আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’-এ সত্য সমাজের বেশিরভাগ মানুষই উপলব্ধি করতে পারেন। এই পাকনা পোলাপাইনের শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতার জন্য পিতামাতা তো বটেই পরিবারের লোকজনও থাকে বিচলিত-সদা সচেতন। আবার অনেক পিতামাতা আছেন যারা এই আধুনিক চিকিৎৎসা প্রযুক্তির যুগেও অনেক কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকেন। বাচ্চা সুস্থ্য না অসুস্থ্য সেটা বোঝার ক্ষমতাও অনেক পিতা-মাতার নেই। আসুন দেখে নেই বাচ্চা সুস্থ্য আছে কিনা তা কিভাবে বুঝবো...
২ মাস বয়সের শিশু
=> হাসতে পারে
=> বাবা মার দিকে তাকাতে পারে
=> মুখের ভেতর নিজের হাত নিজেই ঢোকাতে পারে
=> শব্দের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়
=> এলোমেলো শব্দ করে
=> মাথা উচু করতে পারে
=> চলমান বস্তু চোখ দিয়ে অনুসরন করতে পারে
৪ মাস বয়সের শিশু
=> খেলতে পারে
=> ক্ষুধা, ব্যাথা বা ক্লান্ত হলে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাদতে পারে
=> হাত দিয়ে খেলনা ধরতে পারে
=> বাবা মাকে চিনতে পারে
=> উপুর করে দিলে থাকতে পারে
৬ মাস বয়সের শিশু
=> আয়নায় নিজেকে চিনতে পারে
=> শব্দের অনুকরন করার চেষ্টা করে
=> সব কিছু মুখে দেবার চেষ্টা করে
=> নিজে থেকেই উপুর হতে পারে
=> দুহাতে ধরে দাড় করে দিলে লাফানোর চেষ্টা করে
৯ মাস বয়সের শিশু
=> অপরিচিত লোক দেখে ভয় পায়
=> আধোআধো বুলি বলে
=> আঙ্গুল দিয়ে জিনিসপত্র দেখাতে পারে
=> ধরে ধরে দাড়াতে পারে
=> একা একাই বসতে পারে
=> হামাগুড়ি দেয়
১ বছর বয়সের শিশু
=> অপরিচিত লোক দেখে ভয় পায়
=> প্রিয় খেলনা নিয়ে খেলতে পছন্দ করে
=> মুখে বলে কোন নির্দেশ দিলে পালন করতে পারে
=> হাত নেড়ে মনের ভাব বুঝাতে পারে( বিদায় বেলায় “বাই”)
=> ধরে ধরে হাটতে পারে
***১ বছর পর থেকেই চরম গরম পাকনামি শুরু হয়ে যায়***
আদরে গদগদ পিচ্চি পোলাপাইনদের সুস্থ্য রাখতে আরো যা যা করতে হবে -
=> শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ হলে ৪ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ ডোজ ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার ও পোলিও-র টিকা দেওয়া শেষ করতে হবে
=> ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পরে হাম ও পুণরায় পোলিও’র টিকা দিতে হবে
=> ১ বছরের মধ্যে অবশ্যই যক্ষ্মা রোগের টিকা দিতে হবে
সম্মানিত পাকনা পোলাপাইনদের সুস্থ্য রাখতে খাওয়া-দাওয়ার রেসিপি -
=> ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ ছাড়া কিছুই খাওয়ানোর দরকার নাই
=> শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ৬ মাস বয়স পূর্ণ হলে খিচুড়ি বা জাউয়ের সাথে দিনে অন্তত একবার খোসা ছাড়ানো, সিদ্ধ করা এবং গলানো তরাকরি মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে হবে (লগে দুই/চারইরটা কিল ঘুষি খাওয়াইতে পারেন... )
=> শিশুর পুষ্টির জন্য প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োজন। যে সব খাবারে ভিটামিন ‘এ’ আছে সেগুলো হচ্ছে মায়ের দুধ, গাঢ় সবুজ এবং রঙ্গিন শাক সবজি ও ফলমূল। তাছাড়া ডিম, কলিজা হলুদ ফল-মূলে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে।
মোট কথা হচ্ছে শিশুর শরীর যাতে ঠিকমত বাড়ে, তার মানসিক বিকাশ যাথে যথাযথ হয় এবং সে যাতে হাসিখুশি থাকে সে জন্য মা-বাবার বিশেষ যত্ন এবং মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বি:দ্র:
=> তথ্যগুলোর জন্য ডা. শাহরিয়ার একটি লেখা ও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সহায়তা নেওয়া হয়েছে...
=> ছবিটি আমার বড় ভাইয়ের সুত্রে তিন নাম্বার পাকনা ভাতিজার...প্রবাসে থাকার অপরাধে এখনো ওর লগে মারামারির পর্বটা শুরু করতে পারিনি...তবে শীগ্রই ছুটিতে যাচ্ছি...ইতিমধ্যেই রেফারিদের (ওর দাদা-দাদী) জানিয়ে দিয়েছি...দেশে ল্যান্ড করার প্রথম দিনেই ফাইটিং স্পটে দেখা হবে ওর সাথে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



