সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
প্রথমতঃ মুনাফিকের আলো আগুনের আলোর মত অস্থায়ী এবং দুর্বল।
দ্বিতীয়তঃ মুনাফিকের অস্তিত্ব হলো অশান্তি ও আগুনের উৎস।
তৃতীয়তঃ মুনাফিকরা সত্যিকার আলো বা হকে পৌঁছবার জন্য আগুন ব্যবহার করে। কিন্তু এর ফলে জ্বালা-পোড়া, ছাই আর ধোঁয়া ছাড়া অন্য কিছু পায় না।
চতুর্থতঃশেষ পর্যন্ত আল্লাহপাক মুনাফিককে পর্যুদস্ত করেন এবং তাদের বাহ্যিক জ্যোতিও ছিনিয়ে নেন।
পঞ্চমতঃ মুনাফিকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার এবং তাদের মুক্তির কোন আশা নেই।
ষষ্ঠতঃআল্লাহর সামনে তাদের কপটতা ও দ্বিমুখী আচরণ তাদের বুদ্ধিমত্তার বহি:প্রকাশ নয় বরং তাদের এ আচরণ তাদের জন্য বয়ে আনে অন্ধকার ও ধ্বংস।
এবারে সুরা বাকারার ১৮ নম্বর আয়াত। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "তারা মূক, বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা প্রত্যাবর্তন করবে না।"
অন্যান্য মানুষের মত মুনাফিকদেরও চোখ, কান ও মুখ আছে। কিন্তু তাদের চোখ যেহেতু সত্য দেখতে ও উপলদ্ধি করতে প্রস'ত নয়, তাদের কান যেহেতু সত্য কথা শুনতে রাজী নয় এবং তাদের জীভ যেহেতু সত্য কথা বলা থেকে বিরত থাকে তাই কোরআন তাদেরকে এমন ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করেছে যারা কথা বলতে পারে না, চোখে দেখে না এবং কানে শোনে না। বিদ্বেষ ও অন্ধ অনুসরণের পরিণতি হলো সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা হাতছাড়া করা। মুনাফিকের অভ্যন্তরীণ কুফরী ও অবিশ্বাস তার চোখ, কান ও বাক শক্তিকে এমন ভাবে ঢেকে দেয় এবং সত্যকে আচ্ছাদিত করে যে, সে কাফেরের মতই সত্যকে উল্টো দেখতে পায়। সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এর আগের আয়াতে বলা হয়েছে যে ঈমানের আলো সরে যাওয়ার পর অবিশ্বাসের অন্ধকার মুনাফিকদের সমস্ত অস্তিত্ব এমন ভাবে ঢেকে ফেলে যে তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। আর এ আয়াতে বলা হচ্ছে যে তারা শুধু দৃষ্টিশক্তিই নয় একই সাথে শ্রবন ও সত্য কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। অন্ধকারের মধ্যে তাদের পথ চলার পরিণতি ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয় এবং এ থেকে ফিরে আসার কোন পথ নেই।
এবারে সূরা বাকারার ১৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "কিংবা তাদের মত যারা আকাশ থেকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টির সময় ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনিও বিদ্যুৎ চমকের মধ্যে আক্রান্ত। তারা বজ্রের শব্দে মৃত্যুভয়ে কানে আঙ্গুল দেয়। কিন্তু আল্লাহ কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন। সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে এমন দিগভ্রান্তদের সাথে তুলনা করেছেন যারা তাদের পথের আলো হারিয়ে ফেলেছে এবং নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মত পথ হাতড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের সঠিক পথ পাওয়ার কোন আশা নেই, আশা নেই প্রত্যাবর্তনের।
কিন্তু এই ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে যে, মুনাফিকরা কাদার মধ্যে আটকে আছে, আর মুষলধারে বৃষ্টি, অন্ধকার, রক্তহিম করা বজ্রপাতের শব্দ চোখ ধাঁধানো বিদ্যুৎ চমকানী এবং ভয়ঙ্কর মৃত্যুভয় তাদেরকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু বৃষ্টি থেকে নিজেদেরকে রক্ষার কোন আশ্রয়স্থল তাদের নেই এবং অন্ধকার, বিদ্যুৎ ঝলক, বজ্রপাতের শব্দ থেকেও তাদের নিস্তার নেই।
সূরা বাকারার ১৯ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-
প্রথমতঃমুনাফিকরা সমস্যায় জর্জরিত এবং সন্ত্রস্ত। এ দুনিয়াতে ভয় ও শঙ্কায় সব সময় তারা আক্রান্ত।
দ্বিতীয়তঃ মৃত্যুভয়ে মুনাফিকরা সব সময় শঙ্কিত। এই ভয় ও আশঙ্কার কারণে তাদের আত্মায় শান্তি নেই।
তৃতীয়তঃআল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে ঘিরে রেখেছেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেন।
চতুর্থতঃ নিফাক বা কপটতার ফলে শেষ পর্যন্ত কুফুরী বা অবিশ্বাসের জন্ম হয়।
পঞ্চমতঃআকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টি থেকে মুনাফিকদের ভাগ্যে কেবল বজ্রপাতই জোটে। কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহর রহমত। কিন্তু মুনাফিকের জন্য এই কোরআন হলো বিপদ ঘন্টা এবং অপমানের উৎস। #

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

