বিদ্যুতের ভর্তুকি মোকাবিলায় প্রতি নাগরিককে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হবে সংবাদটি পড়তেই মাথা চক্কর দিয়ে অজ্ঞান...একবার মনে আছে আমার এক বন্ধুর মা অসুস্থ্য...তার জন্য রক্ত প্রয়োজন...এলাকার পাতি মাস্তান টাইপের অনেক সাহসী এক বন্ধু রক্ত দিতে গিয়ে ডাক্তারকে বলে হাতে একটা কুপ দিয়ে যত পারেন রক্ত নেন...মাগার ইনজেকশন দিয়া রক্ত নিয়েন না...রগের মধ্যে ইনজেকশন ডুকাইলে ডর করে...যারা শরীরে ইনজেকশন ঢুকাতে ভয় পায় তারা কি করে সরকারকে বিদ্যুতের ভর্তুকি মোকাবিলায় এক ব্যাগ রক্ত দিবে তাই নিয়ে চিন্তার অন্ত নাই...চুপিচুপি বলি সত্যি বলতে কি আমি নিজেও ইনজেকশনকে ভয় পাই...আমার এই গোপন কথা আপনি যেমতে পড়লেন অমতে চুপ মাইরা যাইবেন আশা করি...আমার এখনো বিবাহ হয়নাই...আমি এতো ভীতুর ডিম জানলে কোন মাইয়া আমারে বিয়া করতে যাইবোনা...অবিবাহিতদের নিয় হইলো এই একটা জালা যে কোন কথাকেই কোন না কোন ভাবে বিয়ের মধ্যে ডাইভার্ট করবে...থুক্কু...সেই আমাকে রক্ত দিতে হবে ভেবে শরীর হিম হয়ে আসছে...কিন্তু কোন মাপ নাই...বাঘে ধরলে ছাড়ে সরকার একবার ধরলে আর ছাড়েনা...
শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগ কারীদের কষ্টার্জিত সব টাকা লোপাট করে তাদের শুধু পথেই বসাননি...কাউকে কাউকে আত্বহত্যা করতে বাধ্য করেছেন...এখনো চোখে জল আসে যখন মনে পড়ে পরপারে পারিজমানো সেই বিনিয়োগকারীর কথা যে কিনা আত্বহত্যার পূর্বে একচিলতে চিঠিতে লিখে গিয়েছিল,"তোরা আমার এতিম মেয়েটি দেখে রাখিস"...খানা-খন্দ রাস্তায় মৃত্যুর মিছিলে প্রয়াত হয়েছে দিনমজুর থেকে শুরু করে দেশের বরেন্য ব্যাক্তিত্ব অথচ বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়...দেশের সস্তা যোগাযোগ খাত যেখানে আয়ের উৎস নিন্ম আয়ের মানুষ সেই রেলেও মিলে কুঁচকুটে কাল বিড়াল যে কিনা অর্থ লোপাটে সিদ্ধহস্ত...গতকাল খবরে দেখলাম আমাদের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে...দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত রেমিটেন্স প্রবাহের মূল স্রোত মধ্যেপ্রাচ্যে প্রায় বন্ধ...তথাকথিত ধর্মনিরপ্রেক্ষতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যুব সমাজ দিনকে দিন পঁচে যাচ্ছে নৈতিকতার অবক্ষয়ে...বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলাদলীতে নিজের সহপাঠী ভাইকে ছাড়ছেনা রক্ত ঝরাতে...
চার দিকে শুধু নাই আর নাই এর রব উঠেছে...জীবন বাঁচাতে যার অপর নাম পানি হিসাবে আক্ষায়িত তারই জন্য সরবে চিৎকারে বলে পানি নাই...নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর দাম চড়া পকেটে পর্যাপ্ত টাকা নাই...খেয়ে বাঁচার তরে রান্নার জন্য গ্যাস নাই...জনসংখ্যার চাপে অধিকাংশ জনতার মাথা ঘোচার ঠাঁই নাই...যানযটে অতিষ্ট জীবন এতটুকু সুখ নাই...ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ঘরে ফেরার গ্যারান্টি নাই...বেডরুমে নিরাপদে ঘুমাবার ইয়াত্তা নাই...খুন-গুম অবশেষে শেষ বারের মতো প্রিয়জনের মুখটুকু দেখার আশা নাই...চার দিকে শুধু নাই আর নাই....
এতো নাইয়ের মধ্যে একটি নাই বাদ রেখেছি...তাই নিয়ে আজকের মূল আলোচানা...আর তা হলো বাবা বিদ্যুত নাই...বিজ্ঞ (?) সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুত প্রকল্পের মাধ্যেমে এই নাই থেকে জনগনকে মুক্তি দিতে চেয়েছিল...বুকে আশা বেঁধেছিলাম...হয়তো আমাদের সন্তানদের পরীক্ষার খাতায় লোডশেডিং নামক প্যারাগ্রাফটি আর লিখতে হবেনা...বিধি বাম সেখানেও চলে আলিবাবা চল্লিশ চোরের লোটপাট...ঘটনা সত্য হলে মাথায় হাত দিয়ে বসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই...সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে গত অর্থবছরে (২০১০-১১) রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্রে বিদ্যুত উৎপাদনের নামে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি গচ্চা দিতে হয়েছে... এই সবই জনগনের ঘাম ঝরা টেক্স এর টাকা...দাম এডজাস্ট করতে কয়েকদফা বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম...যদিও গরমে ঘাম ঝড়লেও নেই বিদ্যুত আসার নাম...এভাবে রুটি বেলার বেলুনের মতো জনগনের উপর স্ট্রিমরুল চালিয়েও হয়তো সরকারের স্বাধ মিটেনি...এবার বিদ্যুতের ভর্তুকি মোকাবিলায় প্রতি নাগরিককে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হবে...এরই মধ্যে সরকারের নির্দেশে ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম বাড়ি বাড়ি ভোটার লিষ্ট ধরে ধরে এক ব্যাগ করে রক্ত নিচ্ছে...কিন্তু আমি তো রক্ত দিতে পারবোনা...ইনজেকশন আমার ভয় করে...ভয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে লেপের তলে লুকিয়ে রইলাম...কিন্তু কে শুনে কার কথা ঘরের দরজা ভেঙ্গে চারজন আমার হাত পা জোর করে ধরে আছে আর একজন কাল রংয়ের মোটা টাইপের নার্স ইয়া বড় এক মোটা সুঁইওয়ালা সিরিঞ্জ রেডি করছে রক্ত সংগ্রহের জন্য...চিৎকার করে বলছি এর চাইতে ভালো সাগর-রুনির মতো জবাই করে রক্ত যা লাগে নে বাপ...ইনজেকশন পুশ করিসনা...
তন্দ্রা ফিরে এলে নিজেকে আবিষ্কার করি ঘামে চিটচিট করছে কপাল যদিও ঘরে এসি চলছে...চোখ কচলাতে কচলাতে নিয়ন আলোতে দেখার চেষ্টা করছি নার্সগুলো এখনো আছে না রক্ত নিয়ে চলে গেছে...?...আবছা আলোতে কাউকে না দেখে অবাক হই...বড় বড় চোখে ভাল করে খেয়াল করি আমি কোথায়? ...এক চিলতে হাসি ফুটে ঠোঁট গলে...আরে আমি তো সৌদিতে যেখানে বিদ্যুতের লোডশেডিং কাকে বলে কেউ জানেইনা...তাহলে এতোক্ষন কি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম...হ্যাঁ তাইতো...স্বপ্নইতো দেখছিলাম...যাক বাবা বাঁচা গেল...বিষয়টা তাহলে স্বপ্ন ছিল...তাহলে আমাদের সরকার এতো খারাপ এখনো হয়নি যে বিদ্যুত ভর্তুকি মেটাতে জনগনের রক্ত শুষে নেবে...
হায় হায় সকালে পত্রিকা খুলে একি দেখি... স্বপ্নে যা দেখেছি তাইতো সত্য...তবে একটু ভিন্নভাবে...সরকার নাকি বিদ্যুতের ভর্তুকি মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে...বিদ্যুৎ ব্যবহার করুক বা না করুক- এ খাতের ভর্তুকি মোকাবিলায় টাকা দিতে হবে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী দেশের সব নাগরিককে...বিদ্যুতের ঘাটতি কমানোর জন্য প্রতি মোবাইল ফোনকলের ওপর ১৫ থেকে ২০ পয়সা সারচার্জ আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার...অর্থাৎ কোনো মোবাইল ফোন থেকে কল করলেই প্রতিবার ১৫ থেকে ২০ পয়সা করে বাড়তি ব্যয় হবে গ্রাহকের...
হায় সৃষ্টা আমাদের রক্ষা করো...আমাদের আয় তো আর ব্যায়ের সাথে মিল রেখে বাড়ছেনা তবু একের পর এক ষ্ট্রিমরোলার চলছে নিন্ম আয়ের উপর...হে আল্লাহ আমাদের নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যেবিত্ত পরিবারগুলোকে রক্ষা করো... .

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



