
ভদ্র লোকের নাম আব্দুল লতিফ খান। দীর্ঘ দিন হলো তিনি একটি সংবাদ সংস্থায় কাজে নিয়োজিত আছেন। আগামী ২৯শে ডিসেম্বর তার অবসর গ্রহণের তারিখ। ছেলেমেয়ারা এখনও স্কুল কলেজে পড়ে। উপার্জন করার মত এখনও কেউ উপযুক্ত হয়নি। অঢেল টাকা পয়সাও নেই বসে বসে খাবে। চোখে মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ। চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি কিভাবে সংসার চালাবেন, সেই চিন্তায় মুষড়ে পড়েছেন। তার মুখের দিকে তাকিয়ে বিমর্ষিত হলাম।
দুপুরে অফিসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। লতিফ খান আমার পুরানো কলিগ। অনেক ভাল লোক। কাজ কর্মে ফাঁকিবাজী, ছলচাতুরী, ধাপ্পাবাজী তার মধ্যে নেই। বেতনের উপর নির্ভর করেই সংসার চলে। আড্ডার একপর্যায়ে অবসর গ্রহণের তারিখ জিজ্ঞেস করতেই হাসি মুখে তারিখ বলেই মুখটা কালো করে ফেললেন। তার এমন আচরণ দেখে কৌতুহল জাগল। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে সাহস পেলাম না। কারণ তার সাংসারিক অবস্থা কিছুটা আমার জানা আছে। কিছুক্ষণ পর তার চোখের দিকে তাকিয়ে লজ্জিত হলাম। চোখ দু’টো জলে টলটল করছে। আরেকটা কথা বললে হয়তো বরষা নামবে। আর কোন কিছু না বলে আস্তে করে উঠে এলাম। নিজের চেয়ারে বসে তার কান্না ভেজা চোখ দু’টো আমার চোখে ভাসতে লাগল। লতিফ খানের বাস্তব দৃশ্য দেখে ভাবতে লাগলাম, এমন পরিস্থিতিতে শুধু লতিফ খানই নয়, এরকম বাংলার হাজার হাজার লতিফ খান রোজগারের ধারাবাহিকতা বন্ধ হওয়ার আশংকায় অবসর গ্রহণের পূর্বমহুর্তে কেঁদে থাকে।
ছবিটি তুলেছে ফটো গ্রাফার ইয়াহিয়া শামীম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




