somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র কুরআন-১০

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৭, ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতের সহজ ব্যাখ্যা তুলে ধরব। সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- "এ মুনাফিকদের দৃষ্টান্ত তাদের মত-যেমন কেউ আগুন জ্বালালো, ঐ আগুন যখন তাদের চারদিক আলোকিত করল তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি সরিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে এমন ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ফেললেন যাতে তারা কিছুই দেখতে না পায়।" এর আগের আয়াতগুলোয় মুনাফিকদের কথা ও আচরণের কিছু দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হয়েছিল। এ আয়াতে তাদেরকে অন্ধকার প্রান্তে অগ্নী প্রজ্জ্বলনকারী ব্যক্তির সাথে তুলনা করে বলা হয়েছে-মুনাফিকদের ঈমানের আলো আগুনের আলোর মত দুর্বল, অস্থায়ী এবং এতে রয়েছে ধোঁয়া, ছাই ও অন্তর্জ্বালা। মুনাফিকরা ঈমানের আলোর বহি:প্রকাশ ঘটায়। কিন্তু তাদের ভেতর রয়েছে কুফরী বা খোদাদ্রোহিতার আগুন। এই দুর্বল আলো মানব প্রকৃতিতে দেয়া আল্লাহর সেই পবিত্র নূরেরই অংশ। কিন্তু হিংসা-বিদ্বেষ ও একগুঁয়েমির কারণে ঐ নূর ক্রমেই নিষপ্রভ হয়ে আসে। এ ভাবে ধীরে ধীরে একসময় অজ্ঞতা ও অন্ধকারের পর্দায় তা আচ্ছাদিত হয়ে যায় এবং মুনাফিকদের সমস্ত অস্তিত্ব ছেয়ে পড়ে কুফুরী বা খোদাদ্রোহিতার নিকষ কালো অন্ধকারে। মুনাফিকরা কপটতার পথ বেছে নিয়ে মনে করে নরকবাসী কাফেরদের খুশী রাখতে পারবে এবং একই সাথে বেহেশতবাসী মুমিনদেরও সন'ষ্ট করতে পারবে। কাফেরদের দুনিয়া থেকেও লাভবান হবে এবং মুমিনদের পরকাল থেকেও বঞ্চিত হবে না। তাই কোরআন মুনাফিকদেরকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করেছে যে আগুন জ্বালিয়ে আগুন ও আলো অর্থাৎ সত্য ও মিথ্যার সমন্বয় ঘটায় যাতে এ দুটো থেকেই লাভবান হতে পারে। কিন্তু জীবন হলো অন্ধকার প্রান্তরের মত। এ দুর্গম প্রান্তর অতিক্রম করে নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য উজ্জ্বল ও স্থায়ী আলোর প্রয়োজন। কারণ ঝড়-ঝঞ্ঝা যে কোন দুর্বল আলোর শিখা নিভিয়ে দেয় এবং মানুষকে নিমজ্জিত করে গভীর অন্ধকারে।
সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
প্রথমতঃ মুনাফিকের আলো আগুনের আলোর মত অস্থায়ী এবং দুর্বল।
দ্বিতীয়তঃ মুনাফিকের অস্তিত্ব হলো অশান্তি ও আগুনের উৎস।
তৃতীয়তঃ মুনাফিকরা সত্যিকার আলো বা হকে পৌঁছবার জন্য আগুন ব্যবহার করে। কিন্তু এর ফলে জ্বালা-পোড়া, ছাই আর ধোঁয়া ছাড়া অন্য কিছু পায় না।
চতুর্থতঃশেষ পর্যন্ত আল্লাহপাক মুনাফিককে পর্যুদস্ত করেন এবং তাদের বাহ্যিক জ্যোতিও ছিনিয়ে নেন।
পঞ্চমতঃ মুনাফিকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার এবং তাদের মুক্তির কোন আশা নেই।
ষষ্ঠতঃআল্লাহর সামনে তাদের কপটতা ও দ্বিমুখী আচরণ তাদের বুদ্ধিমত্তার বহি:প্রকাশ নয় বরং তাদের এ আচরণ তাদের জন্য বয়ে আনে অন্ধকার ও ধ্বংস।
এবারে সুরা বাকারার ১৮ নম্বর আয়াত। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "তারা মূক, বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা প্রত্যাবর্তন করবে না।"
অন্যান্য মানুষের মত মুনাফিকদেরও চোখ, কান ও মুখ আছে। কিন্তু তাদের চোখ যেহেতু সত্য দেখতে ও উপলদ্ধি করতে প্রস'ত নয়, তাদের কান যেহেতু সত্য কথা শুনতে রাজী নয় এবং তাদের জীভ যেহেতু সত্য কথা বলা থেকে বিরত থাকে তাই কোরআন তাদেরকে এমন ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করেছে যারা কথা বলতে পারে না, চোখে দেখে না এবং কানে শোনে না। বিদ্বেষ ও অন্ধ অনুসরণের পরিণতি হলো সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা হাতছাড়া করা। মুনাফিকের অভ্যন্তরীণ কুফরী ও অবিশ্বাস তার চোখ, কান ও বাক শক্তিকে এমন ভাবে ঢেকে দেয় এবং সত্যকে আচ্ছাদিত করে যে, সে কাফেরের মতই সত্যকে উল্টো দেখতে পায়। সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এর আগের আয়াতে বলা হয়েছে যে ঈমানের আলো সরে যাওয়ার পর অবিশ্বাসের অন্ধকার মুনাফিকদের সমস্ত অস্তিত্ব এমন ভাবে ঢেকে ফেলে যে তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। আর এ আয়াতে বলা হচ্ছে যে তারা শুধু দৃষ্টিশক্তিই নয় একই সাথে শ্রবন ও সত্য কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। অন্ধকারের মধ্যে তাদের পথ চলার পরিণতি ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয় এবং এ থেকে ফিরে আসার কোন পথ নেই।
এবারে সূরা বাকারার ১৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে- "কিংবা তাদের মত যারা আকাশ থেকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টির সময় ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনিও বিদ্যুৎ চমকের মধ্যে আক্রান্ত। তারা বজ্রের শব্দে মৃত্যুভয়ে কানে আঙ্গুল দেয়। কিন্তু আল্লাহ কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন। সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে এমন দিগভ্রান্তদের সাথে তুলনা করেছেন যারা তাদের পথের আলো হারিয়ে ফেলেছে এবং নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে উদ্‌ভ্রান্তের মত পথ হাতড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের সঠিক পথ পাওয়ার কোন আশা নেই, আশা নেই প্রত্যাবর্তনের।
কিন্তু এই ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে যে, মুনাফিকরা কাদার মধ্যে আটকে আছে, আর মুষলধারে বৃষ্টি, অন্ধকার, রক্তহিম করা বজ্রপাতের শব্দ চোখ ধাঁধানো বিদ্যুৎ চমকানী এবং ভয়ঙ্কর মৃত্যুভয় তাদেরকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু বৃষ্টি থেকে নিজেদেরকে রক্ষার কোন আশ্রয়স্থল তাদের নেই এবং অন্ধকার, বিদ্যুৎ ঝলক, বজ্রপাতের শব্দ থেকেও তাদের নিস্তার নেই।
সূরা বাকারার ১৯ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-
প্রথমতঃমুনাফিকরা সমস্যায় জর্জরিত এবং সন্ত্রস্ত। এ দুনিয়াতে ভয় ও শঙ্কায় সব সময় তারা আক্রান্ত।
দ্বিতীয়তঃ মৃত্যুভয়ে মুনাফিকরা সব সময় শঙ্কিত। এই ভয় ও আশঙ্কার কারণে তাদের আত্মায় শান্তি নেই।
তৃতীয়তঃআল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে ঘিরে রেখেছেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেন।
চতুর্থতঃ নিফাক বা কপটতার ফলে শেষ পর্যন্ত কুফুরী বা অবিশ্বাসের জন্ম হয়।
পঞ্চমতঃআকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টি থেকে মুনাফিকদের ভাগ্যে কেবল বজ্রপাতই জোটে। কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহর রহমত। কিন্তু মুনাফিকের জন্য এই কোরআন হলো বিপদ ঘন্টা এবং অপমানের উৎস। #



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×