somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাজুগুজু ডাকাতের এ কি কান্ড!

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

সকাল বেলা হই হই শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল। কয়েকটি কণ্ঠ গলগল করে কথা বলছে। ভাল করে কান পেতে শোনার চেষ্টা করতেই পাশের ঘরের দরজা পেটানোর ঠাস ঠাস শব্দ কানে এলো। দরজা পেটানোর পরপরই কয়েকটি আধা মোটা কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পেলাম। আরো ভালো করে কান পেতে কথাগুলো শোনার চেষ্টা করতেই কানে এলো, এই তোরা উঠ, দরজা খোল।

বিষয়টি অবলোকন করার জন্য বিছানা ছেড়ে উঠার চেষ্টা করতেই আমার গিন্নি দেখি হন্তদ›ত হয়ে বাইরে থেকে ছুটে এসে ঘরের দরজা আটকিয়ে দিল। আমি গিন্নিকে জিজ্ঞেস করতেই গিন্নি মুখে আঙ্গুল তুলে ইশারায় আমার মুখ বন্ধ রাখতে বলল। আমিও গিন্নির ভীতু মুখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে কোঁকড়া লেগে গেলাম।

বিছানা ছেড়ে ভয়ে ভয়ে তার কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বললাম, কি হয়েছে?
গিন্নি ফিস্ ফিস্ করে আমার কানে কানে বলল, শাড়ি পইরা মহিলার মত কতগুলা মাস্তান ঢুকছে। সব ভারাইটা গো রুমের দরজা পিটাইতেছে। না জানি সব মাইরা ধইরা ট্যাকা-পয়সা, মাল-সামানা নিয়া যায়। বলেই গিন্নি আমাকে টেনে খাটের কাছে এনে ঘাড় জাতা দিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে বলল, তাড়াতাড়ি খাটের নিচে ছালা গায়ে দিয়ে পালাও।

আমিও বুঝতে না পেরে ছালা গায়ে দিয়ে খাটের নিচে ঢুকতে যাবো অমনি আমার ঘরের ধরজায় ঠাস ঠাস করে পিটানো শুরু হলো। ভয়ে হাত পা অবস হয়ে গেল। খাটের নিচে ঢুকতে গিয়ে খাটের বাইরেই পড়ে গেলাম। গিন্নি আমাকে পড়ে যাওয়া অবস্থায় ছালা দিয়ে পেঁচিয়ে ধাক্কিয়ে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দিল। আমার কলিজায় পানি নেই। মাস্তান যখন এসেছে টাকা পয়সা নিবে তো নিবে জানেও মেরে ফেলতে পারে! ভয়ে ছালাসহ কাঁপতে লাগলাম। একটু পরে আবার ঠাস্ ঠাস্ দরজা পিটানো শুরু হলো। আমার অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা। এমন সময় মোটা গলায় আওয়াজ হলো, এই দরজা খোল, নইলে কিন্তু দরজা ভাইঙ্গা ফালামু। বলেই আবার দরজা পিটানো শুরু করল। একজন আধা মহিলা কন্ঠে বলল, এই রুপভানের মাও, দরজা খোল। আমাগো দেইখা দরজা দিলি ক্যা? আমরা কি মানুষ না? আমাগো তোরা ঘিন্না কইরা দরজা দ্যাশ। মনে করছা দরজা দিলেই আমরা চইলা যামু। তগো ঘর থিকা বাইর না করা পর্যন্ত এক পাও নরমু না।

দরজা পিটানো আর ওদের কথা শুনে আমার তখন হুশ হারা হওয়ার অবস্থা। গিন্নিও ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে বসে পড়েছে।

এমন সময় আমার এক ভাড়াটিয়া আমাকে ডাক দিয়ে বলল, ভাই দরজা খোলেন, এদের আগে বিদায় কইরা দেন। নইলে কিন্তু ঘরের বাইরে বারাইতে পারবেন না।

আমি আমার ভাড়াটিয়া মইদুলের কথা শুনেও কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলাম। কারণ মনে মনে ধারনা করে নিলাম, হয়তো মইদুলের মাথায় পিস্তুল ঠেকিয়ে আমার ঘরের কাছে এনে আমাদেরকে সহজেই দরজা খোলানোর জন্য ওকে দিয়ে কথাগুলো বলানো হচ্ছে। ভয়ে আল্লাহ আল্লাহ করতে লাগলাম। আমার গিন্নিও দোয়া ইউনুস পাঠ করতেছে। এমন সময় মোটা দরাজ গলায় বলে উঠল, এই মিয়া, বাড়িওয়ালা কোন ঘরে থাকে রে? হেই ঘর আগে দেহায়া দে, বাড়িওয়ালারে আগে সাইজ কইরা নেই, তার পরে অন্য ঘরে যামু।
মইদুল বলল, ওইটাই বাড়িওয়ালার ঘর।

এ কথা শোনার সাথে সাথে ঘরের দরজার কাছ থেকে একজন বলল, এই নছিমন, তোরা সবটি এইহানে আয়। আগে বড়িওয়ালারে সাইজ করি। তার পর ভাড়াইটাগো ধরমু।

ওদের এই কথাগুলো বলার পর পরই অনেকগুলো পায়ের শব্দ শোনা গেল। দরজায় জোরে জোরে থাপপর দিতে লাগল। পারলে দরজা ভেঙে ফেলে। আমি মনে মনে মইদুলের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে গালাগালি দিতে লাগলাম। কারণ মইদুল যদি ঘর দেখিয়ে না দিত তাহলে হয়তো ওরা এভাবে আমার ঘর এ্যাটাক করতো না। এবার বাড়িওয়ালা হিসাবে আমার ঘরের জিনিষ পত্র তো নিবেই, সাথে আমাকেও হয়তো মেরে ফেলবে।

মোটা গলায় আবার বলল, ওই বাড়িওয়ালা দরজা খোল, নইলে এমন কাম কইরা যামু সারা জীবন আমাগো কথা মনে করবি।

মনে মনে ভাবলাম, হয়তো আমাকে পেলেই ওরা পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙে আধামরা করে যাবে। যা সারা জীবন মনে করতে হবে।

আবার ঠাস্ ঠাস্ করে দরজায় পিটাতে লাগল। জোরে পিটানোর পরও যখন দরজা খুলছি না তখন একজন আরেকজনকে নাম ধরে ডাকছে, এই নছিমন, বাড়িওয়ালা যহন দরজা খুলবো না তহন দরজার ফাঁক দিয়া ঘরের মইধ্যে মুইতা দে।

একথা বলার পরপর মইদুল বলে উঠল, ভাই দরজা খোলেন, ওরা ঘরের দরজায় মুইতা দিল তো! মইদুলের কথা শুনেও দরজা খুলতে সাহস হলো না। মনে মনে ভাবলাম মুতে মুতুক, তবু ঘরের দরজা খোলা যাবে না, খুললেই ডাকাতি করবে, জানে মেরে ফেলবে।

মইদুল আবার ডেকে উঠল, ভাই তাড়াতাড়ি দরজা খোলেন, নইলে কিন্তু সবটি মিল্লা ঘরের দরজায় মুইতা দিব। সবটি মুতলে কিন্তু ঘরে থাকতে পারবেন না। ঘর ভাইসা যাইবো।

মইদুলের কথা শুনে মনে মনে ভাবলাম, মুতের বাহানা করে আমাকে দিয়ে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা। মুতের ভয় দেখিয়ে দরজা খুললেই ডাকাতি করবে। ওদের মুতে ঘর ভাসে ভাসুক, তবু ওদের হাতে মাইর খাওয়া যাবে না।

আমি যখন ডাকাতি আর নিজের জানের চিন্তায় হুশ হারা সেই সময়ে একজন মোটা গলায় বলল, হারামজাদা বাড়িওয়ালা এতো খারাপ, এক পোয়া চাইল দেয়ার ডরে দরজাই খোলে না। এরকম কৃপণ বাড়িওয়ালা তো জীবনে দেহি নাই। ঘরের দরজার ফাঁক দিয়া মুইতা দিবার চাইলাম তাও ঘর খোলে না। এই এককাজ কর। হারামজাদা বাড়িওয়ালার চাইল নিমু না। সবটি মিলা ঘর ভইরা মুইতা দে। তহন বুঝবো হিজড়া গো ঠকাইলে কেমুন মজা।

হিজড়া শব্দ কানে আসতেই হুশ হলো। গায়ে থেকে ছালা ফেলে দিয়ে চট করে খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এসে গিন্নিকে বললাম, এই দরজা খুলে দাও।

গিন্নি ভয়ে চোখ বন্ধ করে আল্লাহ আল্লাহ করতেছিল। দরজা খুলতে বললেও শুনতে পেল না। ভয়ে মনে হয় কান বন্ধ হয়ে গেছে। দুই তিন বার ডাক দিয়েও যখন চোখ খুলছে না তখন গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিতেই ভয়ে ‘আউ আউ’ করে উঠল।

আমি ধমক দিয়ে বললাম, আরে পাগোল দরজা খোল।
বউ কাঁপতে কাঁপতে বলল, দরজা খুললে যদি ওরা পিটন দেয়।
আমি বললাম, না না পিটন দিবে না, ওরা হিজড়া, চালের জন্য এসেছে।
আমাদের কথা শুনে এক হিজড়া বলল, এই বাড়িওয়ালা, তোরা কি কথা কস?
আমি বললাম, তোদের চাইল দেয়ার কথা বলতেছি?
হিজড়া বলল, চাইল লাগবো না তুই বাইর হ, তরে একনজর দেইখা যাই।
গিন্নি দরজা না খোলায় আমি নিজেই দরজা খুললাম। দরজা খুলতেই হইহই রইরই করে এসে ওরা আমাকে জড়িয়ে ধরল। পাঁচ জনের চিপায় পরে দম বন্ধ হয়ে মরার অবস্থা। আমাকে জড়িয়ে ধরা দেখে গিন্নি হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। মইদুল আমাকে জড়িয়ে ধরা আর গিন্নির কান্না দেখে হা হা করে হেসে উঠল। আমি খুব বিব্রত অবস্থায় পরে গেলাম।

আমি ওদের উদ্দেশ্য করে বললাম, এই তোরা হুড়াহুড়ি করবি না চাল নিবি?
মোটা কণ্ঠওয়ালা হিজড়া বলল, আইজ আর চাইল নিমু না, তুই কেমন বাড়িওয়ালা, ঘরের দরজা বন্ধ কইরা হুইয়া থাকোস, আমাগোরে পাত্তা দিবার চাস না, তাই তরে একটু সাইজ কইরা লই।
আমি বললাম, আমাকে সাইজ করলে কি চাল পাবি, আমারে ছেড়ে দিয়ে চাল নিয়ে যা।
আধা বয়েসি এক হিজড়া বলল, আমাগো এতক্ষণ ভোগাইছস, এহন আর এক পোয়া চাইল নিমু না। এক কেজি চাইল দিবি আরও একশ’ ট্যাকা দিবি।

আমি বললাম, ঠিক আছে তাই দিতেছি, বলেই গিন্নিকে বললাম, তাড়াতাড়ি এক কেজি চাল আর একশত টাকা দিয়ে দাও।

গিন্নি একশত টাকা বের করতে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে পাঁচশত টাকার নোট বের করে আনলে হিজড়ারা থাপা দিয়ে গিন্নির কাছ থেকে টাকা নিয়েই দৌড়। গিন্নি কিছু বলার সুযোগই পেল না।

আমি গিন্নির দিকে বড় বড় চোখ করে বললাম, ওরা চাইল একশত টাকা আর তুমি পাঁচ শ’ টাকা দিয়ে দিলে?

গিন্নি তখনও কাঁপতে ছিল, ধরা গলায় বলল, ওরা যদি আবার তোমাকে চ্যাঙদোলা করে তুলে নিয়ে যায়, সেই ভয়ে কোনটা পাঁচ শ’ টাকা আর কোনটা এক শ’ ট্যাকার নোট চিনবার পারি নাই।

বুঝতে পেলাম গিন্নি হিজড়া দেখে ভয় না পেলেও হিজড়াদের কর্মকান্ড দেখে ভয় পেয়েছে। গিন্নির ভয়ের কারণ শুনে আর কোন কথা বললাম না।

মইদুল বলে উঠল, ভাই, ভাবী ঠিকই কইছে, ওরা যদি চ্যাংদোলা করে ঘাড়ে কইরা আপনারে নিয়া যাইতো তহন পাঁচ হাজার টাকা দিয়াও ফিরায়া আনা যাইত না। কাজেই পাঁচ শ’ ট্যাকা গ্যাছে যাক হিজড়া তো বিদায় হইছে।

(বিদ্রঃ এঘটনার নায়ক কিন্তু আমি নই আপনারা যারা বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই।)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৩
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×