somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবার সেই ছোট হতে ইচ্ছে করে

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং আমার মন খুবই খারাপ থাকে। অবশ্য কারণ ছাড়া যাদের মন খারাপ হয় সেইসব আঁতেলদের দলে আমাকে ফেললে ভুল হবে। আমার মন খারাপ কারণ আমি বুঝতে পারছি আমি বড় হয়ে যাচ্ছি। প্রথম প্রথম এটা ভেবে আমার ভালো লাগতো....তবে সেটা যখন প্রথম প্রথম বড় হই। এখন যখন বাস্তবতা গুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখাদেয় তখন মনেহয় আমার কাঠের বন্দুককে সত্যি বলে মনে হওয়ার দিন গুলোই বোধ হয় ভাল ছিল। বললে আপনারা হাসবেন হয়তো আমার ছেলেবেলার রঙিন দিন গুলোর কথা মনেকরে একা একা কেঁদেছিও.....এটা আমার মানসিক সমস্যা কিনা বুঝতে পারছিনা। এটা নিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম তাদের ও আমার মত মনে হয়। কিন্তু আমার মত এতটা দুঃখীত তারা নয়। আমার সারাক্ষন কেনজানি এসব মনেহয়। বিশেষকরে যখন আমি আমার গ্রামের বাড়ি বা নানার বাড়ি যাই সেইসব স্মৃতি আমার খুব মনে পড়ে। আমাকে চোর সাজিয়ে সবাই পুলিশ হয়ে সারা গ্রাম তাড়ানো ..... কাল্পনিক বাঘ শিকার... যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা- আরও কত কি.. । নানা বাড়ির সেই প্রিয় আমগাছ, যার ওপর মাচা বানিয়ে ঘর সাজাতাম ... সে আমার বন্ধু ছিল। এখনও সে আমায় খেলতে ডাকে .... কিন্তু হায়! আমি খেলব কিভাবে? ..আমি যে বড় হচ্ছি। আমার বয়স যে আর কয়েকদিন পরই বিশ এর কোঠা ছোঁবে....লোকে হাসবে যে। আমার যে টারজান হওয়ার সময় নেই ... আমাকে যে এসিসিএ করতে হবে... ইংল্যান্ড যেতে হবে... সফল হতে হবে; টারজান হওয়ার সময় কই? কিন্তু আমার বন্ধু সেই গাছটা ওসব কিছু বোঝেনা ... আমার মনেহয় সে আমাকে ডাকছে- দেখ প্রমি; আমি আমার সেই ডালদুটো এখনও রেখে দিয়েছি..তুমি ঘর বানাবে,তোমার কাঠের ছুরি, বন্দুক বাধিয়ে রাখবে, আমার সাথে গল্প করবে।' - আমি তাকে বোঝাই .. এখন আমার সে বয়স নেই। সেই মনটাও যেন কোথায় ফেলে এসেছি ; যাকে আর খুঁজে পাচ্ছিনা, আর কখনও পাবনা। কিন্তু আমার পুরনো হয়ে যাওয়া মনটাকেও আমার মনে পড়ে; মনেপড়ে সেই পুরনো আমাকে - সেই ছোট টিঙটিঙে ছেলেটা যার পেশীতে এমন কোন আহামরী জোর ছিলনা, কিন্তু সারা পাড়ার লোক যার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকত - আমার কান ধরে বকা দিত ঠিকই কিন্তু সেই বকাতেও কি যেন একটা ছিল। সেই স্নেহময় বকা গুলোও আমার এখনও খেতে ইচ্ছা হয়। যে বন্ধুর সাথে একসময় কার্টুন আর সুপার হিরোদের নিয়েই শুধু আলোচনা করেছি - ভাবতেই অবাক লাগে সেই বন্ধুর সাথেই আমি এখন কথা বলি জীবন, দর্শন, রাজনীতি, প্রেম - এই সব জটিল জটিল বিষয় নিয়ে। কিন্তু আমার মন সেখানেই বার বার যেতে চায়। আমার মনটা বার বার তার ঘাড় ফিরিয়ে চায়; দূরের ধূসর স্মৃতিগুলোকে খুব আপন মনে হয়..স্মৃতিগুলোর এপারে কুয়াশা জমেছে কিন্তু ওপারটাকে আমার খুবই রৌদ্রজ্জ্বল রঙিন মনেহয়, কুয়াশার ওপারের রংধনুটার রংগুলো মাঝে মাঝে কুয়াশা ভেদ করতে চায়; পারেনা। কবিগুরু বোধহয় এমন একটা অনুভূতি থেকেই লিখেছিলেন - সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি....- আমারও নানা রঙের দিন ছিল কিন্তু এখন যেসব দিন কাটাচ্ছি সেসব দিনের কোন রং আমি খুঁজে পাই না। হয়তো রং আছে কিন্তু আমার মনের চোখে সাদাকালো চশমা এঁটে দেওয়া আছে। আমি কিন্তু হতাশ বা অসুখী নই .... এখনও আমি আনন্দ পাই সুখ করি; কিন্তু ওই সব আনন্দ আমি খুব মিস করি,যেগুলো আর ফিরে পাবনা। আমি জানি না, আমার জীবনে হয়তো আরও আনন্দ হাসি আসবে কিন্তু আমার মনের কোণে ওইসব নানা রঙের স্মৃতিগুলো ক্ষীণ বেদনার সুর বাজিয়ে যাবে। সবারই হয়তো বাজে..... কেউ শোনে কেউ শোনেনা....
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×