(আমার লেখাটি ডেডিকেট করছি আমার সব (Virginia), বন্ব্ধু দের , আমার কাজের co-workerder, কিছু মানুষ যারা হচ্ছেন কেলী(আমার এক্স ম্যানেজার, এনায়েত ভাই(ক্লাসমেইট),লামা এবং তার বউ, যারা আমাকে অনেক ভাবে সাহায্য করেছে, আমাকে অনেক ভালবাসা দিয়ে, এই শহড়টির প্রতি অসম্ভব ভাল লাগা তৈরী করেছে, যাদেরকে আমি কখনো ভুলবনা।)
আর কিছুদিন পরেই আমাকে ফিরে যেতে হবে আমার এই পরিচিত শহড় ছেড়ে। খুব বেশিদিন হইনি আমি এই শহড়(Virginia) এ এসেছিলাম। বলতে পার আমার কোন প্রয়োজনের তাগিদে। কিন্তু হুট করে আসা শহড় টি খুব অল্প কদিনে আমার অনেক আপন হয়ে গেল। এতটাই আপন, আমার বার বার মনে হয় আমি এখানেই বিলংস করি। অনেক খারাপ, ভাল
অভিঙতা নিয়ে আমার ভাল লাগা এই শহড় টিকে ঘিরে।
মনে পড়ে প্রথম যেদিন, বাসা থেকে বিদায় নিয়ে, এখানে এসে পৌছুলাম, জানলাম আগে থেকে ভাড়া করা বাসাটি দিয়ে দেয়া হয়েছে আরেকজনকে। সেদিন সারাদিন ক্লাশের পরে যখন এই খবর টা পেলাম, আমি তো একেবারেই চিন্তায় পরে গেলাম। এখন কি করবো। সকালে চার ঘন্টা ড্রাইভ করে এসে ক্লাশ করার এনার্জি যা ছিল সবই খতম হয়ে গেছে ইতিমধ্যে, আবার চার ঘন্টা ড্রাইভ করে বাসায় ফিরে যাব সেটাতেও মন সায় দিচ্ছে না কারন পরের দিন সকালে আবারো ক্লাশ। এরকম অসহায় মুখ করে যখন বসে বসে ভাবছি, তখন কোথা থেকে উদয় হলেন এনায়েত ভাই,উনি একি ক্লাশের স্টুডেন্ট। আমাকে ক্লাশে নুতন দেখে, কথা বলার আ্গ্রহ হলেন। তাই কথায় কথায় যখন উনি যানতে পারলেন, আমার অভস্থার কথা, বললেন, যদি সমস্যা না থাকে তাহলে উনার একটা পরিচিত বাসা আছে, ভাড়া খুজছে, সেখানে ট্রাই মেরে দেখতে পারি। আমি ভাবলাম কেন নয়? সো উনি আমাকে একজন বাংলাদেশী পরিবারে নিয়ে গেলেন। বেশ সুন্দর বাসা। আন্টি কথা বললেন আমার সাথে, জানি না কেন, উনি আমাকে বললেন, তোমার যতদিন খুশি এখানে থাক, কোন সমস্যা নেই আমাদের। মন টা হুট করেই ভাল হয়ে গেল। এক দিকে থাকার চিন্তা, অন্যদিকে, পরিবারে সবাই আমাকে পছন্দ করাতে বেশ সাচ্ছন্দ বোধ করলাম। সেই থেকে আমার পরিচিতি এই শহড়টির সাথে। দিন যেতে লাগল, আমার ভাল লাগা ততই বেড়ে গেল। অনেক ছোট ছোট ভাল, খারাপ ঘটনা নিয়ে কেটে যেতে লাগল আমার দিন গুলো।
একবার মনে পরে, খুব বড় গাড়ী এক্সিডেন্ট করলাম। হাইওয়ের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে শুধু গাড়ী আর গাড়ী। এত মানুষের মাঝেও, নিজেকে কেমন অসহায় মনে হল। মনে হল, এখন কি করবো? কল করলাম, আমার খুব অল্প দিনের পরিচিত এক বন্ব্ধুকে। বেচারা সব শুনে কাজ ফেলে আমাকে উদ্ব্ধার করতে এগিয়ে এল। আমাকে আপসেট দেখে সেই সব সামলে নিল, ইনসুরেন্স কোম্পানি তে কথা বলা, পুলিশের সাথে কথা বলা, সব করলো। তারপর আমাকে বাসায় নিয়ে ওর ফেমিলির সবাইকে বললো আমার এই অবস্থা, সবাই কেমন অস্থির হয়ে গেল, আমার কোন কিছু হয়েছে কিনা জানার জন্য। খুব অবাক হয়েছিলাম, এই ভেবে, ওরা তো আমার কেও না তবুও এত কেয়ার। যেটা ভেবে মনে হল, পৃথিবীতে একা পথ চলাটা খুব একটা কষ্টের কাজ না।
এভাবে দিন গড়িয়ে গেল, আমার ক্লাশ শেষ করে জবের জন্য চিন্তা। বাবা বাসা থেকে সরাসরি বলে দিয়েছেন, আমাকেই কিছু করে নিতে হবে কারন, টাকা দিয়ে হেল্প করার আর সম্ভব না। কি করা যায়। হন্যে হয়েই একটা কাজ খুজছি। যেকোন জব। যাইহোক কিছু দিন পরেই পেয়ে গেলাম একটা। খুব সাধারন কাজ, তবুও আমার ম্যানেজারের (কেলী) কাজ করাটা আরো ইজি করে দিল। আমার সব কথা শুনে। আমার এই শহড়ে আসার উদ্দ্যেশ, আমার পরিস্থি তি সব শুনে বললেন, কোন সমস্যা নেই, আমি যেন আমার সুযোগ মত কাজটা চালিয়ে যাই সেই সাথে যখন যা প্রয়োজন যেন তাকে জানাতে হেজিটেট না করি। আমার জীবনে অনেক মানুষকেই আমি এমন কথা বলতে শুনেছি, কিন্তু প্রয়োজনে, আমি খুব কমই তাদের কাছে পেয়েছি। কিন্তু কেলী ছিল সম্পূর্ন অন্যরকম। সে তার কথা রেখেছে। আমার যেকোন প্রয়োজনে, সে সবসময় আমাকে হেল্প করার চেষ্টা করেছে। একজন আমেরিকান হয়েও আমার সব সমস্যাগুলো নিজের করে ভাবতে পেরেছে। যা আমি অনেক সময় আমার খুব কাছের মানুষদের কেও বোঝাতে পারিনি।কাজ ছেড়ে দেবার দিন, সে প্রায় কেদেই ফেলল, আমাকে বললো, প্রমিজ মি, জীবনে, অনেকে তোমাকে ছোট করবে, কষ্ট দিবে, কিন্তু নিজেকে কখনো হারিয়ে ফেলবে না। আমি কি বলবো বুঝতেই পারছিলাম না, মানুষের ভালবাসা এমন কেন? যাকে আমি এক বছর আগে চিনলাম, আবার আজকে চলেও যাচ্ছি, সে মানুষ কেন আমাকে এতটা টান দেখাবে? সে মানুষ কেনই বা আমাকে নিয়ে এত টা ভাববে। সত্যি অবাক হই।
আমার দুবছরের সফর এই শহড় টিকে ঘিরে কত ঘটনা, কত মানুষ, কত জায়গা। মনে পরবে, যখন তখন বন্বধুদের (ঝরনা, মিরা, সাইফুর)বাসায় চলে যাওয়া। গিয়ে আন্টির হাতে মজার রান্না খাওয়া, বাসার সবার সাথে আড্ডা মারা। মনে পরবে, কোন অনুষ্ঠানে সবাই মিলে কেমন শাড়ি পরবো, কেমন করে সাজবো, কেমন করে সবার সাথে খুব হৈ
,চৈ করবে.সব..সব মনে পরবে। আরো মনে পরবে ক্লাশের সবাই মিলে, লান্চে গিয়ে আড্ডা দেয়া, নুতন নুতন ছেলে মেয়ে দের সাথে পরিচিত হওয়া, মাঝে মাঝে হারিয়ে যাওয়া ক্লাশমেটদের সাথে দেখা হওয়া।
ভাবতেই খারাপ লাগছে এত কিছু এই দুবছরে, এত ভাল লাগা, এত ভালবাসা সব ফেলে ফিরে যেতে হবে। হ্য়তো জীবনটাই এমন, প্রয়োজনের তাগিদে এগিয়ে যেতে হয়, আবার অজানা কোন জায়গায়, অজানা মানুষদের ভিরে।
তবে যেখানেই যাই , আমি বার বার ফিরে আসতে চাই এখানে। আমার এই ছোট্ট প্রিয় শহড়টিতে।
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।