
শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক
গরু-ছাগল বেঁচে দিয়ে ঘোষ পাড়ার আক্তার
তিনখানা বই কিনে হলেন তিনি ডাক্তার।
ডাক্তারী নামে নয় চেনে বেশি হাতুরে
চেহারেতে মনে হয় যেন ঘুম কাতুরে।
ডাক্তারী করার আগে করে নেয় চুক্তি
’টাকাটা আগে দিবেন’, এটা তার উক্তি।
পাল পাড়ার হালদার হলো তার কাশি যে
খেয়ে নিল পেট ভরে, ছিল ভাত বাসি যে।
শ্বাস নিতে হাঁস-ফাঁস, তাই খোঁজে ডাক্তার
অবশেষে খুঁজে পেল ঘোষ পাড়ার আক্তার।
কাশির কথা বলতেই বই খুলে দেখে সে
‘লোহা পুরে দাগ দাও’ আছে বইয়ে লেখা যে।
অবশেষে টাকা নিয়ে দাগ দিল পাছাতে
পরদিন ব্যাথার জ্বালায় দায় হলো বাঁচা যে।
গঞ্জেতে গেলেন তিনি বড় ডাক্তার খানাতে
চুপ-চাপ বসে রইলেন রোগের কথা জানাতে।
নাম ধাম লিখে নিলেন ডাক্তারী খাতাতে
পাছায় দাগ দেখে তিনি হাত দিলেন মাথাতে।
‘কোথা পেল এমন ঔষধ, কোথাকার কে সে,
কোন বইয়ে আছে লেখা, দেখায় যেন এসে।
কথা শুনে আক্তার বার বার পরে বই
চিকিৎসায় নহে ভুল, আমি তো আর কাঁচা নই?
বই নিয়ে চলে এলো মাধবপুরের গঞ্জে
নিজ চোখে পড়া বই, নয় ভীতু মন যে।
বড় ডাক্তার পড়ে দেখে ‘পাছায় দাগ’ মিথ্যা নয়
পরের পৃষ্টায় লেখা আছে ‘যদি রুগী পশু হয়’।
পশুর চিকিৎসা যদি মানুষ-জনকে করা যায়
সেই রোগী কভু কি আর সুস্থ জীবন ফিরে পায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




