somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেলাম হার্টের ডাক্তারের কাছে ডাক্তার করল হাঁটুর চিকিৎসা

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০১৭ সাল থেকে বাম হাঁটু নিয়ে ভুগতেছি। পঙ্গু হাসপাতাল থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত অনেক ডাক্তারের কাছেই গিয়েছি কিন্তু কাজ হয় নাই বরঞ্চ আরো হাঁটুর ব্যাথায় কিছুদিন লাঠি ভর দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। হাটলেই হাঁটু ফুলে যায় এবং প্রচন্ড ব্যাথা করে। অবশেষে গেলাম বেঙ্গালোরে। মজুমদার সাউ হাসপাতালের অর্থপেডিকসের সিনিয়র ডাক্তার দেখানোর পরে তিনি এক্সরে দেখে বললেন, আপনার হাঁটু ক্ষয় হয়েছে এটা রিপিয়ের করতে হবে। বললাম কিভাবে রিপিয়ার করবেন? বলল, হাঁটু কেটে প্লাস্টিকের হাঁটু লাগাতে হবে। বললাম টাকা লাগবে কত? বলল, তিন লাখ রুপি।

দ্বিধা দ্বন্দে পড়ে গেলাম, তিন লাখ রুপি মানে বাংলাদেশের প্রায় চার লাখ টাকা। চার লাখ টাকা না হয় খরচ করলাম কিন্তু নাচারাল হাঁটু কেটে প্লাস্টিক হাঁটু লাগানোর পর যদি ঐ হাঁটুও ক্ষয় হয় তখন কি হবে। নাচারাল হাঁটু কোন না কোন ঔষধে রিপিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিন্তু প্লাস্টিক তো প্লাস্টিকই, ও তো আর নাচারাল হাঁটুর মতো ঔষধে রিপিয়ার হবে না। প্লাস্টিক লাগানোর পরে যদি সমস্যা দেখা দেয় তখন না আবার পুরো হাঁটুটাই কেটে ফেলতে হয়, এই ভয়েই হাঁটুর চিকিৎসা না করে শুধু হার্টের চিকিৎসা করে দেশে ফিরে এলাম।

বাংলাদেশে এসে ছয় মাস পর পর হার্টের চেকাপ করতে ঢাকা যেতে হয়। সিডিউল অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে হার্ট চেকাপের করতে গেলাম। আমি যে ডাক্তার দেখাই সে ডাক্তার কনফেরেন্সে যোগ দেয়ার জন্য আমেরিকা চলে যাওয়ায় অন্য এক ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার আমার দেহ চেকে করে কাগজপত্র ঘেটে জিজ্ঞেস করলেন আপনি সকাল বিকাল কতটুকু হাঁটেন? বললাম, আমি তো হাঁটতে পারি না, হাঁটলেই হাঁটু ফুলে যায় ব্যাথা করে। ডাক্তার আর কিছু বললেন না শুধু হাঁটু দেখলেন। আমার হাঁটুর অবস্থা দেখে ঘচঘচ করে প্রেসক্রিপশ লিখে দিলেন। প্রেসক্রিপশন দেখে আমার চক্ষু চড়ক গাছ, দুই একটা নয় ১৭টি ঔষধ লিখে দিয়েছেন। ওনার এতো ঔষধ লেখা দেখে বিরুক্ত হয়ে মনে মনে বললাম ইনি ডাক্তার না ঔষধ কোম্পানির এজেন্ট। এতো ঔষধ তো কোন ডাক্তারকেই লিখতে দেখি নাই, এতো ঔষধ কেন লিখেছেন এই প্রশ্ন ডাক্তারের মুখের উপরে বলতেও পারছি না বললেই উল্টো দু’কথা শুনিয়ে দেবে।

যাই হোক ডাক্তার যখন লিখেছে উনার সাজেশন মতই ঔষধ খাওয়া শুরু করলাম। এক মাস পরে দেখি পায়ের ব্যাথা অনেকটা কম কম মনে হয়। এখন একটু একটু করে হাঁটতে পারি। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে যতটা না বিরুক্ত হয়েছিলাম পায়ের ব্যাথা কমায় এখন অনেকটা আনন্দ লাগছে। আবার গেলাম ডাক্তারের কাছে। এবার হাঁটুর জন্য দুইমাসের ঔষধ দিয়ে দিল। পুরো ঔষধ খাওয়ার পর এখন হাঁটুর ব্যাথা অনেক কমেছে ৯০% সুস্থ্যবোধ করছি। আগে একশত গজ হাঁটতে পারতাম না এখন দুই তিন মাইল পর্যন্ত হাঁটতে পারি। শুধু হাঁটতে না পারার কারণে আমি এতদিন কোথাও ভ্রমণ করতে পারি নাই এমন কি আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও যাতায়াত কমে গিয়েছিল। এখন আবার আমার আগের মতো ভ্রমণ করতে ইচ্ছা করছে কিন্তু হাঁটু ভালো হলে কি হবে হার্ট তো আর ভালো হয় নাই, যে কারণে ইচ্ছা থাকার পরও ভ্রমণ করা যাচ্ছে না ।
তবে স্মরণীয় বিষয় হলো আমার হাঁটুর চিকিৎসা যিনি করেছেন তিনি কিন্তু হাঁটুর ডাক্তার নন তিনি একজন সিনিয়র হার্টের ডাক্তার।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:২৬
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটু চালাক না হইলে আসলে এআইয়ের দুনিয়াতে টেকা মুশকিল।

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫



সকাল থেকে চ্যাটজিপিটি আর ন্যানো ব্যানানার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার পশ্চাৎদ্বেশ চাটে, এইটার একটা ছবি তৈরি করে দাও।

শালারা দিবেই না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×