somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় কাটরা অনেকাটাই ভাঙ্গা হয়ে গেছে (সাম্প্রতিক)

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উইকিপিডিয়া

বড় কাটরার কথা মোটামুটি সকলেই জানেন। এটি পুরান ঢাকায় চকবাজারের কাছে অবস্থিত মুঘল আমলের একটি সরাইখানা। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজার নির্দেশে ১৬৪৪ থেকে ১৬৪৬ সালে মীর আবুল কাসিম বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই ইমারতটি নির্মাণ করে ছিলেন। সেটি অনেক দিন থেকেই নানান ভাবে দখল হয়ে আছে। কয়েকবার এটি ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টাও হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর ধরেই। শেষ সম্ভবতো হাইকোর্টের নির্দেশে ভাঙ্গার হাত থেকে বড় কাটরাকে বাঁচানো গিয়েছিলো। কিন্তু শুনতে পাই গত প্রায় দুই মাস ধরে বড় কাটরা আবার ভাঙ্গা হচ্ছে।

প্রথম আলো পত্রিকার রিপোট -
আবার ভাঙা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বড় কাটরা, বহুতল ভবন তৈরির পাঁয়তারা
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোগল স্থাপত্য বড় কাটরার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে বহুতল ভবন তৈরির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন আরবান স্টাডি গ্রুপ (ইউএসজি)।

ইউএসজির তথ্য অনুযায়ী, বড় কাটরার মূল স্থাপনার একটি অংশ (বড় কাটরা লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং) ভাঙা হয়েছে। দোতলা স্থাপনাটি ভাঙা শুরু হয় গত জুলাইয়ে। বিষয়টি জেনে গত ৩১ জুলাই চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে ইউএসজি। এরপর কিছুদিন ভাঙার কাজ বন্ধ ছিল।

ভবনটি আবার ভাঙা হচ্ছে বলে গত রোববার খবর পায় ইউএসজি। বিষয়টি চকবাজার থানায় জানানো হয়। তখন থানার পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় স্থাপনাটি ভাঙার কাজ চলছেই।

এ অবস্থায় চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউএসজি। পরে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউএসজির প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম।

কে বা কারা স্থাপনাটি ভাঙছে জানতে চাইলে তাইমুর ইসলাম বলেন, ভাঙার সঙ্গে আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তিনি নিজেকে স্থাপনার ওই অংশের মালিক বলে দাবি করছেন।

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউএসজির প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম
ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউএসজির প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলামছবি: সংগৃহীত
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চকবাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীরে মোগল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন বড় কাটরা। ইমারতটি আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত। ১৬৪৪ সালে শাহ সুজার বাসস্থান হিসেবে নির্মাণ করা হয় এ কাটরা। এতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সব বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। ইমারতটির বিভিন্ন অংশ বর্তমানে বিলুপ্ত। দক্ষিণের আদি অংশটুকু অক্ষত রয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে বড় কাটরা। ২০২০ সালে তালিকায় থাকা স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকার ৬৪ নম্বরে রয়েছে বড় কাটরা। সে অনুযায়ী, দুটি সংস্থাই ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনা সংরক্ষণে দায়বদ্ধ।

স্থাপনাটি ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, বড় কাটরা ভাঙার বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি। এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্নসম্পদ আইন অনুযায়ী, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সরকার চিহ্নিত করলে সেটি ভাঙা যাবে না; সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ সেটি সংরক্ষণে অক্ষম হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। অধিদপ্তর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেবে। আবার সরকার চাইলে সংরক্ষণের জন্য ওই স্থাপনাসহ জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে।

জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত প্রথম আলোকে বলেন, ভাঙার খবর পেয়ে অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা সেখানে গিয়েছিলেন। দিনভর সেখানে থেকে স্থাপনাটি যাতে না ভাঙা হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছেন।













ছবি : ফেসবুক
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:০১
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন বুনাচ্ছো

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


উম্মুখ চোখে কি দেখো
উম্মাদ মনে কিছু ভাবো
তোমার স্বার্থপরা ছাড়ো
দেখো সোনালি অতীত
কিংবা সম্প্রীতির অভয়
মাঠ-বলো বিচার করবে
বিবেকের কাঠগড়া দাঁড়িয়ে
স্বপ্ন বুনাচ্ছো বেশ ভালই;
ভাল কাজের প্রতিপক্ষ করো
কিন্তু রক্তাক্ত লাশ আর নয়;

২৫-৬-২৬
...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×