somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

X( মালের মাথায় মল আর থুথু ছাড়া কি দেয়া যায়? X(

২৪ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দূর্নীতিবাজ/কালবাজারী/শেয়ারবাজার লোটপাটকারী/রেলের কালবিড়াল/ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি...মলের থেকেও নিকৃষ্ট কিছু রাজনৈতিক কীটের কারনে আমাদের মতো একটা হতদরিদ্র দেশ বছরের পর বছর দারিদ্রতার দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে...স্বাধীনাতার পর থেকেই বারংবার অর্থনীতির মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার বহুবার চেষ্টা করেছে বাংলার খেটে খাওয়া কৃষক/শ্রমিক/প্রবাসীরা...বিন্দু বিন্দু জল করে সাগর অতল প্রবাদ বাক্যর মতোই কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের ঘামঝড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপার্জনে কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে অর্থনীতির ভীত...আর যাদের ঘামে শ্রমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল তাদের উপার্জনকে যদি কালটাকা (অবৈধ টাকা) বলে মন্তব্য করে তখন কেমন লাগে বলেন...

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত রোববার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রবাসী-আয়কে কালোটাকার উৎস উল্লেখ করে বললেন, ‘অন্য দেশে আয় করে আমার দেশে পাঠাচ্ছে। এদের ওপর কোনো কর আরোপ করা হয় না। এতে টাকা কালো হচ্ছে।’ কালোটাকার উৎস নিয়ে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য গবেষণা হচ্ছে। বাংলাদেশেও হয়েছে। কিন্তু কোনো গবেষণায়ই প্রবাসী-আয়কে কালোটাকার উল্লেখযোগ্য কোনো উৎস বলা হয় না। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নতুন একটি তথ্য দিলেন। বৈধ পথে যাঁরা দেশে অর্থ পাঠান, তাঁদের আয়কর দিয়েই তা পাঠাতে হয়। এ ক্ষেত্রে ওই অর্থ কালো হওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং প্রবাসী-আয়কে কালোটাকার উৎস বলাটা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য মোটেই সুখকর নয়।View this link

মালের এহেন মন্তব্য পড়ে রাগে-ক্ষোভে শরীরের সমস্থ্য রক্ত টগবগ করে উঠছে...কন্ঠকে কন্ঠকামান বানিয়ে দেশীয় সকল প্রকার পঁচা বকাগুলো চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে মালের প্রতি...(নিকৃষ্ট একটি বকা) মাল তুই কি কখনো প্রবাসে এসে দেখেছিস খেটে খাওয়া প্রবাসী শ্রমিকরা কত কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে?...তুই কি কখনো ভেবেছিস কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থ উপার্জন করে?...(নিকৃষ্ট আর একটি পঁচা বকা) ব্যাটা মাল তুই কি করে তাদের উপর্জনের উৎস দেখবি, থাকস তো সারাদিন এসি রুমে/এসি গাড়িতে, চান্দিতে সারাদিন কু-বুদ্ধিতো ঘোরপাক খাবেই...

শোন তোকে শোধাই প্রাবসী শ্রমিকদের কিছু করুন কাহিনী...দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে মধ্যেপ্রাচ্য থেকে...আর মধ্যেপ্রাচ্যের সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করে সবচেয়ে কষ্টের কাজগুলো যেমন: রাস্তা পরিষ্কার করা/ডাস্টবিন পরিষ্কার করা/বাথরুম পরিষ্কার করা/খেজুর বাগানে কাজ করা/নির্মান শ্রমিক হিসাবে কাজ করা ইত্যাদি...আর তাদের টাকা যদি হালাল বা সাদা না হয় তাহলে পৃথিবীর কার উপার্জন হালাল দয়া করে (পঁচা বকা) মাল কি বলবে...

কাহিনী এক.
আমি নিজে প্রবাসে এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী পদে কর্মরত...কিছুদিন আগে আমার ১৩/১৪ বছর বয়সী বড় ভাতিজা হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে...বাসায় এমন কেউ নাই যে তার চিকিৎসা করাতে দৌড়ঝাপ করবে...বহুচেষ্টা করেছে একবারের জন্য ছুটে যেতে অসুস্থ্য ভাতিজার কপালে একটি চুমু খেতে...অঝরে অশ্রু বিষর্জন দেওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিলনা...সকল মায়া-মমতা পদদলিত হয়েছে...অপরাধ আমি প্রবাসী তাই ইচ্ছে করলেও প্রিয় জনের পাশে থাকতে পারিনা...কি দিয়ে ব্যাখা করবেন (পঁচা বকা) মাল সাহেব প্রিয়জনদের জন্য প্রবাসীদের ত্যাগকে...এতো ত্যাগ স্বীকার করে যে অর্থ উপার্জন করছি তাকে কি করে কালটাকা বলে মাল সাহেব?

কাহিনী দুই.
কথায় আছে প্রবাসীর বউ সবার ভাবী...বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে তবু মালের মন্তব্যর প্রতি ঘৃণা প্রকাশে এমন একটি কাহিনী বলছি...একদিন ক্যাবিনে ফোন করতে গিয়েছিলাম...পাশের ক্যাবিনে এক ভাইয়ের কান্নাভেজা কন্ঠ আজও আমায় কাঁদায়...জায়গা-জমি বিক্রি করে/ঋনের বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রবাসে এসেছে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য...বৃদ্ধ মা আর সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে রেখে আসতে হয়েছে...তো এলাকার একটি কুকুর(পঁচা প্রকৃতির ছেলে) প্রায়ই তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতো...এই খবর মা ছেলের কাছে দেবার পর শুরু আগ্নেয়গীরির লাভা বর্ষন...প্রবাসে থেকে স্বামী তার স্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে পারছেনা অথবা বিশ্বাস পারছেনা...অন্যদিকে এ নিয়ে বউ-শাশুড়ীর ঝগড়া...বিষিয়ে তুলেছে প্রবাসীর মন...এতো কষ্টের পরেও সে দেশে যেতে পারেনা ঋনের ভয়ে...(নিকৃষ্ট পঁচা বকা) মাল কি অনুভব করতে সারাদিন কঠিন কাজের খাটুনির পারে কি রকম মানষিক যন্ত্রনা সহ্য করে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে রেমিটেন্স পাঠায়?

এই রকম হাজার হাজার কষ্ট ভেজা প্রবাসীর জীবন্ত গল্প আমাদের চারপাশে...অসহনীয় শারিরিক ও মানষিক কষ্ট সহ্য করে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে...আর মাল সাহেব বলে কিনা প্রাবাসীদের আয় কালটাকা (অবৈধ টাকা)...আমার কথা হচ্ছে প্রবাসীদের উপার্জনের উপর ট্যাক্স বসাবে বসাও চাইলে পরো উপার্জন নিয়ে নাও...দু:খ নাই...কিন্তু কষ্টার্জিত উপার্জনকে কালটাকা কেন বলবে ভাই মাল সাহেব?...

আপনারা কি মনে করেন প্রবাসীদের উপার্জনকে কালটাকা বলে মন্তব্য করে কি মাল সাহেব এক কোটি প্রবাসীকে অপমনা করলো না? প্রশ্ন রেখে গেলাম পাঠকের বিবেকের কাছে।
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×