ আমি কাউকে ছোট করার জন্য কোনো বক্তব্য দিতে চাই নি, শুধু বোঝতে চেয়েছি এই রুপকের মাঝেই হয়তো খুজে পাওয়া যেতে পারে; আপনার আমার করনীয় বিষয়গুলি। মানুষের মুখে এক ফালি চাঁদের হাসি ফোটানো হয়তো খুব বেশী কষ্টের কাজ নাও হতে পারে। আপনি আমি সবাই মিলে যদি এ মানুষগুলির পাশে দাড়ায় হয়তো এরাও একদিন আপনার আমার মত একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবে। আসুন বিজয়ের এই রক্তিম আলোকে সঙ্গী করে, সাহায্যের হাতকে পসরিত করে এদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করি। এ কামনায় -"অন্য আমি"
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×