somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্যভুবন – হুমায়ূন আহমেদ (কাহিনী সংক্ষেপ)

১২ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বইয়ের নাম : অন্যভুবন
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
লেখার ধরন : মিসির আলি বিষয়ক উপন্যাস



পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে। যেহেতু আমার কাহিনী সংক্ষেপ স্পয়লার দোষে দুষ্ট হয়, তাই আমি সবসময় অনেক দিনের পুরনো বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ লিখি।
=======================================================================

কাহিনী সংক্ষেপ :
ময়মনসিংহ থেকে বরকতউল্লাহ সাহেব মিসির আলির সাথে দেখা করতে এসেছেন। তিনি এসেছেন তার ৯ বছরের মেয়ে তিন্নির কথা বলতে। তার বিয়ের ১১ বছর পর তিন্নির জন্ম হয়। মেয়ের জন্মের সময় তার মা মারা যায়। তিনি নিজে মেয়েকে অনেক যত্ন করে লালন পালন করেছেনে। তিন্নির এক বছর বয়েস হওয়ার পরেও সে কোন কথা বলতো না বেলে তিনি মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার বলে ওর সব কিছু ঠিক আছে হয়তো একটু দেড়িতে কথা বলবে, এরকম হয় কারো কারো ক্ষেত্রে।

কিন্তু তিন্নি ৬ বছর পর্যন্ত কোন কথা বলল না। ৬ বছর বয়সে সে কথা বলল। পুর বাক্যই একসাথে বলতে পারলো, কথা শুনে বুঝার কোন উপায় নেই যে এই মেয়ে আজকেই প্রথম কথা বলল। আরো কিছু বিষয় আছে অদ্ভুত, যেমন - তিন্নি অংক শিখেনি, কিন্তু তাকে ১৬ এর বর্গমূল কত জিজ্ঞাস করাতে সে বলে দিতে পেরেছে। তার বাবা বাইরে কার সাথে দেখা করে এসেছে সেটা সে বলে দিতে পারে। এমনকি রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘোর অন্ধকারেও সব কিছু দেখতে পারে তিন্নি। অন্য যে কারো চিন্তা সে পড়তে পারে।

মিসির আলি পরদিন রাতের ট্রেনে বরকতউল্লাহর সাথে তার বাড়িতে গেলেন। ভোরে তিনি বাড়ির বাগানে বেড়ানোর সময় দেখলেন বাগানে প্রচুর গাছ আছে, তবে কোন গাছে একটিও পাখি বসে নেই। মিসির আলি তিন্নির সাথে কথা বলেই বুঝতে পারলেন যে তিন্নি মানুষের চিন্তা পড়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া সে রেগে গেলে যে কারো মস্তিষ্কে তীব্র ব্যথার অনুভূতি দিতে পারে। তিন্নিদের বাড়িতে অনেক কাজের লোক আছে, তাদের কারো উপর রেগে গেলেই সে ব্যথা দেয় বলে সবাই তাকে ভয় পায়। মিসির আলিকেও সেই ব্যথার মোকাবেলা করতে হল।

তিন্নি অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি আঁকে যেগুলি পৃথিবীর গাছ বলে মিসির আলির মনে হয় না। ছবি গুলিতে আকাশে দুটি সূর্য দেখা যায়। অন্যদিকে তিন্নি সেই গাছগুলিকে মাঝে মাঝেই স্বপ্নে দেখে, গাছগুলি তার সাথে কথা বলে। আবার মাঝে মাঝেই তিন্নি সারাদিন ছাদে রোদের মধ্যে বসে থাকে। মিসির আলি আরও আবিষ্কার করলেন তিন্নি দূর থেকে যে কারো সাথে সরাসরি মস্তিষ্কের ভিতরে কথা বলতে পারে, কিন্তু সে মিসির আলি ছাড়া আর কারো সাথে এভাবে কথা বলেনি। তাছাড়া তিন্নি নিম্ন শ্রেণির প্রাণীদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারে।

মিসির আলি বুঝতে পারলেন ছোট্ট এই মেয়েটি বিচিত্র অন্য কোন ভুবনে বাস করছে। অসহায় মেয়েটির জন্য তার খুবই মায়া হতে লাগলো, তার মনে হচ্ছিলো দ্রুত সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। মিসির আলি কিছু পড়াশুনা আর তথ্য যোগাড়ের জন্য দুদিন পরেই ঢাকা ফিরে এলেন। ঢাকায় ফিরে তিনি প্রাণ আর উদ্ভিদ নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করলেন। তিন্নির আকা ছবিগুলি বিদেশে দুটি বোটানির গবেষণা কেন্দ্রে পাঠালেন। সেখান থেকে খবর এলো এ ধরনের গাছ পৃথিবীতে নেই।

তিন্নি তার বাবাকে হঠাৎ করেই বলল সে এই বাড়িতে একা থাকতে চায়। সমস্ত চাকর, কর্মচারী, দারোয়ানদের বিদায় করে দিতে হবে। এমনকি তিন্নির বাবাও থাকতে পারবেন না। কদিন পরে মিসির আলি আবার তিন্নিদের বাড়ি গেলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারলেন তিন্নি এখন সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত বাগানে থাকে, বাগানে সে একটি বড় গত খুঁড়েছে, সেটায় দাঁড়িয়ে থাকে।

তিন্নির বাবার সাথে আলাপ করে জানা গেলো তিন্নির নানী তিন্নির মাকে গর্ভধারণের সময় তার মাথা কিছুটা খারাপ হয়ে যায়। তিনি সারাদিন রোদে বসে থাকতেন আর খাবার খেতেন না। সবাইকে বলতেন তার প্যাটে একটা গাছ বড় হচ্ছে। তিন্নির মার জন্মের পরেই তিনি মারা যান। একই ভাবে তিন্নির জন্মের সময় তিন্নির মা বলতে থাকে তার পাটে একটি গাছ বড় হচ্ছে। তিন্নির মা গর্ভবতী থাকার সময় প্রায়ই গাছ নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখতেন। তিন্নির মা তিন্নির বর্তমানের পরিস্থিতির আগাম সতর্কতা তিন্নির বাবাকে বলে গেছেন।

সব কিছু শুনে মিসির আলি ধারনা করেন, পৃথিবীতে যেমন বিবর্তনের ফলে মানুষ অতি উন্নত হয়েছে, তেমনি হয় তো অন্য কোন গ্রহে গাছেরা অতি বুদ্ধিমান হয়েছে। তারা মানুষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তিন্নিদের মত নতুন এক প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা করছে। তিন্নির সাথে এবিষয়ে কথা বলে তিনি আরও শিওর হলেন। কিন্তু তখনই তিন্নি বলল। মিসির আলিকে কালই ঢাকায় চলে যেতে হবে। এখানকার কথা, তিন্নির কথা কিছুই তার মনে থাকবে না।

পরদিন সকালে মিসির আলির মনে হতে থাকে তিনি ঢাকায় কোন জরুরী কাজ ফেলে এসেছেন। তিনি ট্রেনে করে ঢাকায় রওনা হয়ে যান। ট্রেনেই মিসির আলি অসুস্থ হয়ে পরেন। ঢাকা মেডিক্যালে ২ মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হন।

এক বছর পর ময়মনসিংহ থেকে একজন উকিল তাকে চিঠি দিয়ে জানান বরকতউল্লাহ নামে একজন ব্যবসায়ী তাকে একটা বিশাল বাড়ি দান করে গেছেন। বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যাংকে কিছু টাকাও রেখে গেছেন। শুধু অনুরোধ করেছেন যাতে বাড়ির বাগানের প্রতিটা গাছকেই খুব যত্ন নেয়া হয়। মিসির আলি কিন্তু বরকতউল্লাহকে চিনতে পারেন না। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন। বরকতউল্লাহর একটি অসুস্থ মেয়ে ছিল। মেয়েটি মারা যাওয়ার পরে তাকে এই বাড়ির বাগানে কবর দেয়া হয়, তার কিছু তিন পরে বরকতউল্লাহও মারা যান।

৫ বছর পরে মিসির আলি তার স্ত্রী নীলুকে নিয়ে ময়মনসিংহে তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়ির বাগানে একটা অদ্ভুত হলদে লাল রং এর বেণির মত পেঁচানো গাছ আছে। গাছটিতে নীল রং এর ফুল, সারাদিন গন্ধ থাকে না কিন্তু রাতে প্রচণ্ড গন্ধ ছড়ায়। নীলু বাড়িটির প্রেমে পরে যায়। তারা ছুটি পেলেই এই বাড়িটিতে বেড়াতে আসে। এ বাড়িটিতেই তাদের প্রথম ছেলের জন্ম হল। নীলু একদিন হঠাৎ করেই বলল তাদের ছেলেটি মানুষ না, গাছ। মিসির আলি লক্ষ্য করলেন তাদের ছেলেটি সুযোগ পেলেই ছাদে গিয়ে চুপচাপ রোদে বসে থাকে।



==================================================================
আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
১৯৭১ - হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর - হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় - হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প - হুমায়ূন আহমেদ
অনিল বাগচীর একদিন - হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ - হুমায়ূন আহমেদ
অন্যদিন - হুমায়ূন আহমেদ
অন্যভুবন - হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না - হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে - হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ - হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন - হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন - হুমায়ূন আহমেদ

ভয়ংকর সুন্দর (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা (কাকাবাবু) - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিতাস একটি নদীর নাম - অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাজ হার্ডি
কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরী
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৫০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুকেশ আম্বানি । বিশ্বের চতুর্থ ধনী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



ধীরুভাই আম্বানি , রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা যার কথা পড়ছিলাম ১৯৯৮ সালে ঢাকার একটি পত্রিকাতে । ১৯৭৪ সালে তার কোম্পানির ১০০ রুপির শেয়ার তখন ১৯৯৮ তে ৮০০০০ আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৯ আগস্ট ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩


আজ ৯ই আগষ্ট'২০২০ ইং ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। । এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরণখাদ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন ঐশিকা বসু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৩

সত্যস্বর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন
২৩শে অক্টোবর, ২০০৮
অমরগিরিতে যুবতীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন – অমরগিরিতে সাগরের উপকণ্ঠে এক যুবতীর ক্ষতবিক্ষত দেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিখা দাস নামে ঐ যুবতী স্থানীয় একটি ধাবায় কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোহীন প্রদীপ একজন নয় এমন আরো বহু আছে বাংলাদেশে।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

জেলে ভাল আছেন ওসি প্রদীপ বাবু। বাবুর মতোই ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করছেন । তিনি জেলকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলছেন। তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন। ওসি প্রদীপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কো দা গামা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২১



যুগ যুগ ধরে নানা দেশের, নানা জাতির লোকেরা ভারতে এসেছে, ভারতকে শাসন করেছে, বসতি স্থাপন করে থেকেছে। বছরের পর বছর এদেশে থাকতে থাকতে তাদের রীতি-নীতি, আদব-কায়দা, শিল্প-সংস্কৃতি-ভাষা, খাওয়া-দাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×