somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাকিব এবং লোটাস কামাল বিষয়ক রিপোর্টের জন্য ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিবাদ এবং কালের কণ্ঠের বক্তব্য

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আপনাদের দৈনিক পত্রিকায় পরপর দুই দিন (২৩ ও ২৪ জানুয়ারি) ছাপা হওয়া ছবি ও প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য নিম্নরূপ
ছবির শিরোনামটি সম্পূর্ণ অনুমানের ওপর লেখা হয়েছে যা মূল ঘটনার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যহীন। বোর্ড সভাপতি ও বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের মধ্যে কথোপকথন চলাকালে ছবিটি তোলা হয়, যার সঙ্গে ছবিটির ক্যাপশনের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংবর্ধনা শেষে বোর্ড সভাপতি ও ক্রিকেট দলের অধিনায়ক একটি অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় ছিলেন, যেখানে দুজনই জাতীয় ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন। বিসিবি সভাপতি বিভিন্ন বিষয়ে অধিনায়কের মতামতও জানতে চেয়েছিলেন। এ আলাপচারিতাটি ছিল খুবই হৃদ্যতাপূর্ণ এবং সেখানে কোনোভাবেই অধিনায়কের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
বিসিবি মনে করে, উলি্লখিত ছবিটি ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি ও ক্রিকেট দলের অধিনায়কের মর্যাদাহানীর জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরপর দুদিন প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া খেলা চলাকালীন এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি জাতীয় দৈনিকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে বিসিবি গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে ভবিষ্যতে অসমর্থিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ এমন বিষয়গুলো পরিহার করা হবে, যাতে ভুল ব্যাখ্যা প্রদানকারী পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
আমাদের বক্তব্য
প্রতিবাদপত্রটায় পরিষ্কার, ক্রিকেট বোর্ডের আপত্তি শুধু ছবি এবং ছবির ক্যাপশনে। সংবাদে যা লেখা হয়েছে সেটা নিয়ে প্রতিবাদপত্রে যেহেতু কোনো বক্তব্য নেই, তার মানে বিষয়গুলো তারা মেনে নিচ্ছে। পরোক্ষভাবে হলেও মেনে নেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ।
ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানিয়েছে দুদিন পর। তার আগে আরেকটা কাজ তারা করেছে, সেটা হলো অন্যান্য গণমাধ্যমে এ-বিষয়ক একটা ব্যাখ্যা দেওয়া। যারা প্রতিবাদপত্রে সংবাদপত্রকে দায়িত্বশীলতা শেখানোর চেষ্টা করে, তাদের আরো কিছু বিষয় জানা থাকা উচিত। যে সংবাদপত্রে খবরটা ছাপা হয়েছে, প্রতিবাদ ছাপানোর দায় বা দায়িত্ব তাদের। সেই সংবাদপত্র প্রতিবাদ না ছাপলে তখন অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রশ্ন। ক্রিকেট বোর্ড সেই পর্যায়ক্রমিক ধারাটাও সঠিকভাবে অনুসরণ করেনি।
বোর্ড তাদের বক্তব্যে বলছে, ছবির ক্যাপশন লেখা হয়েছে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে। ছবিটি দেখার পর ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে, ঘটনাস্থলে কালের কণ্ঠের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। কাজেই অনুমানে যাওয়ার দরকারই পড়েনি আমাদের। আমরা জানি, আমাদের প্রত্যক্ষদর্শীও তাদের কাছে খুব গ্রহণযোগ্য কেউ নয়, এ রকম ঘটনা বেরিয়ে পড়লে প্রত্যক্ষদর্শীকেও অস্বীকারের চেষ্টা হয়, আর তাই এ ছবি। ছবিটা আবার দেখুন, মুখের ভাষাগুলো পড়ুন এবং তারপর বলুন তো এটার ক্যাপশন কী হওয়া উচিত ছিল?
ক্রিকেট বোর্ড বলছে, এখানে নাকি খুবই হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বোর্ড সভাপতির পায়ের কাছে কাতর চেহারায় বসে হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপ! এটা তো আরো ভয়ংকর ব্যাপার। বোর্ড সভাপতির সঙ্গে অধিনায়কের হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপও করতে হয় পায়ের কাছে বসে! পাশে অনেক চেয়ার থাকা সত্ত্বেও বসা যায় না, তাঁর হাত ধরতে হয় এবং চেহারাটা করুণ করে তারপর গিয়ে খোশগল্প!
ক্রিকেট বোর্ডের মনে হয়েছে, এই ছবি পরপর দুদিন ছাপা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এবং অধিনায়ককে বিব্রত করার জন্য। আর এর ফলে দলের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও আছে। ঠিক আশঙ্কা। কিন্তু সে জন্য দায়টা কার? নিশ্চয়ই ক্রিকেট বোর্ডের বা তাদের সভাপতির, যিনি পুরস্কার দেওয়ার অনুষ্ঠানে ক্রিকেটারদের তিরস্কার করেন এবং এ ধরনের ঘটনার জন্ম দেন। যারা ঘটনা ঘটায়, তাদের চেয়ে যারা ঘটনাটা প্রকাশ করে, তাদের দায় নিশ্চয়ই বেশি হয়ে যায় না!
তারপর তারা উল্লেখ করেছে, এই ছবি নাকি 'অসমর্থিত' এবং 'ভিত্তিহীন'। ছবি কী করে 'অসমর্থিত' হয় সেটা আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না। আর সেই ছবির আগে-পরের ঘটনাগুলোও খেয়াল করুন। বোর্ড সভাপতি তাঁর ক্রিকেটারদের নিন্দা করেছেন, অধিনায়ক প্রতিবাদ করছেন, এসবের পরম্পরায়ই এই ছবির ঘটনা। এমন তো নয় যে আমরা তাঁকে বাধ্য করেছি ওখানে যেতে কিংবা ঘটনাটা অন্য কারো ঘটানো।
একটা বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির চেষ্টা চলছে। অধিনায়ককে নাকি এর মাধ্যমে বিব্রত করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ছবি মোটেও অধিনায়ককে বিব্রত করার জন্য নয় এবং তার বিব্রত হওয়ারও কিছু নেই। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সম্মানিত করা এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নতজানু হওয়াটা মানায় না। এখানেই আমাদের প্রশ্ন। কী পরিস্থিতি হলে সাকিবের মতো ব্যক্তিত্বের ক্রিকেটার, যিনি সরাসরি বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সাহস রাখেন, তাঁকে এ রকম জায়গায় যেতে হয়!
ক্রিকেট বোর্ড যা-ই ভাবুক, যে ব্যাখ্যাই দিক, শেষ বিচারের ভার সাধারণ ক্রিকেটামোদী এবং আমাদের পাঠকদের। তাদের প্রতিই আমাদের দায়। আর আমরা তাদের স্পষ্ট জানাতে চাই, ছাপা হওয়া খবর এবং ছবি বিষয়ে আমরা আমাদের দৃঢ় অবস্থানেই আছি। এতে ঘটনার কোনো বিকৃতি নেই। আর এ রকম ছবি থাকলে বিকৃতির দরকারও পড়ে না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×