কোথায় যেন ব্যাপারগুলো বেশ জটিল হয়ে গেছে। টের পাই। কিন্তু সুতোর প্রান্ত খুঁজে পাই না। সকালটা আসে আলাদা একটা এসেন্স নিয়ে। আগের রাতের কথাগুলো মাথায় স্থায়ী আবাস গড়ে। আমি সহজ হতে চাই। সবকিছু সহজ করে নিতে চাই। ভাবতে থকি, এই ‘নাহিয়ান’ প্রসঙ্গটা কিভাবে চাপা দিতে পারি। এর মাঝেই লিপনকে মেসেজ পাঠাই, ‘শুভ সকাল’! চিন্তা করি আজ সকাল থেকে সব আবার গতকালের মতো হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। আর কখনো প্রেম-ভালোবাসা-নাহিয়ান প্রসঙ্গগুলো আসবেই না।কিন্তু তা হয় না...অনাকাংক্ষিত উত্তর আসে-
~ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি নাহিয়ানের বৌ এর মেসেজ!...হ্যাভ আ নাইস ডে
~ দেখো, আমি কিন্তু তোমাকে সাফ সাফ বলে দিচ্ছি, ফারদার আমাকে নাহিয়ানের বৌ বললে দেয়ার উইল বি নো রিপ্লাই ফ্রম মি এনিমোর। কি করলে তুমি এভাবে আমার সাথে ফান করা বন্ধ করবা?
আমি ব্যাপারটা নিতে পারি না। আমার কাছে নিজেকে অসহায় লাগতে থাকে। নিজের ওপর খুব রাগ ওঠে। নিজেকে বারবার প্রশ্ন করি, ‘কেন?’...বুঝতে পারি ছেলেটা ইচ্ছে করে প্রতিবার আমাকে নাহিয়ানের সাথে জড়িয়ে কথা বলছে। কিন্তু কেন ওর এই আচরণ তা বুঝি না। খুব কষ্ট হয়। নাহিয়ানের প্রতি আমার অনুভূতিগুলো নিয়ে আমি বিব্রত হই। খুব কান্না পায় নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে। মনে হয়, নাহিয়ানের প্রতি আমার কোনো প্রকার অনুভূতি না থাকলেই তো আজ আর এই অবস্থাটা আমাকে ফেস করতে হতো না ! আজকে আমি লিপনের কথা ভাবছি, আর সেই লিপনই আমাকে নাহিয়ানের কথা বলে বিব্রত করছে!...ভাবতে ভাবতে কাঁদি আমি...অনেক কাঁদি...অনেক লম্বা একটা সময়ের পর আমি আজ কাঁদলাম। কাঁদতে ভুলেই গেছিলাম প্রায়। আবার সেই কান্না ফিরে এলো...
ছেলেটাকে মেসেজ পাঠাই, ‘আজ মনে হয় আমার খারাপ দিনগুলোর একটা। তুমি আজ আমাকে এমন একটা ফিরিয়ে দিলা যেটা আমি অনেকদিন হলো ভুলে গিয়েছিলাম এবং ভাবছিলাম আমার উজ্জ্বল দিন ফিরে এসেছে...কিন্তু না!...অশ্রু...! আজ তোমার জন্য আমি আবার কাঁদলাম...!!...’
- কাম অন ডারলিং! আমি সত্যি সরি। দেখো আমি এসব করছি কারণ আমি তোমার হৃদয়ে কোনো অবস্থান নিতে চাই না। সামবডি ইজ স্টিল ফ্লাইং ইন ইওর হার্ট। আমি তো তোমাকে বলসি আমি তোমাকে হেল্প করবো।
কথাগুলো আমার বুকে এসে যেন শলার মতো বিঁধে। নিজেকে দেখতে পাই যেন একটা বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে। হঠাৎ যেন একটা তূণ ছেঁড়া ধনুক বাতাস কেটে এসে বিদ্ধ হয় আমার হৃদপিন্ড নামক অঙ্গটিতে। আমি রক্তাক্ত হই...কথাগুলো প্রতিধ্বনিত হতে থাকে বার বার...ছেলেটা কি তাহলে......???
- দ্যাখো, তুমি চাইলেই আমি আমার হার্টে তোমাকে জায়গা দিতে পারি। নাহিয়ানের ব্যাপারটা একটা ইমোশনাল ব্রেকডাউন ছিলো। আর আমি সেটা কাটিয়ে উঠছি !! তুমি যদি আমার হৃদয়ে অবস্থান নাও, আমি নিশ্চিত যে আমি পুরোপুরি এটা কাটিয়ে উঠতে পারবো...
- তুমি আমাকে এখনো দেখো নাই, আর তুমি ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছো!...আর সামনে পরীক্ষা অন্য সব চিন্তা বাদ দাও। প্রথম আমাকে আমার ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে হবে, তারপর অন্য সব কিছু নিয়ে ভাববো...আমাদের একটা ব্রেক দরকার। আমরা আবার ১৪ এপ্রিল কথা বলবো, সুইটু’।
- আমিও একটা ব্রেক চাই- এই একাকীত্ব থেকে। আমি এমন কাউকে চাই, যে আমাকে ইন্সপায়ার করবে, আমার যত্ন নেবে, আমাকে সারাদিন, সারারাত হাসি মুখে রাখবে। আমি ভালোবাসা পেতে চাই, যা আমাকে এই আবেগতাড়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসবে। ... কাউকে ভালোবাসতে হলে তো জানার প্রয়োজন নেই সে দেখতে কেমন, যদি আমি জানি তার খুব সুন্দর একটা মন আছে!...যাই হোক, আমার মনে হয় আমার একগুয়েমিতে তুমি বিরক্ত হচ্ছো...
- একদম না...জিদ আবেগেরই একটা অংশ। কিন্তু আমার এসব জিদ নাই। এইজন্য মা আমাকে মেয়ে বলে। ...ঠিক আছে, তোমার একাকীত্বের জন্য আমরা আজ সারাদিন কথা বলবো। কাল সকাল থেকে আমরা ব্রেক নেবো। তোমার সম্পর্কে এমন তিনটা কথা বলো যা আমি জানি না...
[ ছেলেটার এই আচরণ আমার ভালো লাগে। মনে মনে খুশি হই, ছেলেটা কত ভালো !! ]
- ১. আমি ছবি আঁকি, ২. আমি ভালো রাঁধতে জানি, ৩. আমি স্বপ্ন দেখি না...তুমি অনেক কুল, আর সে জন্যই আমি সেদিন সিরিয়াসলি বলেছিলাম যে আমার মতো একটা মেয়ের তোমাকে বিয়ে করা উচিত। ... আচ্ছা, এবার তোমার ব্যাপারে তিনটা অজানা কথা বলো...
- ১. আমার জন্ম সৌদি আরবে। ২. আমি ইতিমধ্যে দুইবার হজ করে ফেলেছি। ৩. আমাদের এতদিনে আমেরিকা থাকার কথা ছিলো, দুর্ভাগ্য যে আমাদের ভিসা চুরি হয়ে যায়। সে অনেক কথা। একসময় বলবো।... চলে গেলে হয়তো তোমার সাথে আমার দেখাই হতো না...
[ কথাগুলো কেন যেন মানতে পারি না। আমেরিকা চলে যাবার কথা!...যদি এখন আবার চলে যায়!...কে বলতে পারে?...তাহলে তো...!! ]
- হয়তো আমাদের মিটিং এর জন্যই তুমি আজও এখানে! একসময় তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাবা তাই না?...আমিই যখন কাউকে কাছে টানতে চাই, সে আরো দূরে সরে যায়। আর যেই তোমাকে আমি ইম্প্রেস করার কথা ভাবতেসি, তুমিও একসময় হারিয়ে যাবা...আমার সাথেই কেন এমন হয়?
কথা আর এগোয় না। কোথায় যেন ছেদ পড়ে যায়। আমার মনে হয় আমি বেশ বড় একটা বোকামি করে ফেলেছি। এভাবে কথাগুলো হয়তো ছেলেটাকে আমার বলা ঠিক হয়নি!...আমি আরো একটু সময় নিতে পারতাম আমার দুর্বলতাটা প্রকাশ করতে......
হঠাৎ যেন সব পালটে যায়...
( চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


