somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র কুরআন -৬

৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআনের আলোর এ পর্বে আমরা সূরা বাকারার ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। এর আগের আয়াতগুলোয় মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা বাকারার ৫ম আয়াতে বলা হয়েছে-"ঐ মুমিন ব্যক্তিরা তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।" এই আয়াতে পরহেযগার ব্যক্তিদের পরিণাম "সফলতা" বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলেই এ সফলতায় পৌঁছায়।
সফলতা মানে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হওয়া এবং নৈতিক উৎকর্ষ অর্জন। আরবী ভাষায় কৃষককে বলা হয় "ফাল্লাহ্‌"। কারণ কৃষক তার পরিশ্রমের মাধ্যমে মাটির তলদেশ থেকে বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম এবং ফসল বেড়ে ওঠার ব্যবস্থা করে। সফলতা মানুষের পূর্ণতার সর্বোচ্চ পর্যায়। কারণ কোরআনের আয়াত অনুযায়ী সৃষ্টিজগত মানুষের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ এবাদতের জন্য এবং এবাদত হলো তাকওয়ায় পৌঁছার জন্য। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে মুত্তাকী ও পরহেযগার ব্যক্তিরা সফলকাম হবেন। এ আয়াত আমাদেরকে দুটি প্রধান বিষয় শিক্ষা দেয়। প্রথমত: কল্যাণ ও সৌভাগ্যবান হতে হলে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুযায়ী চলতে হবে। আর দ্বিতীয়ত: চেষ্টা ছাড়া কল্যাণ অর্জন সম্ভব নয়। জ্ঞান ও বিশ্বাসের যেমন দরকার আছে তেমনি কাজ ও উত্তম আমলেরও প্রয়োজন আছে।
সূরা বাকারার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তুমি তাদেরকে সতর্ক কর বা না কর, তাদের পক্ষে উভয়ই সমান। তারা ঈমান আনবে না।"মুত্তাকী ও পরহেযগার ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার পর এই আয়াতে কাফেরদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেররা বিরুদ্ধাচরণ করতে করতে এমন বিদ্বেষী হয়ে পড়ে যে সত্য কথা তাদের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলে না এবং তারা ঈমান আনে না। আরবী ভাষায় ‘কুফর' শব্দের অর্থ হলো ঢেকে ফেলা, উপেক্ষা করা। সুতরাং কাফের মানে ঐ ব্যক্তি যে সত্য গোপন করে এবং সত্যকে উপেক্ষা করে। আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে সব মানুষ ঈমান আনতে বাধ্য হতো। কিন্তু চাপিয়ে দেয়া বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই। আল্লাহই চান মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় ঈমান আনে। তাই সব মানুষ পরহেযগার, ঈমানদার ও মুত্তাকী হয়ে যাবে-এমনটি আশা করা আমাদের উচিৎ নয়। সূরা বাকারার ৬ নম্বর আয়াত থেকে আমরা যে কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করছি তা হলো-প্রথমত: কুফরী, বিদ্বেষ- মানুষকে পাথরের মত কঠিন করে ফেলে। তাই কোন উপদেশ বা ভালো কথাও তার মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনা। আর দ্বিতীয়ত: যদি মানুষ সত্য গ্রহণে ইচ্ছুক না হয় তাহলে নবীদের আহ্বান কাজে আসবে না। নবীদের আহ্বান হলো বৃষ্টির মত। যদি উর্বর মাটিতে পড়ে তাহলে ফুল ফোটে, আর যদি নোনা ও শক্ত মাটিতে পড়ে তাহলে জংলী আগাছা আর কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় জন্মায়। তৃতীয়ত: যদিও আমরা জানি যে কাফেররা ঈমান আনবে না, কিন্তু তবুও আমাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে এবং তাদেরকে সদুপদেশ দিতে হবে।
সূরা বাকারার ৭ম আয়াতে বলা হয়েছে-"আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কান মোহর করে দিয়েছেন। তাদের চোখের উপর আবরণ আছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।" মানুষ হিসাবে কাফেরদেরও বিবেক-বুদ্ধি, চোখ ও কান আছে। কিন্তু খারাপ কাজ, অযৌক্তিক বিদ্বেষ, একগুঁয়ে ও হিংসার কারণে এমন পর্দা সৃষ্টি হয় যে তারা সত্য দেখা, শোনা ও উপলদ্ধির শক্তি হারিয়ে ফেলে। এটি হলো দুনিয়াতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি। আর তাছাড়া কেয়ামতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয়, আর তা হলো আল্লাহ যদি নিজেই কাফেরদের চোখ,কান বন্ধ করে দেয় তাহলে খোদাদ্রোহিতার ক্ষেত্রে তাদেরতো কোন দোষ নেই? কারণ তারা বাধ্য হয়েই কাফের হয়েছেন। এ প্রশ্নের উত্তর খোদা কোরআনেই স্পষ্টভাবে দিয়েছে। সূরা মুমিনের ৩৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও অত্যাচারী ব্যক্তির হৃদয় মোহর করে দেন।" সূরা নিসার ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য আল্লাহ তাদের হৃদয় মোহর করে দিয়েছেন। প্রকৃত পক্ষে এসব আয়াতে মানুষ সম্পর্কে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যদি মানুষ সত্যের সামনে ঔদ্ধত্য, গর্ব ও একগুঁয়েমি দেখায় তাহলে শেষ পর্যন্ত তার সত্যকে চেনার শক্তি লোপ পাবে, সত্যকে সে উল্টো দেখতে পাবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন পরিণতির শিকার হবে।
সূরা বাকারার ৭ম আয়াতের দুটি প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় হলো-কেউ জেনে শুনে সত্য প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহপাকও তার অন্তর্চক্ষু ঢেকে দেন এবং এটি আল্লাহর শাস্তি। এছাড়াও জীব-জন্তুর উপর মানুষের মর্যাদার কারণ হলো তার বিবেক-বুদ্ধি, উপলদ্ধি ক্ষমতা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী। কিন্তু মানুষ সত্য প্রত্যাখ্যান এবং আল্লাহ ও তার নিদর্শনাবলী অবিশ্বাসের মাধ্যমে এই মর্যাদা হারিয়ে ফেলে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×