somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নুরুল আলম মাসুদ
একটা অন্য রকম পৃথিবী

সুদিন আসবেই একদিন-তৃতীয় কিস্তি

১১ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যালেট পেপারে শুধুমাত্র মার্কাসমূহ দেয়া থাকে। কিন্তু ভোটদাতা যদি কাউকে ভোট না দিতে চায় তাহলে তার কোনে সুযোগ থাকে না। এ জন্য ব্যালেট পেপারে একটি ‘না’ বাচক ভোটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যা থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে আছ্।ে আমেরিকাতে লিখে দেবার সুযোগ রয়েছে। তা না হলে একজন ভোটাকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়; এমন কি যদি কোন প্রার্থী তার পছন্দের না হয়।
একজন প্রার্থী ভোটে কতটাকা খরচ করবেন। ১৯৭২ সালের প্রবর্তিত ও ২০০১ সালে সংশোধিত জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মোতাবেক, অন্য অনেক কিছুর মধ্যে রাজনৈতিক দলসমূহকে তাদের নির্বচিন সংক্রান্ত আয়-ব্যায়ের সকল হিসাব সঠিকভাবে নির্বাচন পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। জানামতে ২০০১ সালের নির্বাচনের অংশগ্রহণকারী একটি দলও এখন নাগাদ তাদের হিসাব জমা দেয়নি। যারা তাদের দলের আয় ব্যয়ের হিসাব ঠিক মত জমা দিতে পারেন না তারা যে ঠিক মত রাষ্ট্রের কোষাগার সংরক্ষণ করবেন ও হিসাব দেবেন তার কী নিশ্চয়তা থাকতে পারে।
ভোটে এখন একজন প্রার্থী কোটি টাকা খরচ করেন কেবলমাত্র মিছিল, তোরণ নির্মাণ, আলোক সজ্জা ও প্রচারণার পেছনে। আইন করে এসব বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রতি প্রার্থী থেকে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা বেশি নেবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নিজে কমন সভার ব্যবস্থা করবেন এবং প্রার্থীরা এসে তাদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখবেন। এতে করে প্রার্থীদের ব্যয় ও সংঘাত কমে আসবে। তারা মুলত মানুষের ঘরে ঘরে ভোট প্রচারণা করবেন।
বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তির সময়। ধীরে ধীরে বোট গ্রহণের আমাদের বিদ্যুতায়ন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। এতে সময় সময় সংরক্ষণ হবে, ব্যয় কমে আসবে এবং স্বচ্ছতা আসবে অনেক বেশি। রিটানিং অফিসার কর্তৃক আগে কিছু ব্যালেট সরিয়ে রেখে পরবর্তীতে ভোট গননার সময় পছন্দের মার্কার সিল মেরে ব্যালেট জমা দেবার যে রছম আমাদের চালু হয়েছে তা কমে আসবে।
নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানে যদিও গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতি বছর ভোটের পর থেকে মারাত্মক সহিংসতা চলতে থাকে। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এবং রাষ্ট্রকে নাগরিকের এ নিশ্চয়তা দিতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা মোকাবেলায় বিশেষ আইন প্রবর্তন করতে হবে।
একজন মানুষ আসলে কয়টি আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হবেন, এ বিষয়টিও নির্ধারণ করতে হবে। কেননা আমাদের বড় দল সমূহের ওপরের নেতারা একজন তিন চার আসন থেকে প্রার্থীতা করেন। এ ফক্সি প্রার্থীতা বন্ধ করতে হবে। কেননা কেউ একজন তিন আসন থেকে নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি একটি আসন রাখেন বাকি দুই আসন ছেড়ে দিতে হয়। সেসব আসনে তার দলের অন্য একজন প্রার্থীতা করেন। এ আসন ছেড়ে দেয়া মানে জনগণের বিগত ভোটের সাথে প্রতারণা করে।
জাতীয় সংসদের আসন নিধারর্ণের ক্ষেত্রে ভোটার অনুপাতে আসন সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। বিগত নির্বাচনে নোয়াখালী ১ আসনে (সেনবাগ উপজেলা নিয়ে গঠিত) মোট বোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৮। আবার নোয়াখালী-২ আসনে (বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত) মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৭৫ জন। চাটখিল আসনে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩১ জন। এ পরিসংখ্যানটি ভালো করে দেখলেই প্রশ্ন তৈরি করে বেগমগঞ্জ আসনে এত ভোটার কেন? এ আসনকে অন্য দুই আসনের সাথে ভোটারের সমন্বয় করা যেত না, যদি ঔভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হতো?
নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের এ বৈষম্যের কারণে কোনো দল সারাদেশে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েও ১০০-এর কম আসন পেতে পারে। আবার মাত্র ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েও দেড় শতাধিক আসনে বিজয়ী হতে পারে। এ জন্য জনসংখ্যা অনুপাতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিধারণ করতে হবে।
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০০৫ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পর্কে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য হলফনামার মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন এবং তা আগ্রহী জনতার কাঝে তা প্রকাশ করবেন। এসব তথ্যের মধ্যে থাকবে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়ের উৎস, প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের সম্পত্তির হিসাব ও দায়ের বিবরণ, ব্যাংক ঋণের পরিমান এবং এর আগে সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে জনগণের প্রতি তার প্রতিশ্র“তি পুরণের বিবরনী। আমি এ নির্দেশটি বাস্তবায়নের চিত্র দেখতে চাই। যদি এ নির্দেশনাটি বাস্তবায়িত হয় তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ ও সংবেদনশীল নেতা বেরিয়ে আসবে
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×