এক প্লেট ভাতের অভিযোগে মৃত্যু এ কোন সমাজ?
--------------------------------------------------------
খুলনায় ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অভিযোগে ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
আজমুল ছিলেন একজন তরুণ শিক্ষার্থী। চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো।
অভিযোগ সত্য হলেও প্রশ্ন থেকেই যায় বিচার করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
ভুল করলে বিচার হবে আদালতে, কোনো ছাত্রাবাসের মেসে নয়। অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে, প্রমাণ সংগ্রহ হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষকে ধরে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা কোনো বিচার নয়; এটি আইনের শাসনের ভয়াবহ লঙ্ঘন।
আজমুলের বাবা একজন কৃষক। তাঁর অভিযোগ, রাতের বেলায় ছেলের ফোন থেকে টাকা দাবি করা হয়েছিল। সকালে খুলনায় এসে তিনি পেলেন সন্তানের লাশ।
একজন দরিদ্র বাবার এই কান্নার জবাব কে দেবে?
আজ ‘ভাত চুরি’, কাল কোনো গুজব এভাবে যদি মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
গণপিটুনি বিচার নয়।
অভিযোগ হত্যার লাইসেন্স নয়।
মানুষের জীবনের মূল্য একটি প্লেট ভাতের চেয়ে অসীম।
আজমুলের মৃত্যু আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করছে।
আমরা কি সত্যিই এমন একটি সমাজ চাই?
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও বাংলাদেশ।
নিউ ইয়র্ক, আমেরিকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



