somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদম্য মেধাবীদের সাফল্যকথা - ওরা যেন না হয় ‘শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত’

০৫ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব বড় বড় করে শিরোনাম করা হয়, বোল্ড অক্ষরে। বিশেষ বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িতও করা হয়। কিন্তু এ সবের উপলক্ষ মাত্র এ’কটা দিনই। অল্পদিনের অতিথির মতই বিচরণ করে তাদের ছবি সম্বলিত সাফল্যের শ্রেষ্ঠত্ব। কোন তারকা বা সুপারষ্টার হবার জন্য নয়, পত্রিকাওয়ালা বা মিডিয়াদের কল্যানেই হয়ে যায় তারা সিজেনাল স্টার।

আমি তাদের কথাই বলছি, যাদের খুব সাধারণ ঘরে বাস, খুবই সাধারণ- হয়ত এ আধুনিক আলো সজ্জিত সভ্যতায় অনেকটা অনভ্যস্তও তারা। পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থী- কিন্তু আদতে সব সাধারণ শিক্ষার্থীর মত যে তারা নয়, জীবন সংগ্রামের যুদ্ধে যাদেরকে প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, সে বাস্তবতাকেই সংঙ্গী করেই তাদের পথ চলা, এ চলাতেই যোগ হয় শিক্ষা জীবন, তাতে তারা হেরে যায়না, জিতে, জয়ের মত করে জয়। যে জয়েরই কথা প্রকাশ করা হয় পাতায় পাতায়।

ওরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ওদের সে সংগ্রামের কথাই না হয় জানুন :- কুপিতে তেলের অভাবে পড়াশোনা করতে হয়েছে দিনের আলোয় তাও সব কাজ শেষে, ফরম পূরনের টাকা আনতে হয়েছে সুদে, রিকশাও পর্যন্ত চালাতে হয়েছে কাউকে, বন্ধুর বই ধার করে করতে হয়েছে পড়াশোনা, টিউশনি, গ্যারেজে হাড় ভাঙা খাটুনি - সংসার চালানোর ভার যখন এদের মাথায় চলে আসে এ বয়সে তখন কি তাদের শুধুই শিক্ষার্থী-ই বলবেন ? না সংগ্রামী শিক্ষার্থী ?

স¤প্রতি বললে ভুল হবে, প্রচলনটা শুরু হয়েছে বেশ অনেক আগেই, দেশের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর থেকেই পত্রিকার পাতা আর মিডিয়ার স্ক্রীনে চলে আসে এসব শিক্ষার্থীদের নাম আর ছবি। দেখানো হয় তাদের কৃত সাফল্য। এ সাফল্য পেতে যে এই শিক্ষার্থীকে কতটা কষ্ট, শ্রম দিতে হয়েছে সেসবের পিছনের অজানা কাহিনীর মর্মস্পর্শী লেখা বা ভিডিও চিত্র। তা হয়ত পড়ে বা দেখে আমরা কেউ আবেগকে মূল্য দেই আবার কেউ তুচ্ছ এ আবেগকে অগ্রাহ্যও করি।

খেয়াল করার মত বিষয়, শহরের বাবা-মায়েরা যেভাবে উৎকন্ঠা থাকেন তাদেন সন্তানদের সু-শিক্ষা নিয়ে সেখানে ওদের বাবা-মা এ বিষয়ে কতটুকুই বা সচেতন। স্কুল-কোচিং-এ পড়ছে ছেলে বা মেয়ে আর বাহিরে অপেক্ষা করছে তাদের মা-বাবা। পরীক্ষার হলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা না যতটা দু:শ্চিন্তায় আছে কেন্দ্রের বাহিরে অপেক্ষমান বাবা-মা’এর দু:শ্চিন্তাই যেন বেশী। ক্লাস - কোচিং- প্রাইভেট কতই না আয়োজন। সেখানে অবেহেলিত এ শিক্ষার্থীর কতজনই বা এসব সুযোগের বিন্দুমাত্র পেয়ে থাকে ?

দেশের যে এই মেধা সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাদের অনেকেই হয়ত এত ভাল রেজাল্ট করার পরও অর্থাভাবে পরবর্তী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হারাবে, পড়াশোনা সুযোগ হতে বঞ্চিত হবে। এতে কাদের ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়টি কি আমরা একবার উপলব্ধি করতে পারি ? খবরের কাগজে শুধু শিরোনামই হয়, ছবি ছাপা হয়, এই এতটুকুই, এই এতটুকুনই কি আমাদের সব দায়িত্ব শেষ ? হয়তব না আবার হয়তবা তাই।

সমাজের অর্থবান বা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যদি তাদের শিক্ষা সাহায্যে এগিয়ে আসে তাহলে এদের মত শিক্ষার্থীদের জীবন আলোকিত হতে পারে, সমাজ - জাতি পেতে পারে যোগ্য জনসম্পদ। শুধু সময়ের উপলব্ধিতেই নয় বরং এদের কৃতিত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন একটি নিরবিচ্ছিন্ন সামগ্রিক প্রয়াস, যেখানে অংশগ্রহণ থাকবে আমি, আপনি এবং আমাদের এই সমাজ মানুষই।

ওদের মেধা আর ওদের শ্রমকে শ্রদ্ধা জানাই। যার সমন্বয়ে ওদের জীবন গড়া। জীবন যুদ্ধে ওদের জয় অব্যাহত থাকুক সে কামনাই করি।




কেউ যদি আকষ্মিক প্রশ্ন করে বসেন, এই পোষ্ট লেখার আগে এ পোষ্ট লেখক কতজন এরকম শিক্ষার্থীর সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ? উত্তরটা খুব সাধাসিধে:- “আমার ভাই সে সাধ্য ছিলনা কিন্তু সাধ ছিল, এর চেয়ে বেশী কি বলতে পারি। এখানে না হয় নিজের কথা না-ই বা বললাম।”
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×