somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খ্যাতি প্রক্রিয়ার উপাখ্যান (২য় পর্ব)

১৩ ই মে, ২০০৭ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অ্যাড প্রকাশের পূর্বের দিনই একটা অফিস রুম এবং একজন সার্বক্ষণিক তত্বাবধায়কের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অফিস রুম হিসাবে মিঃ দীপ্তর নিচতলার একটা রুম বেছে নেয়া হয়েছিল কারন নিচতলা টা পুরোটাই ছিল ওনার অফিস। বাহিরের দিকের একটা রুম পুরোপুরি এই কাজের জন্যে ছেড়ে দেন তিনি তার ব্যক্তিগত সহকারী মিস সুবর্ণাকে।

অ্যাড প্রকাশের দিন সকাল থেকেই সুবর্ণা অফিসে বসে রিসিভ করতে শুর করেছিলো সবার ফোন এবং কাজটা সে করছিল তার স্বভাব সুলভ হাস্যজ্বল মুখে। বসদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সে জানিয়ে দিচ্ছিল আগামী ৩ দিন মানে নেক্সট শনিবারের মধ্যে একটি সাদা কাগজে যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছে সেই নম্বরটি এবং ফোনকারী ব্যক্তিটি কোন বিষয়ে প্রতিভাবান মনে করেন নিজেকে সেটি সহ অ্যাডদাতা তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তার প্রতিভা বিকাশ করতে পারবেন বলে কেনো সে বিশ্বাস করে তার কারন সংক্ষেপে লিখে অফিসের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে। সুবর্ণা তাদের সাথে সাথে এ কথাও জানিয়ে দিচ্ছিল যে যথাসময়ে তাদের নম্বরে এসএমএস করে অফিসের ঠিকানা জানিয়ে দেয়া হবে।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্রয় এতটাই খ্যতিমান বা ক্ষমতাধর ছিলেন যে মোবাইল কোম্পানীকে বলে তারা সহজেই ব্যবস্থা করেছিলেন ৩দিনের জন্যে তাদের ঐ নতুন অফিসিয়াল নম্বরে যত কল রিসিভ করা হবে তাদের সকল নম্বরে অফিসের অ্যাড্রেস অটোমেটিক এসএসএস হয়ে যাবে। এছাড়া তারা আরও ব্যবস্থা করিয়েছিল ৩ দিন পর যারা ফোন করে আবেদনের ইচ্ছা প্রকাশ করবেন তাদের ফোন রিসিভ করা হবেনা এবং তাদের কে অটো অ্যানসার শোনানো হবে এই বলে যে,
‘ আপনি দেরী করে ফেলেছেন বলে আমরা দুঃখিত, মনে রাখবেন প্রতিভাবানরা সময়ের কাজ সময়েই করে থাকে।’

চরম প্রতিভাবান এবং সাথে সাথে খ্যাতিমান অথবা কেবল চরম খ্যতিমান ব্যক্তিমাত্রই একটু খামখেয়ালীপনা হয়ে থাকেন, এইটাই স্বাভাবিক ধরা হয়। তাই উক্ত তিন খ্যাতিমানের এই ধরনের খেয়ালী কর্মের পেছনে মূলত প্রক্ষাপট কি ছিল জানা দরকার।

আইডিয়াটা প্রথমে আসে সূচিত্রা চৈতালীর মাথায় । হঠাৎ করেই । তবে হঠাতেরও একটা কারণ থাকে। সেরূপ কারনও ছিল। তারা তিনজন মানে সূচিত্রা, তার স্বামী মিঃ দীপ্ত এবং মিঃ বঙ্কিম একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার জায়গাটা ছিল কামরুল আহসান দীপ্ত সাহেবের ড্রইং রুম। যে কোন আড্ডাতেই এই তিনজন সামনে নিয়ে বসেন একই সাথে ভদকা, হুইস্কি আর ওয়াইন এর বোতল। সাথে বিয়ারের ক্যানও। মাতাল হবার জন্যে নয়। আড্ডার মাঝে তর্ক যেন চরমে পৌঁছাতে না পারে তার থেকে মুক্তির জন্যে একটা শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে। এটা অবশ্য কোন যুতসই কারন নয়। আসলে কোন কারনই দরকার নেই। তারা সবসময়ই ড্রিংকস করেন তাই তাদের ত্রয়ী আড্ডাতেও চলে তাই। কিন্তু মিঃ দীপ্ত আবার সব কাজে কারনে বিশ্বাসী। তাই একটা কারন বের করে দিয়েছে মিঃ বঙ্কিম। আর নানাপদের ড্রিংকস রাখার ব্যাপারটিকে তাদের খ্যতির নানাদিকের সাথে কমপেয়ার করা যেতে পারে।

তারা যখন আড্ডা দিচ্ছিলেন ঠিক সে সময় তাদের সামনে অন করা টিভিতে চলছিল একটি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগীতা। আজকাল তো টিভি খুললেই দুটো জিনিসই দেখা যায় বারংবার , এক ঐ প্রতিভা অন্বেষণ আর ২য় হলো দেদারসে টক শো, এদেশের সবাই যেন কেবলই বলতে জানে, সব জানে, কথার ঝরাতে পারে অনবরত ফুলঝুরি। প্রতিভা অন্বেষন অনুষ্ঠানটির নামছিল ‘ বাংলার শিল্পী তুমিই’।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×