তখনকার সময়ে নাটক কিংবা সিনেমার দৃশ্যগুলোতে দেখা যেত, প্রিয়তমা, প্রিয়তমর হাতে উপহার হিসেবে দিচ্ছে নিজ হাতের বুননে কোন রুমাল যেখানে লেখা থাকে মনের সবচেয়ে প্রিয় কথাটি, তার প্রিয়তমর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। বইয়ের পাতার ভাজে রাখা শুকনো কোন গোলাপের পাতা বা কোন ময়ুরের একটি পালক।¬¬
তারও অনেক পরে বাস্তবে কোন দৃশ্যে দেখা গেল কারও মানিব্যাগটিতে হয়ত প্রিয়মানুষটির ছবি কিংবা পরিবারের বা প্রিয় আদরের সন্তানের মুখ। যখনই প্রয়োজনে মানিব্যাগ খোলা হবে ততবারই স্মৃতি নাড়া দিবে, ভাবনাটাই যেন এমন!
আজ অনেকটা সময় পেরিয়েছে, প্রযুক্তির পরিবর্তনে হাতে উঠে এসেছে অনেক ছোট্ট ডিভাইস, যেখানেই জমা করা যায় যায় সুখ-দু:খের স্মৃতি। বিষন্নতায়- একাকীত্বের যেমন সঙ্গী তেমনি সুখ স্মৃতির বাহকও।
সেল ফোনটিতে কল এসেছে, রিং বাজছে- রিসিভ করবেন যে বাটনে ক্লিক করলেন স্ক্রীনে উঠে আসল সেট করা আপনার প্রিয় ডেক্সটপটি। যেখানে থাকতে পারে আপনার প্রিয়মানুষ, বন্ধু, পরিবার কিংবা সন্তানের মুখচ্ছবি। একবার দেখুনতো আপনার সেলফোনের ডেক্সটপটিতে কি সেট করা আছে ?
আমার কলিগদের কথা বলছি, ওরা সবাই কেউ না কেউ বাবা বা মা। কর্মব্যস্ততার টানে বাড়ীতে রেখে আসতে হয় সবচেয়ে আদরের প্রিয় মুখগুলোকে। অথচ পুরোটা সময় জুড়ে যারা থাকে তাদের হৃদয়ে মননে। ওদের ডিভাইসগুলোতে যখনই ডেস্কটপ এ্যাকটিভ হয় দেখতে পাই সন্তানের রঙিন মুহূর্তগুলি।
পৃথিবীতে বাবা কিংবা মা হবার যোগ্যতা অন্য যেকোন অর্জনের চাইতে এর মূল্য আমার কাছে অনেক বেশী। একজন বাবা একজন মা একজন সন্তানের পরিপূর্ণতা। তা যেমন পার্থিব জগতে তেমনি অপার্থিবেও। অস্তিত্বেও সর্বক্ষন। তাই সন্তানের সঙ্গতাটুকু শ্রেষ্ঠ অর্জনের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ সময়ও বটে! মোবাইল তার এক ছোট্ট ধারক। তাই আজ যখন দেখি কারও মোবাইল কলে ভেসে আসছে সন্তানের প্রিয় হাসি-কান্নার প্রতিচ্ছবি, সত্যি রোমাঞ্চিত হই, আবেগী ভালবাসায় সিক্ত হই।
আমি মোবাইল ব্যবহার করছি, আর যেহেতু কোন সন্তানের বাবা আমি নই, তাই আমারই বাবা-মা’এর ছবি রেখেছি মোবাইল স্ক্রীনে। যতবার কল আসে, কল যাই ততবারই দেখি তাদের এক নয়নে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

