somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র কুরআন - ৯

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। সুরা বাকারার ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- "মুনাফিকরা যখন ঈমানদারদের সংস্পর্শে আসে তখন তারা বলে-আমরাও বিশ্বাস করি। কিন্তু যখন তারা তাদের শয়তান সহযোগীদের সাথে গোপনে মিলিত হয় তখন তারা বলে-আমরাতো তোমাদের সাথে রয়েছি।
আমরা শুধু ঈমানদারদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি। নিফাক বা কপটতার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মুনাফিকের কোন নিজস্ব স্বাধীন ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব নেই। মুনাফিকরা যে পরিবেশে যায় সেই পরিবেশের রং ধারন করে। তারা যখন মুমিনদের মাঝে যায়, তখন মুমিনের ভাব দেখায়। আবার যখন ইসলামের নেতা ও মুমিনদের দুশমনদের সাথে মিলিত হয়, তাদের সাথে কণ্ঠে কণ্ঠ মেলায়, মুমিনদের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং তাদের সুনজরে পড়ার জন্য মুমিনদেরকে নিয়ে উপহাস ও ঠাট্টা-তামাশা করে। এই আয়াতও আমাদেরকে সতর্ক করে দেয় যাতে লোকজনের বাহ্যিক আচরণে আমরা ধোকা না খাই। ঈমানের দাবী করলেই তাকে মুমিন ভাবা ঠিক নয় এবং দেখতে হবে ঈমানের দাবীদার ব্যক্তি কাদের সাথে ওঠা বসা করে এবং তার বন্ধুই বা কারা। কেউ মুমিন হবে আবার ইসলামের নেতাদের শত্রু ও ধর্মের দুশমনদের বন্ধু হবে-এটা মেনে নেয়া যায় না।
ঈমান, ইসলামের শত্রুদের সাথে আপোষ এবং বন্ধুত্বের পরিপন্থী। ঈমানের আবশ্যিক দিক হলো আল্লাহর দুশমনদের সাথে শত্রুতা। সূরা বাকারার ১৪ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
প্রথমতঃ শয়তান শুধু জ্বীন জাতির শয়তান নয় বরং যেসব মানুষ অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে তারাও শয়তান এবং তাদেরকে পরিহার করতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ সত্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও শলা-পরামর্শের অর্থ হলো মত প্রকাশে সাহসিকতার অভাব। মুনাফিকরা যারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তারা ভীতু ও দুর্বল চিত্তের অধিকারী।
তৃতীয়ত: মুনাফিকরা হলো সমাজে দুশমনদের হাতিয়ার এবং তাদেরই ইচ্ছা অনুযায়ী চলে। তাদেরকে বলে "ইন্না মাআকুম"- আমরা তোমাদের সাথে আছি, মুমিনদের সাথে নয়।
এবারে সূরা বাকারার ১৫ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "আল্লাহও তাদেরকে উপহাস করেন এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রানে-র মত ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন। রাসূলে খোদার আহলে বাইতের সদস্য ইমাম মূসা রেজা(আ:) বলেন-"আল্লহপাক ধোকাদানকারী বা উপহাসকারী নন। কিন্তু দুশমনদের ধোকা ও উপহাসের শাস্তি তিনি দেন।" মুনাফিকরা যে বিভ্রান্তি ও হৃদয়ের অন্ধত্বের শিকার হয় তার চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে? আল্লাহর নিয়ম হলো তিনি অত্যাচারী পাপীদের সময় দেন। এ সময়টিকে যদি মানুষ তওবা ও অনুশোচনার জন্য ব্যবহার করে তাহলে তা হবে তার জন্য রহমত। তা না হলে তারা আরো পাপের মধ্যে ডুবে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে। মুনাফিকদের জন্য আল্লাহর শাস্তি হলো তাদেরকে নিজেদের অবস্থায় ছেড়ে দেয়া। এর ফলে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাদের নেই কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং নেই কোন শান্তি। সূরা বাকারার ১৫ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
প্রথমতঃমানুষের গুনাহ্‌ যেরকম, আল্লাহর শাস্তিও সেরকম। তাই উপহাসের শাস্তিও উপহাস।
দ্বিতীয়তঃআমাদেরকে যে সময় দেয়া হয়েছে তাতে অহঙ্কারী হওয়া উচিত নয়। হয়তো এটিও আল্লাহর এক ধরনের রহমত।
তৃতীয়তঃআল্লাহপাক মুমিনদের সাহায্যকারী। মুনাফিকরা যদি মুমিনদের উপহাস করে তাহলে আল্লাহও তাদেরকে উপহাস করবেন এবং শাস্তি দেবেন।
এবারে সুরা বাকারার ১৬ নম্বর আয়াত। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "এরাই সৎ পথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ কিনে নিয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সৎ পথও পায়নি।" আমরা যে দুনিয়ায় বাস করছি, তা একটি বাজারের মত। আমাদের সবাইকে ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেদের সম্পদ বিক্রি করতে হয়। যৌবন, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা জ্ঞান, শক্তি, জীবন এবং আল্লাহর দেয়া সব যোগ্যতাকে সম্পদ হিসাবে বিক্রি করতে হয়। এ বাজারে একদল মুনাফা অর্জন করে, অন্যদল দেউলিয়া হয়ে পড়ে। যারা দেউলিয়া হয়ে পড়ে, তারা লাভতো দূরের কথা এমনকি মূলধন পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। এ যেন অনেকটা বরফ বিক্রেতার মত। বরফ বিক্রেতা যদি তার জিনিস বিক্রি না করে তা হলে মুনাফাতো নয়ই বরং তার মূলধন পানি হয়ে যাবে এবং সে তার সর্বস্ব হারাবে।
আল্লাহপাক কোরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভালো ও মন্দ কাজকে ব্যবসার সাথে তুলনা করেছেন। যেমন সূরা সাফের ১০ ও ১১ নম্বর আয়াতে ঈমান ও জেহাদকে লাভজনক ব্যবসা আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে- "হে ঈমানদারগণ! আমি কি এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? আর তা হলো-তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম কর।"
এ আয়াতে মুনাফিকদেরকে এমন বিক্রেতা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে যারা হেদায়েত বিক্রি করে ভ্রান্তি কিনে নিয়েছে। সম্ভবতঃ এ আয়াত থেকে বোঝানো হচ্ছে যে- আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা ও প্রকৃতিগত প্রবণতার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। কিন্তু মুনাফিকরা কপটতা ও পাপ কাজে অভ্যস- হয়ে আল্লাহর দেয়া ক্ষমতা হাত ছাড়া করে। কারণ মুনাফিকরাতো হেদায়াতেরই অধিকারী নয় যে তারা তা হাত ছাড়া করবে এবং এর বিনিময়ে ভ্রান্তি কিনে নেবে। এই ব্যবসায় তারা কোন মুনাফা অর্জন করেনি এবং অশুভ লক্ষ্যেও পৌঁছতে পারেনি বরং ইসলাম আরো সুদৃঢ় হয়েছে এবং তারা অপদস- হয়েছে। সূরা বাকারার ১৬ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
প্রথমতঃকেবল বস্তুগত লাভ-লোকসানের কথা ভাবা ঠিক নয় বরং দেখতে হবে আমাদের মন-প্রাণ ও আত্মাকে কোথায় বিক্রি করছি এবং এর বিনিময়ে কী অর্জন করছি? এই বেচা-কেনা থেকে সৌভাগ্যবান হচ্ছি নাকি বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছি?
দ্বিতীয়তঃহেদায়াত এবং বিভ্রান্তি আমাদের নিজেদেরই কর্মফল। আল্লাহর পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া কিছু নয় কিংবা তাঁর ইচ্ছা, মর্জি বা তকদির নয় বরং তাতে আমাদের কর্মের প্রভাব রয়েছে।
তৃতীয়তঃনিফাক বা ভণ্ডামীর শেষ পরিণতি হলো বিভ্রান্তি ও ধ্বংস। অপর পক্ষে ঈমান বা বিশ্বাস মানুষকে কল্যাণ ও সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×