আজ অনেকদিনের পুরানো বই-খাতা ঘাটতে গিয়ে আমার ছোটোবেলায় লেখা ডায়েরীর কিছু পাতা খুঁজে পেলাম। লেখাগুলো পড়ে পুরনো অনেক কথা মনে পরে গেলো,একাই অনেকক্ষণ হাসলাম। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি।
এই লেখাটি আমার এস.এস.সি পরীক্ষার একমাস পরে লেখা। রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' পড়ে শেষ করার পর আমার অনুভূতি...
'কাল সারারাত্রি বসিয়া রবীন্দ্র সমগ্র পড়িলাম । আমার ধারণার মাঝে ছিলো না, একটি পুস্তকে কি করিয়া এতো আনন্দ থাকে ! সেই বই পড়িয়া ক্ষণে ক্ষণে আমার পুলক অনুভব হইতেছিল । ঘটনার প্রবাহক্রমে আমার হৃদয়ের মাঝেও যেন আন্দোলন শুরু হইল । আমি অবাক হইয়া গেলাম , কেমন করিয়া এ সম্ভব ? একটি সামান্য বইকে লেখক কীরুপে জীবনের এতো কাছাকাছি করিয়াছেন ! নারীমনের সকল বন্ধ দুয়ার তিনি যে অনায়াসে অতিক্রম করিয়াছেন , তা বোধ করি অন্য কোন লেখকের নিকট দুঃসাধ্য ঠেকিবে ! তাহার বইয়ের সকল চরিত্রে আমি যেন আমাকেই খুঁজিয়া পাইলাম । একেকটি ঘটনার মধ্য দিয়া আমি আমার বোধ, চেতনাকেই উপলব্ধি করিতে থাকিলাম । জানিনা লেখক কীরুপে এই অসাধ্য সাধন করিয়াছেন ! চারুবালা,বিন্তি,নির্ঝরিনী,মৃন্ময়ী সবই যেন আমি । লেখকের কল্পনার সহিত আমিও ছুটিয়া চলিতে লাগিলাম সকল বাধা অতিক্রম করিয়া । কখনো পল্লীবালিকা,কখনো বা অভিমানী গৃহবধূ কখনো বা বাল্যবিধবা হইয়া আমি তাহাদের সকল সুখ-দুঃখ অনুভব করিতে লাগিলাম । বইখানি পড়িতে পড়িতে কখন যে আমি আমার ক্ষুদ্র গন্ডি হইতে বাহির হইয়া পড়িলাম আমার পাশে বসিয়াও আমার বোন তাহার বিন্দুমাত্র টের পাইল না ! এক আশ্চর্য জগৎ হইতে আমি ঘুরিয়া আসিয়াছি । লিখিতে লিখিতে এখনও হঠাৎ হারাইয়া যাইতেছি । ভালবাসার স্নিগ্ধতায় ভরা, মায়া দিয়ে গড়া সকল মানুষকে এতো আপনার মনে হইতেছিল । তাহারা যেনো আমারই পরিজন , আমারই বন্ধু ।
থাক, এখন আর লিখিতে হইবে না, বাবা আসিয়া এই লেখা দেখিলে আমাকে আর আস্ত রাখিবেনা।'
বি.দ্রঃ সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ সহনীয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


