জীবনের রংগুলো এত দ্রুত পাল্টে যায়, আজই বোধহয় তার প্রথম উপলব্ধি। প্রকৃতিই হয়তবা তার উপলক্ষ, সময় তার শ্রোতা বা দর্শক আর জীবন তার পরিনাম বা সাক্ষী।
দুজনের নামের মাঝে যে কখনো “বনাম” শব্দটি ব্যবহার করা হবে কল্পনায়ই আসেনি, যে দুটি জীবন নিয়ে একটি ভুবন সেখানে পরষ্পর থেকে আলাদা হয়ে যাওয়াটা এক ব্যতিক্রমই বটে ! দ্বন্দ, ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমান থেকে আজ একজন ভিকটিম একজন বাদী, একসময়ের মনে হওয়া সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি যাকে নিয়ে জীবনের সুখ, দু:খ রচনার পটভূমি সেই মানুষটি আজ যখন খলনায়কের ভুমিকায় সামনে অবতীর্ণ হয় তখন জীবনের রঙিন সময়গুলোকে বড় বিবর্ণ ফ্যাকাসে মনে হয়। সময়ের হিসেবের সাথে জীবনের গল্পগুলো পাল্টে যেতে থাকে। কোন ব্যকরণই এমন কোন শব্দ তৈরী করতে পারেনা যা দিয়ে কখনও পাওয়া যাবে প্রশান্তি, উদ্বেগের অবসান।
জীবনের এ পর্যায়ে আজ দুজন দুজনার মুখোমুখি। পরষ্পর বিরোধী দুটি চরিত্র।
শুরুর কথা না হয় বাদ দিলাম, পরিণতির কথাই বলি। শেষের দিকটাতে আমার প্রতি যে ওর সন্দেহের দানা বাধতে থাকে, বুঝতে পারি। কথায় কথায় অবিশ্বাসের সুর, অনুযোগ, অভিযোগ। বিরক্ত হতাম তাও নয়, হতামও। খবরদারি কখনই সহ্য করতে পারতামনা তাই অফিসে গিয়েছি কিনা, ফিরব কখন, দেরী হলে একধরনের উকিলের জেরার মুখে পড়ার মত অবস্থা, বিরক্তি, সহ্যের সীমার বাধ ভেঙে যেত, তবুও সম্পর্কের খাতিরে অনেক বিষয়কেই এড়িয়ে গিয়েছি।
পরিস্থিতি একরকম থাকেনা, তাই সেদিনও দিনটি ছিল অন্যরকম, আকষ্মিকতায় কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘটে গেল অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা, অনুতপ্ত ছিলাম না, কারণ অন্যায় কিছু করিনি। কিন্তু অনুযোগ ছিল তার, ছিল অভিযোগ, সে অভিযোগই পরিনতি ঘটিয়েছে, দাড় করিয়েছে আদালতের কাঠগড়ায়।
আজ আদলতে দুজন দুজনার সামনা সামনি অথচ ওকে চিনতে কষ্ট হচ্ছে, আগের সেই মানুষটি আর নেই, বড্ড অপরিচিত, ওর কন্ঠস্বরের সুরেও পরিবর্তন এসেছে, যে কিনা আমার কথা বলত, বুঝত মুহূর্তেই সব পাল্টে গেল। চিনতে দেরী হলেও বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল না তাকে।
সম্পর্কটি টিকবে কিনা আজ সে আর আশংকা নেই, হয়তবা আদালতের রায়ে শাস্তি হতে পারে। শাস্তি ভোগ করার পর কি আর এই মন আর তাকে চাইবে ? না ঘৃনায় ছুড়ে ফেলে দেবে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

