পবিত্র কুরআন -১২
আল্লাহর সব নবীরই মুজিযা ছিল। কিন্তু মহানবী (সাঃ)এর মুজিযা অর্থাৎ কোরআনের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য এখানে তুলে ধরছি। প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ মুজিযা হলো সবাক। অর্থাৎ অন্যান্য নবীদের মুজিযার নিজস্ব কোন ভাষা ছিল না এবং মুজিযার অধিকারী পয়গম্বরদেরকে এর সাথে থেকে বলতে হয় যে এটি আমার মুজিযা। কিন্তু কোরআনকে কারো পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে না। বরং কোরআন নিজেই অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় এবং তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। কোরআন নিজেই আইন এবং নিজেই আইনের ভিত্তি। কোরআনের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এটি চিরন্তন। অন্যান্য নবীদের মুজিযা একটি বিশেষ সময়ে সংঘটিত হয়েছে এবং শুধু ঐ যুগের মানুষই তা দেখেছে ও শুনেছে। কিন্তু কোরআন শুধু রাসূলে খোদা (সাঃ)এর যুগের জন্য মুজিযা নয় বরং সর্ব যুগের জন্য এটি মুজিযা। কালের পরিক্রমায় এ ঐশী গ্রন্থ নির্জীব তো হবেই না বরং দিন দিন এর বিষয়বস্তু আরো স্পষ্ট ও বিকশিত হবে। রাসূলে খোদার মুজিযা পবিত্র কোরআনের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশ্বজনীনতা। কোরআন যেমন কোন কালের গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ নয় তেমনি কোন বিশেষ ভূখণ্ড বা স্থানের জন্য নির্ধারিত নয়। কোরআন যাদেরকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছে, তারা শুধু আরবভাষী হিজাবের অধিবাসী নয় বরং পৃথিবীর সকল জাতি, বর্ণ, গোত্র সবাইকে উদ্দেশ্য করে কোরআন কথা বলেছে। তাই এ আসমানী কিতাবের একটি জায়গাতেও "হে আরব জাতি" কথাটি আসেনি। বরং পৃথিবীর সব মানুষকে উদ্দেশ্য করে কোরআন বলেছে "হে মানব জাতি"। মুজিযা হিসাবে কোরআন মজিদের ৪র্থ বৈশিষ্ট্য হলো এর আধ্যাত্মিকতা। অন্যান্য নবীদের মুজিযা ছিল দৈহিক ও বস্তুগত। সেসব অলৌকিক ঘটনা মানুষের চোখ কানকে বিস্মিত করত। কিন্তু কোরআন সাধারণ বর্ণমালা দিয়ে রচিত হলেও মানুষের অন্তরের মধ্যে এত গভীর প্রভাব ফেলে যে খুব সহজেই তা মানুষের জ্ঞানকে বিস্ময়ে অভিভূত করে এবং তার মন ও আত্মাকে বিমোহিত করে ফেলে। সূরা বাকারার ২৩ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় এবার একে একে তুলে ধরছি।
প্রথমতঃপয়গম্বরগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহর পূর্ণ অনুগত এবং একমাত্র তাঁরই দাসত্ব করেন। তাই কোরআনের বহু জায়গায় নবীদেরকে "আমার বান্দা বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমনটি এ আয়াতে বলা হয়েছে "কোরআনকে আমি আমার বান্দার উপর নাযিল করেছি।"
দ্বিতীয়তঃকোরআন হলো যুক্তির গ্রন্থ। এ গ্রন্থ কোন সন্দেহ বা সংশয়ের আবকাশ রাখে না। তাই বলা হয়েছে "যদি তোমরা সন্দেহ কর তাহলে" অর্থাৎ কোরআনের মত অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো।
তৃতীয়তঃ কোরআন হলো আল্লাহর চিরন্তন ও সার্বজনীন মুজিযা। এটি প্রত্যেক যুগেই মানুষের প্রতি তার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
চতুর্থতঃ ইসলাম চিরন্তন ও বিশ্বজনীন ধর্ম। কারণ ইসলামের মুজিযা কোরআন এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
পঞ্চমতঃ আমাদের ধর্মের মূল নীতির ব্যাপারে আমাদের মধ্যে যাতে কোন সন্দেহ বা সংশয় না থাকে। সংশয়ের উদ্রেক হলে কাল বিলম্ব না করে তা দূর করা উচিৎ। যাতে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নড়বড়ে না হয়ে যায়।
ষষ্ঠতঃ সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক হলো বিবেক। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে তোমাদের সমমনা লোকেরাও যদি সাক্ষী দেয় যে তোমাদের আনা বিষয়টি কোরআনের মত তাহলেও আমি তা মেনে নেব। অর্থাৎ আল্লাহ স্বয়ং মানুষকেই বিচারক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
সপ্তমতঃকোরআনের সত্যতা এত অকাট্য যে বিরুদ্ধবাদীরা কোরআনের মত একটি সূরাও যদি আনতে পারে তাহলে আমরা সেটিকে সমগ্র কোরআনের স্থলে গ্রহণ করে নেব।
এবারে সূরা বাকারার ২৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে-"যদি তোমরা না আনো যা কিনা কখনই পারবেনা, তাহলে সেই আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর। সেই আগুন প্রস্তুত রয়েছে কাফেরদের জন্য।" এর আগের আয়াতে কোরআন বিরুদ্ধবাদীদেরকে একটি সূরা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আর এ আয়াতে বলছে এ কাজ কখনোই সম্ভব নয়। যারা রাসূলের কথা ও বাচনভঙ্গীর সাথে পরিচিত এবং তার যুগে বসবাস করেছে তারা যেমন কোরআনের মত একটি সূরা তৈরী করতে পারবেনা, তেমনি ভবিষ্যতেও এ কাজ অসম্ভব। এরপর কোরআন অবিশ্বাসীদেরকে দোজখের আগুনের ব্যাপারে হুশিয়ারী করে দিয়ে বলে জাহান্নামের আগুনের উপকরণ হিসাবে অপরাধীদের দেহ পাথরের পাশাপাশি জ্বলবে। এ আয়াতে ‘পাথর' বলতে পীট কয়লা বোঝানো হচ্ছে যা দোজখের আগুন সৃষ্টি করে, কিংবা পাথরের মূর্তি বোঝানো হচ্ছে । যেসব মূর্তিকে রাসূলে খোদার দুশমনরা উপাসনা করতো, আল্লাহ তাদের অপরাধের প্রমাণ হিসাবে পাথরের ঐ মূর্তিগুলোকে কেয়ামতের সময় হাজির করবেন। যাতে মূর্তি পূজকেরা তাদের কৃতকর্মের কথা অস্বীকার করতে না পারে। সূরা বাকারার ২৪ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-
প্রথমতঃনিজেদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বিরুদ্ধবাদীদের সাথে দৃঢ়তার সাথে কথা বলতে হবে এবং ইসলামের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। এ আয়াতে বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে-‘তোমরা কোরআনের মত কোন সূরা আনতে পারোনি এবং কখনও তা পারবেও না।
দ্বিতীয়তঃমানুষ অবিশ্বাসের ফলে পাথর ও জড় পদার্থের কাতারে গিয়ে ঠাঁই করে নেয়। এ আয়াতে বলা হয়েছে-‘দোযখের আগুনের জ্বালানী হলো মানুষ ও পাথর।
তৃতীয়তঃযে অন্তর পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে এবং কোরআনের বাণী গ্রহণ করে না, কেয়ামতের দিন সেই অন্তরের পুনরুত্থান হবে পাথরের সাথে।
চতুর্থতঃ কোরআন কেবল রাসূলের যুগের জন্যেই মুজিযা নয় এবং এ আসমানী গ্রন্থ সব যুগের জন্য মুজিযা। তাই বলা হয়েছে-"ভবিষ্যতেও কোরআনের মত কিছু রচনা করতে পারবে না।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।