মা 'ঊর্মিলা', আজ খুব মনে পড়ছে তোমাকে,
যখন তুমি কোলে নিয়ে,
স্নান করাতে আমাকে।
আমার হাতে পায়ে চুমু দিয়ে,
হাসিমাখা মুখে, তুমি বলতে-
"ওরে আমার রাজা কৃষ্ণনাথ রায় রে,
আমি তোর মূর্খ মা রে।
কেমন করে-
মানুষ করবো তোকে।
লেখাপড়া জানি নে,
ওরে আমার রাগী রাজা রে।
বড় হয়ে-
ক্ষমা করিস তোর এই মূর্খ মাকে।
শিখি নি কখনো জীবনে
কেমন করে মানুষ করতে হয় রাগী রাজাকে।
তুই যে আমার কাশিমবাজারের রাজা,
তুই যে আমার রাগী সোনা।
বড় হলে-
ক্ষমা করিস তোর মূর্খ মাকে।
আমার বাবা, আমার মা, আমার অল্প বয়সে
বিয়ে দিয়েছে,
তুই আমার কৃষ্ণনাথ, আমার কোল জুড়ে-
আলো করেছিস, আমার কুঁড়ে ঘরে এসে।
ওরে আমার রাজা কৃষ্ণনাথ, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে
তুই এসেছিস আমার কুঁড়ে ঘরে।
আমি কি আর পারবো তোকে
রাজবাড়ির মতোন করে
মানুষ করতে।
আমি যে তোর মূর্খ মা রে-
বড় হয়ে
ক্ষমা করিস তোর মূর্খ মাকে।
রাজা কৃষ্ণনাথ, তোকে
মানুষ করতে গিয়ে
আমি ঊর্মিলা ভুল করে ফেললে-
বড় হয়ে ক্ষমা করিস তোর মূর্খ মাকে।
রাজা, আমার কোন দাস দাসী নাইরে,
তোকে আমি রাখবো কার কাছে।
আমি একা, এক হাতে
তোকে তুলবো মানুষ করে।
ওরে আমার রাজা কৃষ্ণনাথ রায় রে।
আমি তোর মূর্খ মা রে,
জোড় হাতে ক্ষমা চাইছি তোর কাছে,
ভুল করে থাকলে,
ক্ষমা করিস ঊর্মিলাকে।
রাজা কৃষ্ণনাথ, আমি তোকে
কোথায় রাখবো রে?
নেই তো আমার ঘরে-
সোনার পালঙ্ক, দোলনা তোর জন্যে,
নেই তো সোনার থালা বাসন তোর জন্যে।
রাজা, তুমি কি এসেছো আমাকে পরীক্ষা করতে,
কেন তুমি এসেছো আমার মতোন গরিবের ঘরে?"
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




