
"বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে" শ্বাসত এই প্রবাদ বাক্যটি চিরন্তন সত্য...মাকে ভালবাসেনা এমন অপদার্থ সন্তান অনেক আছে কিন্তু সন্তানকে ভালবাসেনা এমন মা বোধ করি পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যাবে না...ধর্ম-বর্ন-জাতি নির্বিশেষে মায়ের জাতি সবার উপরে...মা সে কালো হোক কিংবা শেতাঙ্গ হোক...লম্বা কিংবা খাট...মোটা কিংবা চিকন...হিন্দু কিংবা মুসলিম...ধনী কিংবা গরীব...সে একজন মা এটাই বড় কথা...এখানে বর্ন, স্বাস্থ্য, ধর্ম, অর্থ সকল বিষয়ে পাথর্ক্য করা গেলেও মায়ের মমতার কোন ভিন্নতা নেই...তাইতো অনেকে আবেগের বসে বলেই ফেলে গায়ের চামড়া ছিলে মায়ের জন্য জুতা বানালেও মায়ের একফুটু দুধের ঋন শুধ হবে না...প্রবাসে মায়ের কথা খুব বেশি মনে পড়ে...আবেগের অবস্থান থেকে মাকে নিয়ে লেখা কবিতার কয়েকটি পুংক্তি এখানে দেওয়া হলো...
প্রবাসীর মা
কৃষ্ণকালি মা আমার, মানি তুমি একটু খাট
শিক্ষিত নও, চতুরও নও, নও বিলাসী উচ্চাকাঙ্খী
তবুও তোমার তরে চোখ ভেজে মোর গরম জলে
হৃদপিন্ডের ভেন ছিড়ে আজ ফেনকি দিয়ে রক্ত ঝড়ে।
মা ওই বেওকুফগুলো কি বলে জানো?
গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানাতে তোমার তরে
ঋন শোধাতে পাগলপারা মানুষগুলো কেন বুঝেনা
চামড়া কেন জীবন দিলেও একবার মা ডাকার ঋন শোধ হবে না।
আল্লাহ তায়ালা কি বলেছেন জানো "মা-সন্তানরে ঘিরে"
নেক সন্তানেরা স্বর্গ পাবে তাদের মায়ের পায়ের নীড়ে
মাগো মহান সৃষ্টার কাছে দোয়া করি হাত দুখানি তোলে
স্বর্গ আমি চাইনা মাগো আমায় দিলে তোমার কোলে।
(সংক্ষিপ্ত)

ছবির সুত্র:ছবির সুত্র:
মায়ের জঠরে ছয়দিন বয়সী এক সন্তান গুটিসুটি মেরে বসে আছে...এভাবেই আমরা সন্তানেরা মায়ের জঠরে আমাদের প্রথম আবাসস্থল দখল করি...মায়ের জঠরের নল দিয়ে খাদ্য গ্রহন করে বেঁচে থাকি...মাতৃউদরে একটি জ্যান্ত সন্তান ধীরে বড় হতে থাকে...নড়াচড়া কিংবা হাত পা ছুড়ে খেলা করার সময় মাকে অনিচ্ছিকৃত অনেক ব্যথা দিয়ে থাকি...ধরুন সারাদিন খেটে দুপুরে ক্ষুদার্ত মা ভাতের প্রথম লোকমাটি মুখে তুলেছেন অমনি জঠরে সন্তান খেলার জন্য হাত-পা ছুড়াছুড়ি করছে...ব্যাথায় কুকিয়ে উঠেন মা...ব্যাথার তিব্রতায় কখনো চিৎকার করে কেঁদে উঠেন...গড়গড় করে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে গরম জল...এতো তীব্র কষ্ট তবু মা পেটের উপরে হাত বুলিয়ে সন্তানকে আদর করে দেন...
মায়ের মমতা যে কত গভীর...তা লেখনির মাধ্যেমে বুঝাতে যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়...তবুও মায়ের মমতা নিয়ে একটি গল্প বলি...এক সন্তান যৌবনে এক মেয়েকে ভালবাসার প্রস্তাব দেয়...প্রেমিকাকে বলে তোমার জন্য আমি সব কিছু করতে পারি এমনকি নিজের জীবনটাও দিতে পারি...প্রেমিকা কথা প্রসঙ্গে বলে তুমি যদি এক ঘন্টার মধ্যে তোমার মায়ের কলিজা এনে দিতে পারো তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালবাস...কথা শেষ হতেই ছেলে দৌড়ে মায়ের কাছে এসে মাকে হত্যা করে তার কলিজা নিয়ে দৌড় দিল প্রেমিকার কাছে...পথের মধ্যে পাথরে উষ্ঠা খেয়ে আছড়ে পড়ে সন্তান সাথে সাথে হাত থেকে ছিটকে পড়ে মায়ের কলিজা...চিৎকার দিয়ে কলিজা থেকে শব্দ ভেসে আসে "ব্যাথা পাস নিতো খোকা"
হয়তো বলতে পারেন এতো গল্প বাস্তবে এমনটা সম্ভ্যব না...সাম্প্রতি জাপানের ভুমিকম্পে এক মা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে গেছে মায়ের মমতা কত গভীর...কত পাওয়াফুল ভালবাসা...সন্তানকে বাঁচাতে নিজে সেচ্ছা মৃত্যু বরন...নিচে ছবিতে দেখুন তারপর বর্ননা দিচ্ছি...

ছবির সুত্র:
ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে উদ্ধারকর্মীরা একজন মহিলাকে বের করার চেষ্টা করছে...মহিলাটি উপুর হয়ে কোলের কাছে ফাঁকা যায়গায় কম্বলের ভিতর কিছু একটা আঁকড়ে ধরে আছে...যখন তারা মহিলার আলিঙ্গন থেকে কম্বলের ভিতর কি আছে তা আবিষ্কার করলো তখন উপস্থিত কেউ তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না...এ যে মায়ের মমতা...শুধু মাত্র মায়ের পক্ষেই সম্ভ্যব এমন ত্যাগ...৩ মাসের একটা ছেলে তখনো বেঁচে আছে মায়ের মমতায়...পাশের পড়ে থাকা একটি মোবাইল উদ্ধার করে যেখানে একটি ট্যাক্স মেসেজ লেখা ছিল..."If you can survive, you must remember that I love you." Just speechless !
এরকম মায়ের মমতার অসংখ্য অসংখ্য বাস্তব উদাহরন আছে...যা বলে লিখে শেষ করা যাবেনা...অথচ কখনো কোনদিন একবারও কি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে দেখেছি...মায়ের জন্য আমরা সন্তানেরা কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছি...হয়তো কতিপয় ধর্মভীরু সন্তান হয়তো মহান স্রষ্টার হুকুম পালনে মায়ের খেদমতে নিজেকে উজার করে দেন...কিন্তু এমন অপদার্থ সন্তানও আছে যারা মায়ের দুগ্ধপানকে মায়ের দায়িত্ব ব্যাখ্যা দিয়ে মায়ের মমতার সাথে চরম বেঈমানি করে...নিজের সুখের নিশায় মাকে পাঠিয়ে দেয় কষ্টের সাগর বৃদ্ধাশ্রমে...

বৃদ্ধ-বৃদ্ধাশ্রম বাসীদের ঈদ কেটেছে চোখের জলে...

‘সন্তানের মুখটা খুব দেখতে ইচ্ছে করে’
আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম
এই পর্যায়ে পৃথিবীর সকল মমতাময়ী মায়ের জন্য একটি কবিতা উৎসর্গ করা হলো...
দোয়া
যে মায়ের জঠরে জন্ম নিয়েছি
যার কলিজায় লাথি মেরেছি
যার রক্ত শোষে নিয়েছি
যার খাবার আমি খেয়েছি
যাকে শীতের রাতে অঘুম রেখেছি
যাকে বাবার কাছে বকুনি শুনিয়েছি
যার চোখের জ্বলে আমি সুখি হয়েছি
যার আদর-শাষনে আমি মানুষ হয়েছি
নামাযে সেজদায় নত শীর হয়ে পরি
নিরবে দুচোখে নোনা জ্বলে ভরি
মায়ের জন্য রবের দরবারে দোয়া করি
"রব্বির হামহুমা কামা রবা'য়ানি সাগিরা'
সবশেষে সকল সন্তানদের প্রতি আহবান করবো...আসুন আমরা সকলে মমতাময়ী মাকে একটু ভালবাসি...তার তরে দোহাত তোলে সৃষ্টার দরবারে চোখের জলমিশ্রিত দোয়া করি..."রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী সাগিরা"... .

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



