somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আমার মনের মানুষের সনে"

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লালন সাঁই এর গানের কথা ব্যাখ্যা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। মাঝে মাঝে মন বিক্ষিপ্ত থাকলে অপচেষ্টা করি। এইটাও সেই রকমের একটা অপচেষ্টা। সিরিয়াস ভাবে নেয়ার কিছুই নাই। আমার বোঝায় কোন ভুল ভ্রান্তি কেউ ধরিয়ে দিতে চাইলে খুশি হব।



মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের সনে

চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী
হব বলে চরণ-দাসী
ও তা হয় না কপাল-গুণে

মেঘের বিদ্যুৎ মেঘেই যেমন
লুকালে না পাই অন্বেষণ,
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে

যখন ও-রূপ স্মরণ হয়,
থাকে না লোক-লজ্জার ভয়-
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
ঐ প্রেম যে করে সে জানে


লালনগীতি যারা শোনে না কিংবা শোনে তাদের কারো মাঝেই হয়তো এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবে না এই গানটি শোনে নি। বহুল প্রচলিত কিংবা পরিচিত যাই বলি না কেন লালন গীতি বলতেই অল্প কিছু গান আছে যাকেই মানুষ বুঝে “মিলন হবে কত দিনে” তার মাঝে একটা। খুব বেশি মানুষ যে এই গানের কথা গুলো ভুল বোঝে না তা বলছিনা। কারণ আমি এখনো খুব বেশি মানুষ পাই নি যারা এই গানের অর্থকে অন্য দিকে প্রবাহিত করে নি। আমি নিজেও যে ইন্য দিকে প্রবাহিত করতাম না তা না। তবে আসলেই যখন অর্থ বোঝার চেষ্টা করি তখন বেশ লজ্জাই পাই। কারণ কথা গুলো এমন যে একটা ব্যাপারকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে প্রদর্শন করানো খুবই সহজ। দেখি কিছুটা অপচেষ্টাই নাহয় করলাম।

“মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের সনে”


এই কথা গুলো শুনে যে কারোই মনে হবে খুবই রোম্যান্টিক ধরণের কথা। আমি নিজেও অনেক দিন সেই ধারণাতেই ছিলাম। এখান থেকে কোন ধারণায় পৌছে যাওয়া আসলেই কষ্ট সাধ্য। কারণ লালনের স্বয়ং সম্পূর্ণ সকল গানের মাঝে একটা জায়গাতে আসল কথা যা তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন তা থাকে। এই ধরণের ব্যাপার গুলোকে KEY WORD অথবা KEY SENTENCE বলে। বাকি সকল কথা গুলো সেই মূল কথাকে SUPPORT করে যায় সাধারণত।

পরের অংশে গেলে

“চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী
হব বলে চরণ-দাসী
ও তা হয় না কপাল-গুণে”


চাতক একটা পাখি এবং রূপক হিসেবে এর সার্থক ব্যাবহার সকল স্থানেই দেখা যায়। চাতক মেঘের অপেক্ষায় চেয়ে থাকে বৃষ্টি হবে সেই পানি পান করার আশায়। তারপরেই আসে যে কথা তাতে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে কপাল গুণে কিংবা ভাগ্যের সাহায্যে যা চাওয়া হয় তা পাওয়া যায় না। আসলেই যদি কেউ নিজেকে ভাগ্যের উপরে সমর্পন করে সব ছেড়ে ছুড়ে বসে থাকে তবে তার ভবিষ্যত কতদূর তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।

গানের পরের অংশ হচ্ছে Key অংশ। সেদিকে দেখলে

“মেঘের বিদ্যুৎ মেঘেই যেমন
লুকালে না পাই অন্বেষণ
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে”


মেঘের বিদ্যুৎ যেমন মেঘেই থাকে মানে মেঘ থেকেউ তার উৎপত্তি, তেমনি যে রূপ কিংবা মনের মানুষের আশায় এত ছুটোছুটি তাকে খুজতে হলে দর্পন বা আয়নাতে খুজলেই পাওয়া যাবে। আয়প্নাতে তাকালে আমরা নিজের প্রতিচ্ছবিকেই দেখি। অর্থাৎ নিজের মাঝেই মনের মানুষের বাস। ঠিক করে খোজার অপেক্ষা মাত্র।

“যখন ও-রূপ স্মরণ হয়,
থাকে না লোক-লজ্জার ভয়-
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
ঐ প্রেম যে করে সে জানে”


যখন কেউ সেই রূপের দর্শন পেয়ে যায় তার লোকলজ্জা তো দূরে থাক, কোন কিছুরই ভয় থাকে না। আনন্দে আত্মহারা সেই মানুষের অনুভুতি শুধু সেই জানে যে সেই ধরণের প্রেমে মজতে পারে।

অর্থাৎ সম্পূর্ণ গানের একটাই অর্থ দাড়াচ্ছে। মনের মানুষ কিংবা স্রষ্টা কিংবা যাই বলিনা কেন সব কিছুই লুকিয়ে আছে নিজের মধ্যে। শুধু খুজে নিতে হয়।
খোজার ব্যাপারে অসীম আলসেমির কারনে এখনো খোজাখুজি করতে পারলাম না বোধহয়।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×