somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিতু হত্যার দুই বছর: বাবুলই মূল হোতা, দাবি পরিবারের

০৫ ই জুন, ২০১৮ ভোর ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




দুই বছর আগে চট্টগ্রামে খুন হয়েছিলেন মাহমুদা খানম মিতু। তিনি ছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূণ হলেও, উদঘাটিত হয়নি হত্যা রহস্য, মেলেনি অনেক প্রশ্নের জবাব। মিতুর পরিবারের দাবি, বাবুল আকতারই হত্যাকাণ্ডে মূল হোতা। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিরা মিতুকে হত্যা করে। পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলার তদন্ত এখন শেষপর্যয়ে, আদালতে শিগগিরই দেয়া হবে অভিযোগপত্র।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এই হত্যার অংশবিশেষ ধরা পড়েছিলো সিসি ক্যমেরায়। যা দেখে চিহ্নিত করা হয় কিলিং মিশনে থাকা সবাইকে। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৭ জন, বন্দুকযুদ্ধে মারা যান ২ জন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ২ জন। তবে, এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেয়া কামরুল শিকদার মুসা এবং তার সহযোগী কালু। গেল দু’বছরে তদন্ত আটকে আছে এই মুসাকে ঘিরেই।

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা মিতু হত্যা মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ নিহতের পরিবারও। মিতুর মা সাহেদা মোশারফ অভিযোগ করে বলেন, এ মামলার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। তারা উল্টো ঘটনার মাস্টারমাউন্ড বাবুল আকতারকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট প্রদান করুক পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন ও ক্রাইম) আমেন বেগম বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ধীরেসুস্থে করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা থাকবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে শিগগিরই। তবে কবে দেয়া হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’জন ক্রসফায়ারে মারা গেছে। মুসা ও কালু নামে দু’জনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।
মুসা ছিলেন নিহত মিতুর স্বামী স্বামী বাবুল আকতারের সোর্স। এছাড়া, ২০১৩ সাল থেকে মিতু আর বাবুলের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো। সব মিলিয়ে মিতুর পরিবারের সন্দেহের তীর বাবুল আকতারের দিকেই। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কয়েক দফা দেখা করে কিছু তথ্যপ্রমাণ ও দিয়েছেন তারা।

এদিকে কন্যা হারানোর ব্যাথা বুকে চেপে মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, পারিপার্শ্বিকতা বা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা মনে করি বাবুল আকতারই খুনের নির্দেশদাতা। আমরা চাই দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরা হোক। তারপর মামলার চার্জশিট অনুযায়ী যাদের যা সাজা হওয়ার তাই হোক।

তিনি বলেন, তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এ মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছেন শুনেছি। কিন্তু এ অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে আসামি করা হয়েছে কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাবুল আকতারকে যদি আসামি করা না হয়, তাহলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবো আমরা।

বাবুল আকতার মিতুর মূল খুনি দাবি করে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে বাবুল আকতার তার বিশ্বস্ত সোর্স মুছাকে দিয়ে মিতুকে খুন করিয়েছে। তাকে যদি আসামি করা না হয় তাহলে আমরা আদালতে নারাজি দেব।

তিনি আরে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বাবুল আকতারের সহকর্মী। এ হত্যা মামলায় বাবুলকে বাঁচানোর অপচেষ্টা তিনি করতেই পারেন। যদি তাই হয় তাহলে প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তা বদলের জন্যও আমরা আদালতে আবেদন করবো।

ঘটনার পর বাবুল আকতারকে পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলছে না কেউ। এ অবস্থায় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ছাড়াই মামলার অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে পুলিশ।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঞ্চল্যকর এ মামলায়, দায়সারা অভিযোগপত্র দিলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে পুলিশের ভূমিকা। আর বাবুল আকতার যদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থেকে থাকেন তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা দরকার ছিল। আর জড়িত না থাকলে তাকে চাকরিচ্যুত করাটা অন্যায় হয়েছে।

শ্বশুর-শাশুড়ির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, তারা এখন অনেক কথাই বলবেন। কেন বলবেন সেটাও আপনারা জানেন। কে কি বলছে সেটা বড় নয়, স্ত্রী হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের কোনো কিছুই এখন পুলিশের কাছে অজানা নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে মামলাটি এক জায়গায় স্থির রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নির্দেশ এলে স্বল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে পারবে পুলিশ।

মিতু হত্যার দুই বছর: বাবুলই মূল হোতা, দাবি পরিবারের
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৮ ভোর ৪:০৭
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×